বেনারসি পল্লীর শাড়ির আড়ালে চলছে বিশাল ‘পুকুরচুরি’

বেনারসি কুঠির নামের একটি প্রতিষ্ঠান গত বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত পাঁচ মাসে শাড়ি বিক্রি করেছে ৯ কোটি ৯ লাখ টাকা। গড় হিসাবে প্রতি মাসে বিক্রি কোটি টাকার বেশি। আইনানুযায়ী ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রযোজ্য। কিন্তু বেনারসি কুঠিরের ভ্যাট দেওয়ার কথা ৪৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। অথচ প্রতিষ্ঠানটি এই সময়ে ‘থোক’ হিসেবে ভ্যাট দিয়েছে মাত্র ৯১ হাজার টাকা।

বাংলাদেশের সবথেকে ঐতিহ্যবাহী শাড়ির বাজার হচ্ছে মিরপুর বেনারসিপল্লী। বিয়ের মত বড় বড় উৎসবে শাড়ি কেনার জন্য প্রথম পছন্দ হচ্ছে বেনারসিপল্লী। যুগ যুগ ধরে নামি-দামি বেনারসি শাড়ি বিক্রি করে আসছে এই পল্লীটি। কিন্তু এসবের আড়ালে চলছে ভ্যাট ফাঁকির মহোৎসব।

ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেটের আকস্মিক অভিযানে জানা যায়, শাড়ির ব্যবসার আড়ালে সেখানের ১৩৭টি প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিবন্ধন ও ট্রেড লাইসেন্সই নেই। বছরে কোটি টাকার ভ্যাটের বদলে কয়েক হাজার টাকা দিয়ে বছরের পর বছর ব্যবসা করে আসছেন বেনারসিপল্লী শাড়ি ব্যবসায়ীরা।

ভ্যাট কমিশনারেট কমিশনার ড. মইনুল খান বলেন – অনেক আগ থেকেই প্রতিষ্ঠান মালিকগুলোকে ভ্যাট নিবন্ধন নেওয়া ও যথাযথ ভ্যাট দেওয়ার জন্য নোটিশ করলেও তারা কানেই তুলেনি।অবশেষে রাজস্ব আয় ও ব্যবসায় স্বচ্ছতার স্বার্থে আমরা অভিযান শুরু করেছি। বিস্ময়কর যে বছরের পর বছর এরা বিপুল অঙ্কের মুনাফা করেও বড় অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছিল। অভিযানে বিষয়টি ধরা পড়েছে।

গত মঙ্গল ও বুধবার আকস্মিকভাবেই ভ্যাট কমিশনারেটের একটি দল ভ্যাট কর্মকর্তারা পল্লীতে অভিযান চালায়। কিন্তু সহজে এই অভিযান পরিচালনা করতে পারেনি কর্মকর্তারা। ব্যবসায়ীরা জোটবদ্ধ হয়ে অভিযানে বাধা প্রদান করে। পরে পুলিশ এই অভিযানে সাহায্য করে।

এসময় ১৩৭টি প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিবন্ধন পায়নি কর্মকর্তারা। নিবন্ধন না থাকা মানে তারা ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে অথবা নামমাত্র ‘থোক’ ভ্যাট দিচ্ছে। এর পরিমাণ বছরে চার থেকে সর্বোচ্চ ছয় হাজার টাকা। নিবন্ধন না থাকায় অভিযান চলাকালে ৮৯টি প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন করতে বাধ্য করা হয়েছে। অন্যদেরও দ্রুত নিবন্ধন দেওয়া হবে।

ভ্যাট কর্মকর্তাদের তল্লাশি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বেনারসি কুঠির নামের একটি প্রতিষ্ঠান গত বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত পাঁচ মাসে শাড়ি বিক্রি করেছে ৯ কোটি ৯ লাখ টাকা। গড় হিসাবে প্রতি মাসে বিক্রি কোটি টাকার বেশি। আইনানুযায়ী ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রযোজ্য। কিন্তু বেনারসি কুঠিরের ভ্যাট দেওয়ার কথা ৪৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। অথচ প্রতিষ্ঠানটি এই সময়ে ‘থোক’ হিসেবে ভ্যাট দিয়েছে মাত্র ৯১ হাজার টাকা।

শুধু ওই পাঁচ মাসেই প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা। বেনারসি কুঠিরের মতো বেনারসিপল্লীর প্রায় সব কয়টি প্রতিষ্ঠানের একই অবস্থা। ভ্যাট কমিশনারেট নিবন্ধন না থাকা ১০টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের তালিকা করেছে। এদের বিরুদ্ধে সন্দেহজনক লেনদেন ও মুদ্রা পাচারের অভিযোগ করা হচ্ছে। তালিকাটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আওতাধীন বিএফআইইউতে পাঠানো হবে। তালিকার ১০ প্রতিষ্ঠান হলো বেনারসি রূপ সিংগার, গুলশান শাড়িজ, হানিফ সিল্ক, বেনারসি বাজার, বেনারসি কুঠি-১, বেনারসি কুঠি-২, বেনারসি কুঠি-৩, আল হামদ বেনারসি-১, বেনারসি বিগ বাজার ও ওয়েডিং স্টাইল।

ভ্যাট নিবন্ধন না থাকা যে ৮৯টি প্রতিষ্ঠানকে তাত্ক্ষণিক নিবন্ধন নিতে বাধ্য করা হয় সেগুলো হলো-

রূপ মহিনী গ্যালারি, বেনারসি রূপ সিংগার, গুলশান শাড়িজ, গুলশান শাড়ি মিউজিয়াম, বেনারসি শাড়িজ, বেনারসি কিং, শাহিনা ফ্যাশন, এসএম শাড়ি ওয়ার্ল্ড, বেনারসি পরশমণি-১, বেনারসি পরশমণি-২, রূপকথা, সুবারা ফ্যাশন, মনে রেখ শাড়িজ, কালাঞ্জলি শাড়িজ, আল মোস্তফা বেনারসি, সুবর্ণা শাড়িজ, লামিয়া বেনারসি, রিমঝিম শাড়ি, বেনারসি শাড়ি ফ্যাশন, শাড়ি কালেকশন, শাড়ি এক্সিলেন্ট, শপিং ওয়ার্ল্ড, মাহমুদ শাড়ি, বেনারসি সিল্ক স্টোর, রমণী শাড়ি কুঠি।

শাহীন সিল্ক স্টোর, মোহাম্মদী সিল্ক-২, আপন বেনারসি, বেনারসি বাজার, বেনারসি অলংকার, নীল আঁচল, শীতল শাড়ি সেন্টার, মোহাম্মদী সিল্ক হাউস, সামা সিল্ক, শাড়ি নগর, নিউ তাঁত ঘর, বেনারসি কুঠি-১, বেনারসি কুঠি-২, বেনারসি কুঠি-৩, স্বর্ণা জামদানি হাউস, আল হামদ বেনারসি-১, রূপসী বেনারসি, আল হামদ বেনারসি-২, গ্রেট বেনারসি, বেনারসি বিগ বাজার, জামদানি ঘর, পাবনা বেনারসি মিউজিয়াম, এসএস শাড়ি ওয়ার্ল্ড।

বেনারসি এশিয়া বাজার, দিয়া শাড়িজ, বেনারসি আড়ং, রূপম শাড়িজ, বেনারসি ওয়ার্ল্ড, বেনারসি কুঠি-২, পাবনা এম্পারিয়াম, জেডাব্লিউ লীলাবালি, ঐশী বেনারসি, খুরশিদ অ্যান্ড সন্স, মিতু কাতান, শাহীনা ফ্যাশন হাউস, মল্লিকা বেনারসি, তানহা বেনারসি, টপ চয়েস, ওয়েডিং স্টাইল, তায়েব শাড়ি ফ্যাশন, ফাস্ট লেডি বেনারসি, আল আমিন বেনারসি, মনে রেখ শাড়ি বাজার, রোকসানা সিল্ক, জননী বেনারসি, আল মোস্তফা বেনারসি।

মনে রেখ শাড়িজ, সুবরা ফ্যাশন, শাড়ি মেলা, রেসা বেনারসি কুঠির, বেনারসি কিং, রেশমা সিল্ক হাউস, সুবর্ণা শাড়িজ, লোনেডন বেনারসি, মিরপুর বেনারসি কুঠি, বেনারসি পালকি, ডায়মন্ড বেনারসি, প্রেমঞ্জয়, জুয়েনা শাড়িজ, সাদিয়া বেনারসি হাউস, আল হামদ বেনারসি-৪ হানিফ সিল্ক।



আরো পড়ুন:


দিনের ব্রেকিং নিউজ সবার আগে পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন:facebook-button-join-group

সরকারি এবং বেসরকারি চাকুরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পেতে

facebook-button-join-group

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত