এসএ গেমসে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ!

নেপালে অনুষ্ঠিত ১৩তম সাউথ এশিয়ান গেমসে (এসএ গেমস) এবার এক অনন্য উচ্চতায় উঠে গেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এই নতুন ইতিহাসকে দুইভাবে বিভক্ত করা যায়। এক, সর্বোচ্চ সোনা জয়ের রেকর্ড। দুই, দেশের বিদেশের মাটিতে সর্বোচ্চ সোনা জয়ের রেকর্ড। তবে রেকর্ডের পাতায় যেটাকেই আগে প্রাধান্য দেই না কেন, এবারের এসএ গেমসে বাংলাদেশি অ্যাথলেটরা কথা রেখেছে সেটি একেবারেই প্রমাণিত।

২০১০ সালের এসএ গেমসে বাংলাদেশ জিতেছিল ১৮টি স্বর্ণপদক। যেটি এতোদিন ধরে ছিল বাংলাদেশের সেরা! কিন্তু এবার সে রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ। গত সোমবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকে সারাদিন ছিল বাংলাদেশের। সকালের প্রথম প্রহরেই আর্চারিতে স্বর্ণ জিতেন সোহেল রানা। এরপর, আর্চারিতে আরো ৩টি সোনা বাংলাদেশের ঝুলিতে আসে। অন্যদিকে, দিনের শেষটাও বাংলাদেশ সোনার হাসি দিয়েই শেষ করেছে।

ক্রিকেটে সৌম্য-শান্তর প্রতিশোধপুর্ণ ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে সোনা সোনা ঘরে আসে। তবে এর শুরুটা করেছিল দিপু চাকমা। এসএ গেমসের ১৩তম আসরে বাংলাদেশের প্রথম স্বর্ণ আসে দিপু চাকমার হাত দিয়ে তায়কোয়ান্দো থেকে। এরপর ১৯ নম্বর স্বর্ণটি আসে ছেলেদের ক্রিকেট থেকে। মজার ব্যাপার হল, নারী ক্রিকেটারও স্বর্ণ এনেছে লংকানদের হারিয়ে। তবে ফুটবলে স্বর্ণ জেতা হল না বাংলাদেশের। পুরুষদের ফুটবলে নেপালের শকাছে হেরে স্বর্ণ হারায় বাংলাদেশ।

এবারের আসরের তৃতীয় দিনে বাংলাদেশ জিতে নিয়েছিল ৩টি স্বর্ণ, যার সবগুলোই আসে কারাতে থেকে। পুরুষ একক কুমিতের অনূর্ধ্ব-৬০ কেজিতে পাকিস্তানের জাফরকে ৭-৩ পয়েন্টে হারান আল আমিন। কুমিতে মেয়েদের অনূর্ধ্ব-৫৫ কেজিতে পাকিস্তানের কৌসরা সানাকে ৪-৩ পয়েন্টে হারিয়ে সোনা জেতেন মারজান আক্তার প্রিয়া। এরপর অনূর্ধ্ব-৬১ কেজিতে স্বাগতিক নেপালের অনু গুরুংকে ৫-২ পয়েন্টে মাহফুজা আক্তার অন্তরা উড়িয়ে দেন।

অন্যদিকে দেশের বাইরে অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সোনা জয়ের রেকর্ড ছিল ৭টি। তবে এবারে আসরে অষ্টম দিনেই সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে অ্যাথলেটরা। পোখারায় আর্চারির রিকার্ভ দলগত ইভেন্টের ফাইনালে ভুটানকে ৫-৩ সেট পয়েন্টে হারায়  রোমান সানা, তামিমুল ইসলাম ও হাকিম মোহাম্মদ রুবেলে গড়া দল। ওই পদকেই দেশের বাইরে সাফল্যের নতুন রেকর্ড গড়া হয়ে যায়।

প্রতিযোগিতার সপ্তম দিনে আরও তিনটি সোনা জয়ের উৎসবে মাতে বাংলাদেশ। পোখারায় মেয়েদের ৭৬ কেজি ওজন শ্রেণিতে স্ন্যাচে ৮০ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১০৫ কেজি মিলে মোট ১৮৫ কেজি ওজন তুলে সেরা হন মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। ছেলেদের ৯৬ কেজিতে স্ন্যাচ (১২০ কেজি) ও ক্লিন অ্যান্ড জার্ক (১৪২ কেজি) মিলিয়ে ২৬২ কেজি তুলে সেরা হন জিয়ারুল ইসলাম। এরপর ফেন্সিংয়ে মেয়েদের সেইবার ইভেন্টের এককের ফাইনালে স্বাগতিক নেপালের রাবিনা থাপাকে ১৫-১০ পয়েন্টে হারান ফাতেমা মুজিব।

প্রতিযোগিতার অষ্টম দিনটি ছিল বাংলাদেশের জন্য সোনায় মোড়ানো। সব মিলিয়ে ধরা দেয় ৭টি সোনা। এরপর কেবল নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়ার পালা। সেদিন সকালেই রিকার্ভ মহিলা দলগতের ফাইনালে ইতি খাতুন, মেহনাজ আক্তার মনিরা ও বিউটি রায় ৬-০ সেট পয়েন্টে সোনা জিতেন। সেরার পদক আসে রিকার্ভ মিশ্র দলগত ইভেন্ট থেকেও।



চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং পাশাপাশি সকল চাকরির প্রস্তুতি প্রকাশ করা হয়। এছাড়া দিনের ব্রেকিং নিউজ সবার আগে পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন:facebook-button-join-group

সরকারি এবং বেসরকারি চাকুরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পেতে

facebook-button-join-group

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত