আর কোন নাটক চাই না : সাগর-রুনির পরিবার

তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। এবারও সেই আগের প্রতিবেদনের মত একই কথা বলা হচ্ছে। এতোদিন শুনেছি সাগর-রুনিকে ওড়না দিয়ে বাঁধা হয়েছে। বিশেষ করে সাগরকে। এখন শুনি সাগরকে চাদর দিয়ে বাঁধা হয়েছে।

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে আর কোনো ধরনের নাটক নয়, প্রকৃত সত্য জানতে চায় তাদের পরিবার। মঙ্গলবার হাইকোর্টে মামলার খোঁজ-খবর নিতে এসে এসব কথা বলেন মেহেরুন রুনির ভাই নওশের রোমান। সোমবার হলফনামা আকারে আদালতে দাখিলের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে সাগর-রুনি হত্যা মামলার অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেয় র‌্যাব।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম বিভাগের সহকারী পরিচালক মেজর রইসুল আজম মনি মানবজমিনকে বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশ সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার শফিকুল আলম অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদনটি দাখিল করেছেন। এদিকে মঙ্গলবার আদালতের রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার র‍্যাবের জমা দেয়া অগ্রগতি প্রতিবেদনের বিষয়ে আদালতকে অবহিত করেন। এর প্রেক্ষিতে আদালত জানান, বিষয়টি বুধবার শুনানির জন্য কার্যতালিকায় রয়েছে।

র‌্যাবের প্রতিবেদনে বলা হয়, আমেরিকায় পাঠানো ডিএনএ নমুনার সঙ্গে অপরিচিত দুই ব্যক্তির ডিএনএ নমুনার মিল পাওয়া গেছে। সাগর-রুনি হত্যার ঘটনায় দুজন অপরিচিত পুরুষ জড়িত ছিলেন।

সাগরের হাতে বাঁধা চাদর এবং রুনির টি-শার্টে ওই দুই পুরুষের ডিএনএ’র প্রমাণ মিলেছে। এতে আরো বলা হয়, এই মামলায় আসামি তানভীর আহমেদের অবস্থান রহস্যজনক। বিচারিক আদালতে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া যুক্তিযুক্ত হয়নি।

এদিকে, সোমবার (২ মার্চ) রাতে নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন নিহত সাংবাদিক রুনির ভাই নওশের রোমান। স্ট্যাটাসে লিখেছেন, পুরো প্রতিবেদনে কি আছে এখনো জানিনা তবে যেটুকু শুনেছি তাতে যা মনে হয়েছে তা হলো, আগে যা যা বলেছে সেগুলোই প্রিন্ট করে দিয়েছে আদালতে। তবে ওই প্রতিবেদন “দুইজন” এসব শুনলে অতীতের হয়রানির তীক্ত অভিজ্ঞতা আর নাটক সাজানোর শঙ্কা থেকে নিজেদের নিয়ে ভয়ে বুক ধরফর করতে থাকে। নিজের ওপর অবিশ্বাস না, তদন্তকারী সংস্থাগুলোর গল্প বানানোর ব্যাপারে তীব্র বিশ্বাস থেকে হয়তো এটা হয়।

স্ট্যাটাসে তিনি আরো উল্লেখ করেন – তবে এবার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে অপরিচিত দুইজন। জানিনা এই অপরিচিতদের কোনদিনও পরিচিত করাতে পারবেন কিনা? তবে মেঘ পুরো বিষয় নিয়ে খুবই ভালো একটা কথা বলেছে। বড় হচ্ছে সব কিছু শুনে বুঝে, তাই শেয়ার করতে হয়। রূপা আপার থেকে কিছুটা শুনে মেঘ বলেছে ‘ওনারা কি এমন করে প্রতিবেদন দিয়েছে ঠিক যেমন আমরা স্ক্রেপবুক বানাই, একটু হাইলাইট করি, গ্লিটার দেই, সুন্দর করে সাজাই। কেন আমি আমার বোনের মহা পরাক্রমশালী-ক্ষমতাবান ভাই বা মেঘের সুপারম্যান মামা হলাম না!! বোনটার জন্য কিছুই করতে পারলাম না …কিছুই না … ফ্রাস্ট্রেটিং।

এর আগে গত ১৪ই নভেম্বর এ মামলার সন্দেহভাজন আসামি তানভীরের জামিনের বিষয়ে রায় ঘোষণা করেন, বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। আদালত তার রায়ে বলেন, সামগ্রিক ঘটনা ও আইনগত অবস্থা বিবেচনায় সাগর-রুনি হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত নিম্ন আদালতে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে সন্দেহভাজন আসামি মো. তানভীর রহমানকে অব্যাহতি দেন।

একইসঙ্গে সামগ্রিক অবস্থা ও পরিস্থিতি বিবেচনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ৪ঠা মার্চ বা তার পূর্বে এ মামলার তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা এবং অপরাধের সঙ্গে বর্তমান আসামি তানভীরের সম্পৃক্ততার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন হলফনামাসহ দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব এ মামলার তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিল করে।

নিহত সাগর সরওয়ারের মা সালেহা মনির র‌্যাবের প্রতিবেদন প্রসঙ্গে বলেন – র‌্যাব প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এটা শুনে সন্তুষ্ট লাগছে। কিন্তু প্রতিবেদনে উল্লেখ করা অজ্ঞাত ব্যক্তিটি কে? এর আগেও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিষয়টি উঠে এসেছে। সেটা এক বা একাধিক হতে পারে। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে, যাদেরকে সনাক্ত করবে তারা কি আদৌ তারাই (খুনি)। না কি সেই জজ মিয়া নাটকের মত পুণরায় নতুন কোনো চরিত্র উপস্থাপন করা হবে। আমি এসকল নয়ছয় কথা শুনতে চাই না। আসল খুনিকে দেখতে চাই। এবং তার বিচার কি হবে সেটা পরের কথা। যদি সত্যিই জজ মিয়া নাটক হয় তাহলে আমরা এ প্রতিবেদন মানবো না। দুই পরিবারের কেউ এটা কখনো মানবো না।

তিনি বলেন – আমি আশাবাদি প্রায় তিন দশক আগে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সামনে সগিরা মোর্শেদ সালাম হত্যায় আসল খুনিরা তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। আমার সাগর রুনির খুনিরাও বেরিয়ে আসবে। আমি বেঁচে থাকতে যেন দেখে যেতে পারি। সেটাই হবে আমার কাছে সবচেয়ে বড় পাওয়া। যেহেতু র‌্যাব প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এজন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। এবারও সেই আগের প্রতিবেদনের মত একই কথা বলা হচ্ছে। এতোদিন শুনেছি সাগর-রুনিকে ওড়না দিয়ে বাধা হয়েছে। বিশেষ করে সাগরকে। এখন শুনি সাগরকে চাদর দিয়ে বাধা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন – এটা শুনে কিছুটা খটকা লেগেছে। এতদিন বলা হয়েছে চিকন ওড়নার কথা এখন নতুন করে চাদরের কথা বলা হয়েছে। কথাতো দুরকম হয়ে গেছে। আমার স্পষ্ট মনে আছে সাগরকে রুমির ওড়না দিয়ে বাধা হয়েছিল। চাদর কোথা থেকে আসলো। যাই হোক আমি আসল ঘটনা জানতে চাই। এবং কি কারণে কিসের জন্য তাদের মারা হয়েছে এসকল তথ্য জানতে চাই। আসল খুনির বিষয়ে জানতে চাই। সব সময় স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করে বলি, মৃত্যুর আগে যেন জেনে যেতে পারি আমার ছেলে এবং তার স্ত্রীকে কেন মারা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরের দিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ মামলায় রুনির বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট আসামি আট জন। আসামিদের প্রত্যেককে একাধিকবার রিমান্ডে নেওয়া হলেও তাদের কেউ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়নি।

এদিকে, আলোচিত এ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাসের আদালতে দাখিলের দিন নির্ধারণ সত্ত্বেও বারবার প্রতিবেদন দাখিলের সময় পেছানো হয়। তবে এরইমধ্যে এ হত্যা মামলা বাতিল চেয়ে সন্দেহভাজন আসামি মো. তানভীর রহমানের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেন। পাশাপাশি ২০১৯ সালের ৬ই নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন।



আরো পড়ুন:


দিনের ব্রেকিং নিউজ সবার আগে পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন:facebook-button-join-group

সরকারি এবং বেসরকারি চাকুরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পেতে

facebook-button-join-group

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত