মেয়েটির জীবনে হঠাৎ একদিন!

শীতের সকাল ভোর ৬ টা বেজে ২৫ মিনিট,

বিছানার পাশের জানালা দিয়ে শীতের মিষ্টি রোদ মেয়েটির গালে এসে পড়েছে। একটা অদ্ভুত হলুদে আভা তৈরি হয়েছে মেয়েটির মুখে। বীথি এই দৃশ্য দেখছে ৮ মিনিট ধরে। এই মেয়েটার সাথে সে সারাদিন থাকে, পড়াশোনা করে, একসাথে ঘুমায়। কিন্তু এত সুন্দর যে তার বান্ধবী সেটা সে আগে ওভাবে খেয়াল করেনি। এত সুন্দর করে যে মেয়েটা ঘুমাচ্ছে তাকে কিছুতেই উঠাতে ইচ্ছে করছেনা, বরং বীথির মনে হচ্ছে ওকে জরিয়ে ধরে ঘুমিয়ে থাকতে। কিন্তু তার উপায় নেই, পরীক্ষার জন্য পড়তে হবে। তাই সে সব সংশয় বাদ দিয়ে ডাক দিল।

এই জান্নাত……
ওঠ, পড়তে হবে।

এক ডাকেই সাড়া দিল জান্নাত। মিটমিট করে চোখ খোলার চেষ্টা করলো। রোদের জন্য সে তাকাতে পারছেনা। এই দৃশ্য দেখে বীথির একটা ক্যামেরার জন্য আফসোস হতে থাকল। একটা মেয়ের চোখ খোলার মিটিমিটি দৃশ্য এত সুন্দর হতে পারে তা সে কল্পনাও করতে পারেনি। এই দৃশ্য দেখার সুযোগ তার অন্য বান্ধবীরা পেলনা বলে তার আফসোস আরও বেড়ে গেল।

জান্নাত খুবই লক্ষ্মী মেয়ে। সে উঠেই হাত মুখ ধুয়ে পড়তে বসে গেল । পরীক্ষা বেশ ভালই হল তার। পরীক্ষা দিয়ে ও চিন্তা করলো নিজে একা একা আজকে ঘুরবে। খুব কাছে থেকে দেখার চেষ্টা করবে মানুষকে। জান্নাত তার ইচ্ছে বাস্তবায়ন করার জন্য বের হয়েছে। তার পরনে সবুজ রঙের একটা জামা। দূর থেকে দেখলে কেউ ভাববে আরব্য রজনীর কোন সবুজ পরী যশোর এ ঘুরে বেরাচ্ছে।

জান্নাতের সবচেয়ে বড় সুবিধে হল ওর বাইরে বের হবার জন্য সাজুগুজু করতে হয়না। ওকে সবসময় পরীর মত লাগে। তবে তার কপালে টিপ পড়েছে আজ! কালো টিপ ওর মায়াবী চেহারার মায়া আরও বহুগুন বাড়িয়ে দিয়েছে।

মেয়েটি একটু দূরে চলে এসেছে শহর থেকে। ঘড়িতে তখন দুপুর ২টা বাজে। সে একটা বনের মত দেখতে পেল। বনের ভেতর থেকে এক ধরনের ধোঁয়া আসছে। নিশ্চয়ই কেউ বন ভ্রমনে এসেছে, তারা মজা করছে। জান্নাত বনের মধ্যে ঢুকে গেল। ঢুকে সেই ধোঁয়া বরাবর হাটা শুরু করলো। সে অনুভব করলো এক অদ্ভুত আকর্ষণ শক্তি আর রোমাঞ্ছতা। পেরহাটতে হাটতে সে এক লুপ এর মধ্যে নিজেকে আবিষ্কার করলো।

সে যেদিকে যাচ্ছে ওদিকেই একই মনে হচ্ছে। হঠাৎ তার এক সুন্দর আম গাছের দিকে চোখ পড়লো। এত সুন্দর আম জান্নাত আগে দেখেনি, সে চাইলেই আম টা পেরে খেতে পারে। শীতের দিনে আম কিভাবে ধরল এটা সে কিছুতেই ভেবে পাচ্ছেনা। একটা ব্যাপারে জান্নাত এখন নিশ্চিত। এখানে কেউ বন ভ্রমনে আসেনি। অদ্ভুত কিছু একটা এই বনের মধ্যে আছে। প্রচণ্ড যুক্তিবাদী জান্নাত অলৌকিক কিছু বিশ্বাস করতে চাইছেনা।

কিন্তু নিজের বর্তমান অবস্থাও সে অস্বীকার করতে পারছেনা। বনের মধ্যে হঠাৎ একটা অদ্ভুত শব্দ শুনতে পেল সে। মাথা তুলে উপরে দেখল কিছু
বানর আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে পাখির মত। তারা জান্নাত কে দেখল, কিন্তু কোন আগ্রহ দেখালনা। একটু পর কিছু টিয়া পাখি জান্নাতের পায়ের কাছে এসে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে খানিকটা বিরক্ত হয়ে পানিতে নেমে গেল। কিছু মাছ বনে গরাগরি করে এ পাশ থেকে ও পাশে চলে গেল।

জান্নাত বুঝে গেল এ বনে সব উল্টা পাল্টা। সে ফিরে আশার কথা ভাবল । কিন্তু ফিরে আসার কোন রাস্তা দেখতে পেলনা। এদিক ওদিক অনেক ঘুরাঘুরি করে ক্লান্ত হয়ে একটা গাছের নিচে জান্নাত বসলো। ভাবছে কিভাবে সে ফিরে যাবে। হঠাৎ গাছ কথা বলে উঠল। এই বনে কেন এসেছো , এটা অভিশপ্ত বন। ভাল চাও তো ফিরে যাও। জান্নাত গাছের কাছে ফিরে যাবার উপায় জানতে চাইলো।

গাছ তাকে বললো – এ বন থেকে ফিরে যাবার উপায় তার জানা নেই। জান্নাত তখন ভাবতে লাগলো । ভাবতে ভাবতে সে খেয়াল করলো একটা কুঁড়েঘর। কুঁড়েঘর এর কাছে গিয়ে সে দেখল এক ভয়ঙ্কর কুকুর ভিতরে বসে আছে। জান্নাত বুঝতে পারল এই অভিশপ্ত কুকুর এ তার জাদুর সাহায্যে বন টাকে এরকম বানিয়ে রেখেছে। জান্নাত খেয়াল করেনি পিছন থেকে আরেকটা কুকুর এসে তাকে দেখে ফেলেছে।

কুকুর ২টি মিলে জান্নাতকে কুঁড়ে ঘরে বন্দি করে বেধে রাখল। জান্নাত বুঝতে পারল তাকে খেয়ে ফেলবে কুকুর ২টা। নিজেকে বাঁচাতে হলে ওকে কিছু করতে হবে। সে কুকুর ২টা কে বললো তোমরা যদি আমাকে ছেড়ে দাও তাহলে আমি তোমাদের এ বনে যত প্রাণী আছে। সব প্রানিকে ৪ গুন বৃদ্ধি করে দেব। তখন তোমাদের খাবার এর অভাব হবেনা । কুকুর ২ টি রাজি হল। তবে শর্ত দিল যদি জান্নাত এটা করতে না পারে তাহলে ওকে কাঁচা খেয়ে ফেলবে।

জান্নাত শর্ত দিল বনের মধ্যে বিশাল এক ফাঁকা জায়গা করতে হবে। আর সমস্ত প্রাণিকে ওই ফাঁকা জায়গায় এসে দাঁড়াতে হবে।আর এই কাজে সে একটা মন্ত্র পরবে তার জন্য তাকে ১ ঘণ্টা সময় দিতে হবে। এই ১ ঘণ্টা সবাইকে ওই ফাঁকা জায়গায় অপেক্ষা করতে হবে। বনের মধ্যে সকল প্রাণী দাড়িয়ে আছে। জান্নাত কুঁড়েঘরে তার পরিকল্পনা ঠিক করছে।

সে নিজের ব্যাগ খুললো। খুলেই সে তার আয়না বের করলো। আয়নার সাথে একটা চিকন দড়ি বেঁধে সে নদীতে ফেলে দিল। দড়ির আরেক প্রান্ত
সে নিজে ধরে রাখল। নদীর পাড় অনেক উঁচু ছিল এবং জান্নাত এমন ভাবে আয়নাটা ভাসিয়ে রেখেছে যাতে নদীর পাড় থেকে আয়নার দিকে তাকালে তার মুখ টা দেখা যায়।

সে তার হাতে থাকা চিকন দড়ির অংশ একটা গাছের সাথে বেঁধে ফেললো। এরপর সে কুকুর ২টির কাছে গেল। সে তাদেরকে জানাল তার পক্ষে এই বনের প্রাণী ৪ গুন করা সম্ভব না। কুকুর ২টি চাইলে তাকে মেরে ফেলতে পারে। কুকুর ২টি খুবই অবাক হল এবং কেনও সম্ভব নয় তা জানতে
চাইল। তখন জান্নাত উত্তর দিল সে মন্ত্র পড়ার সময় লক্ষ করেছে এই বনের নদীতে দুইটি অভিশপ্ত কুকুর বেড়ে উঠছে এবং সে খুব অল্প দিনের মধ্যে তাদের মেরে ফেলে এই বনের দখল নিজের করে নিবে। এই কথা শুনে কুকুর ২টি রাগে অন্ধ হয়ে গেল।

তারা জান্নাতকে বললো – কোথায় সে, আগে তাকে হত্যা করবে, তারপর বাকি হিসাব। জান্নাত কুকুর ২টিকে নদীর পাড়ে নিয়ে গেল। নদীর পাড় থেক কুকুর ২টি আয়নার দিকে তাকিয়ে ২টি কুকুরের মুখ দেখতে পেল। দেখে তারা রেগে হিংস্র হয়ে গেল, আয়নাতে নিজেদের হিংস্রতা নিজেরাই তারা দেখতে পেল। কুকুর ২টির রাগে মাথা আরও খারাপ হয়ে গেল। তারা ২ জন একসাথে নদীতে আয়না বরাবর লক্ষ করে ঝাঁপ দিল এবং নদীতে ডুবে মারা গেল।

কুকুর ২টি মারা যাবার সাথে সাথেই বনের মধ্যে এক অদ্ভুত পরিবর্তন শুরু হল । কিছুক্ষন পর দেখা গেল সব স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। মাছ পানিতে, বানর গাছে, টিয়া পাখি আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে। জান্নাত এর মন আনন্দে পরিপূর্ণ হয়ে উঠল।

সে ফিরে আসার সময় সেই গাছের কাছে গেল, গিয়ে গাছকে বললো – তোমাকে ধন্যবাদ, তুমিই প্রথম আমাকে সতর্ক করেছিলে, কিন্তু জান্নাত কোন উত্তর পেলো না গাছ থেকে। কিছুক্ষন পর জান্নাত বুঝতে পারল, এই গাছ আর কখনই কথা বলতে পারবেনা, কারন অভিশপ্ত বন এখন আর নেই। এখন সব কিছুই প্রকৃতির নিজস্ব নিয়মে চলবে।

#জুবায়ের হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি।



আরো পড়ুন:


দিনের ব্রেকিং নিউজ সবার আগে পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন:facebook-button-join-group

সরকারি এবং বেসরকারি চাকুরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পেতে

facebook-button-join-group

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত