চার জেলায় তীব্র শীত, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায়

তীব্র শীত সাথে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ গ্রাস করে নিয়েছে রাজধানীসহ সারাদেশ। এমন অবস্থায় জনজীবন হয়ে পড়েছে বিপন্ন। বিশেষ করে শ্রমজীবী খেটে খাওয়া মানুষরা প্রচন্ড ঠান্ডায় কাজ করতে পারছেন না। গত সোমবার পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (৭.২) রেকর্ড করা হয়েছিল।

এছাড়া রাজশাহী, কুড়িগ্রাম, চাঁদপুর ও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে। এসব জায়গায় ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগবালাই দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশুরা বেশি অসুস্থ হচ্ছে।

এদিকে, রাজশাহীর আবহাওয়াও তেমন কোনো সুখবর দিচ্ছে না। বেলা ১১টা পর্যন্ত দেখা যাবে না সূর্য। কনকনে শীতের সাথে ঠান্ডা বাতাস যোগ হয়ে জনজীবনকে আরো কঠিন অবস্থায় ফেলে দিয়েছে। রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৪ ডিগ্রি। এদিন সকালে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ।

এবারের শীতে সবথেকে কঠিন সময় কাটাচ্ছে বাংলাদেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়। সোমবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

কয়েকদিন ধরে পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা এতটাই বেশি যে, নেহায়েত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লোকজন তেমন বাইরে বের হচ্ছেন না। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলার খেটে খাওয়া মানুষ। তীব্র কুয়াশার কারণে দুপুর পর্যন্ত যানবাহনে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।

ঘন কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল হাওয়ায় বাড়ছে শীতের তীব্রতা। বৃষ্টির মতো ঝরছে শিশির। ঠাণ্ডায় চরম বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ। হাসপাতালগুলোয় দিন দিন বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা।

কুড়িগ্রামে টানা শীতের প্রকোপে প্রান্তিক ৬ লাখ মানুষ পড়েছেন দুর্ভোগে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত জেলায় শীতার্ত মানুষের জন্য ৬১ হাজার ১৪টি কম্বল উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ করা হয়েছে।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ কুড়িগ্রামের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা তীব্র শৈত্যপ্রবাহের রূপ নিতে পারে।

চাঁদপুরে তিন-চারদিন তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশার কারণে চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থানে নৌ ও সড়কপথে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে যাত্রীসাধারণকে পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। চলতি সপ্তাহে কুয়াশার ঘনত্ব ছিল শূন্য দৃষ্টিসীমায়। এ কারণে লঞ্চগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়েও নির্ধারিত সময়ের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিলম্বে ঘাটে পৌঁছতে হচ্ছে।

 

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত