তুরাগে মুসল্লিদের ঢল! শুরু হয়েছে প্রথম পর্ব

প্রতি বছরে ন্যায় এ বছরও শুরু হতে যাচ্ছে ‘ইজতেমা’। এ উপলক্ষে টঙ্গীর তুরাগ নদের তীর তৈরি  হয়ে গেছে। দেশ-বিদেশের মুসল্লিরা এসে মিলছে সেখানেই। সারাদেশে চলছে তীব্র শীত এবং সাথে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। কিন্তু এসবের তোয়াক্কা না করে দেশ-বিদেশের মুসল্লিরা তুরাগ তীরে আসছেন।

তাবলিগ জামাতের এটি ৫৭তম ইজতেমা। ১৬৫ একর জমির ওপর বিশাল শামিয়ানার নিচে আশ্রয় নিচ্ছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। প্রথম পর্বের মূল কার্যক্রম শুরু হয়েছে আজ ফজর নামাজের পর থেকেই। প্রায় সব জেলার জিম্মাদাররা টঙ্গীর ময়দানে এসে উপস্থিত হয়েছেন।

জেলা জিম্মাদারদের উদ্দেশে ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়ে দিক-নির্দেশনামূলক আলোচনাও চলছে। ইজতেমার প্রথম পর্ব শেষ হবে রবিবার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে। এবারের ইজতেমা আয়োজন করেছেন মাওলানা জোবায়েরের অনুসারীরা।

জোবায়েরপন্থিদের মধ্যে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ রয়েছে। প্রথম পর্ব শেষে চার দিন বিরতির পর ১৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে ভারতের বিশ্ব তাবলিগ মারকাজের সাবেক আমির মাওলানা সাদ কান্দলভীর অনুসারীদের আয়োজনে দ্বিতীয় পর্ব।

ইজতেমার প্রথম পর্বের গণমাধ্যমবিষয়ক সমন্বয়কারী জহির ইবনে মুসলিম বলেন – ১০-১২ হাজার বিদেশি মেহমান এবার ইজতেমায় অংশ নেবেন। তাদের বেশির ভাগই চলে এসেছেন। তাদের জন্য ময়দানের উত্তর-পশ্চিম দিকে আন্তর্জাতিক নিবাস নির্মাণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন – মুসল্লির সংখ্যা বাড়ায় এবার তুরাগ নদের পশ্চিম পাড়ে তিন একর জমিতে ছাউনি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। তিন দিনের কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন জামাতের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। ৬৪ জেলার জমায়েতবদ্ধ মুসল্লি ছাড়াও ব্যক্তিগত ও স্থানীয় পর্যায়ে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসল্লি ইজতেমায় অংশ নেবেন।

এদিকে, স্থানীয় সাংসদ যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন – ইজতেমা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মুসল্লিরা যাতে কোনো ভোগান্তির শিকার না হন, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

গাজীপুর সিটি মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন – ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সব রকম ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার মুসল্লির সংখ্যা বেশি হবে। সেদিক বিবেচনা করেই আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি।

সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চৌরাস্তা পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং রাস্তার ওপর রাখা গাড়ি সরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তুরাগ নদে নিরাপত্তার জন্য টঙ্গী ব্রিজ ও কামারপাড়া ব্রিজের নিচে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার জন্য বাঁশের তিনটি নিরাপত্তাবেষ্টনী নির্মাণ করা হয়েছে। মুসল্লিদের চিকিৎসার জন্য ৪৫টি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন জানান, এবার ইজতেমায় কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ৯ হাজার পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার ১০ হাজারের বেশি সদস্য নিয়োজিত থাকবে।

জেলা পুলিশ সুপার শামসুন্নাহর বলেন – মুসল্লিরা যাতে নির্বিঘ্নে ইজতেমা ময়দানে আসতে এবং বাড়ি ফিরতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ কাজ করছে। মুসলিমদের সর্ববৃহৎ গণ সম্মেলন হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা। বিশ্বের প্রায় ৫০-৫৫টি দেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ইজতেমায় যোগ দেন।

স্থান সংকুলানের কারণে ২০১১ সাল থেকে বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে হয়ে থাকে। প্রথম পর্বে ৩২টি জেলা অংশগ্রহণ করেন। এরপরের পর্বে বাকী ৩২টি জেলার মুসল্লিরা ইজতেমা মাঠে একত্রিত হন।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত