রামগতি পৌরসভার মেয়র ও প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে টেন্ডার জালিয়াতির অভিযোগ

কলক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভার মেয়র মেজবাহ উদ্দিন মেজু ও সহকারী প্রকৌশলী জুলফিকার আলীর বিরুদ্ধে ৮ কোটি টাকার টেন্ডার জালিয়াতির চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মের্সাস বাপ্পি ট্রের্ডাসের মালিক আবদুল ওয়ারেছ ও অপর ঠিকাদার সাইদ পারভেজ। চলতি বছরের ২৪ নভেম্বর এ লিখিত অভিযোগ দেন এ দুই ঠিকাদার।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রামগতি পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক উন্নয়নের লক্ষ্যে ২৯মে ই-জিপিতে ১২টি প্যাকেজের মাধ্যমে প্রায় ৮ কোটি টাকার প্রকল্পের দরপত্রের আহবান করা হয়। যথা নিয়মে সর্বনিম্ম দরদাতা হিসেবে মেসার্স বাপ্পী ট্রেডার্স বিবেচিত হয়ে প্রকল্প পরিচালক বরাবর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু তা না করে অজ্ঞাত কারনে পৌরসভার মেয়র মেজবাহ উদ্দিন মেজু ও সহকারী প্রকৌশলী জুলফিকার আলী এবং কার্যসহকারী প্রকৌশলী মো.শাহজাহানের যোগসাজসে ১৫ সেপ্টেম্বর উক্ত ১২টি প্যাকেজের কাজ পূনঃবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরপরও পূনরায় ই-জিপি পদ্ধতিতে ৫% কমদরে দরপত্র অংশ গ্রহন করে বাপ্পী ট্রের্ডাস।

অভিযোগ সূত্রে আরো জানা যায়, ওই দরপত্র মূল্যায়নকালে বাপ্পী ট্রের্ডাসের দরপত্রটি বাতিল করে তাদের পছন্দের ঠিকাদার (এস পার সিডিউল রেট) কাজ দেয়ার সুপারিশ করে প্রকল্প পরিচালকের কাছে অনুমোদনের পূনরায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরপর বাপ্পী ট্রেডার্সের মালিক আবদুল ওয়ারেছ বিষয়টি প্রকল্প পরিচালককে জানালে প্রকল্পটি পূনরায় দরপত্র আহবানের জন্য রামগতি পৌরসভা ফেরত পাঠায়। অভিযোগ রয়েছে, মেয়র,সহকারী প্রকৌশলীর যোগসাজসে নিজেদের পছন্দের লোকজনকে কাজ দিতে বারবার দরপত্র আহবান করার অভিযোগ করেন ঠিকাদারগন। এছাড়া পূর্বের দরপত্রের র্পে-অর্ডার অবমুক্ত না করে ৫ নভেম্বর তৃতীয় বারের মতো আবারও উক্ত কাজের দরপত্র আহবান করে পৌর কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার পর ঠিকাদারগনের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উত্তেজনা।

এদিকে, একাধিক ঠিকাদারের সাথে কথা বলে জানা যায়, রামগতি পৌরসভার তালিকাভূক্ত ঠিকাদার রয়েছে ৩২জন। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ নিজেদের লোকজনদের কাজ পাইয়ে দিতে বারবার একই ঠিকাদারের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজের দরপত্রে অংশ গ্রহন করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ঠিকাদাররা। এছাড়া পৌরসভায় কোন উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও সচিব না থাকায় রায়পুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী জুলফিকার আলী ৫ ধরে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছে এ পৌরসভায়। ফলে তার একটি সিন্ডিকেট তৈরি হয়। এতে করে মেয়র মেজবাহ উদ্দিন মেজু,সহকারী প্রকৌশলী জুলফিকার আলী ও কার্যসহকারী প্রকৌশলী মো. শাহজাহানের যোগসাজসে পৌরসভার বিভিন্ন অর্থ আত্মসাতসহ নানা অনিয়ম করে আসছে।

বাপ্পী ট্রের্ডাসের মালিক আবদুল ওয়ারেছ বলেন – স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও রামগতি পৌরসভার প্রথম শ্রেনীর ঠিকাদার হিসেবে সুনামের সাথে কাজ করে আসছেন। প্রায় ৮ কোটি টাকার কাজের সর্বনিম্ম দরদাতা হিসেবে কাজটি পেলেও তা বাতিল করে পূনরায় দরপত্র আহবান করেন পৌরসভার মেয়র মেজবাহ উদ্দিম মেজু। এছাড়া পূর্বের দরপত্রের র্পে-অর্ডার অবমুক্ত না করে ৫ নভেম্বর তৃতীয় বারের মতো আবারও উক্ত কাজের দরপত্র আহবান করে পৌর কর্তৃপক্ষ। কৌশলে আমার প্রতিষ্ঠানকে দূরে রাখার জন্য লাইসেন্স নবায়ন করছেনা। বাধ্য হয়ে ব্যাংক পে-অর্ডার করে নবায়ন ফি পরিশোধ করি। বর্তমানে তাদের হুমকি- ধুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি।

বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে দায়িত্বরত সহকারী প্রকৌশলী জুলফিকার আলী বলেন – বাপ্পী ট্রের্ডাসের লাইসেন্স নবায়ন না থাকায় দরপত্র বাতিল করা হয়। এরপর সে লাইসেন্স নবায়ন করেনি। টেন্ডার জালিয়াতির প্রশ্নই উঠেনা বলে দাবী করেন এ প্রকৌশলী।

রামগতি পৌরসভার মেয়র মেজবাহ উদ্দিন মেজু বলেন – বাপ্পী ট্রের্ডাসের মালিক আবদুল ওয়ারেছ ইতিমধ্যে কয়েক কোটি টাকার কাজ পাইছেন। বর্তমানে কেন আমার বিরুদ্ধে অপ্রপচার চালাচ্ছেন তা আমার জানা নেই। কোন অনিয়ম ও দূনীর্তির সাথে আমি জড়িত নয়। এছাড়া লাইসেন্স নবায়ন করার দায়িত্বে শাখা রয়েছে। এখানে আমার কোন হাত নেই।

#মো: রবিউল ইসলাম খান, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত