“আমাকে ক্ষমা করো মা, আমি আর সইতে পারছি না”

“আমাকে ক্ষমা কর মা। আমি আর সইতে পারছি না। আমি জানি অনেকের সাথে আমি খারাপ ব্যবহার করেছি। পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও।”- আত্মহত্যার আগে ছোট্ট একটি চিরকুটে ঠিক এভাবেই লিখে গিয়েছিল মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দশম শ্রেণির ছাত্রী তাহমিনা আক্তার।

তাহমিনা আক্তার উপজেলার মধ্য রৌহা গ্রামের মৃত শেখ খোরশেদ মিয়ার মেয়ে। সে গোপালটুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। শুক্রবার রাতেই মায়ের সাথে খাবার খেয়ে ঘুমাতে গিয়েছিল তাহমিনা। রাত পেরিয়ে সকাল হলেও তাহমিনার ঘুম আর ভাঙ্গেনি।

জানা যায়, প্রেমিকের কারণেই আত্মহত্যা করেছে তাহমিনা। মো. রেদুয়ান নামের প্রেমিক তার কিছু আপত্তিকর ছবি ধারণ করে। পরে সেগুলো দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে তাহমিনাকে দৈহিক মিলনে বাধ্য করে। পরে তাহমিনা বিয়ের প্রস্তাব দিলে রেদুয়ান প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। এভাবে মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অবশেষে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় তাহমিনা। আত্মহত্যা শেষে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

অভিযুক্ত প্রেমিক মো. রেদুয়ান সরকারি দরগ্রাম ভিকু মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র বলে জানা গেছে। রেদুয়ানের বাবা ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ মিয়া।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রেদুয়ানের সঙ্গে তাহমিনার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে তাহমিনার কিছু গোপন ভিডিও ধারণ করে। পরে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে দৈহিক মিলনে বাধ্য করে। লজ্জায় তাহমিনা ঘটনাটি পরিবারে জানায়নি। শুক্রবার রাতে মায়ের সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে নিজ ঘরের বারান্দার কোঠায় ঘুমাতে যায়। শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে তার মা ডাকলে সে সাড়া না দেওয়ায় ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। দেখা যায়, তাহমিনা ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

এদিকে তাহমিনার বন্ধু বান্ধবীরা পুলিশকে জানিয়েছে, রেদুয়ানকে বিয়ের চাপ দিলে সে আপত্তিকর ছবি মোবাইলে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতো। তাহমিনা তার সুইসাইড নোটে বান্ধবীদের বলেছে – তোরা ভালো থাকিস। আমি ওপারে চলে গেলাম।

তাহমিনার মামা আব্দুস সোবহান মিয়া জানান, তাহমিনার মোবাইল থেকে পুলিশ একটি ভিডিও উদ্ধার করেছে। সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মতিয়ার রহমান মিঞা বলেন – এ ব্যাপারে থানায় একটি ইউডি মামলা করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মেয়েটির মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তদন্ত করে অভিযুক্তর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



আরো পড়ুন>>>

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত