আমি আমার সর্বস্ব হারিয়েছি – রুম্পার বাবা

যার যায় সেই বুঝে। আমি মেয়ে হারায়নি, আমি আমার সর্বস্ব হারিয়েছি। কত কষ্ট করে মেয়েকে লালন-পালন করে বড় করেছি। সামনে তার কত সুন্দর ভবিষৎ পড়ে ছিল। কিন্তু তার আগেই তাকে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে। কাঁদতে কাঁদতে ঠিক এভাবেই কথাগুলো বলেছেন পুলিশ কর্মকর্তা রুম্পার বাবা রুকুন উদ্দিন।

অন্যদিকে একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল হয়ে আছে মা নাহিদা আক্তার পারুল। বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন তিনি। স্বজনরা তাকে সান্তনা দিতে থাকলে কান্না থামাতে পারছে না। মেয়ের শোকে গত দু’দিন ধরে খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। দুর্বল হয়ে পড়েছেন তিনি। মেয়ের হত্যাকারীদের উদ্দেশ্যে বার বার বলছেন – তোরা এত্ত খারাপ’ তোদের মনে মায়া দয়া নেই। তোরা কোনো মায়ের পেট থেকে পড়িসনি, তোদের বিচার যেন দেইখ্যা যাইতে পারি।

রাজধানীর সিদ্ধেশরীতে দুই বাড়ির মাঝ থেকে উদ্ধার করা নিহত রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে তাকে দাফন করা হয়েছে। রুম্পার মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা। রুম্পার হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। তারা বলছেন, অপরাধীদের দ্রুত সনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

মেধাবী শিক্ষার্থী রূম্পা বাবা-মার বড় সন্তান এবং একমাত্র মেয়ে। রুম্পা ২০১৪ সালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস্ স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি, ২০১৬ সালে ভিকারুন্নিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ এইচএসসি উত্তীর্ণ হন। তিনি স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার ছোট ভাই রাজধানীর ন্যাশনাল াইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়াশুনা করছে।

রুম্পার বাবা মো. রুককুন উদ্দিন হবিগঞ্জ জেলার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক হিসাবে কর্মরত। মা নাহিদা আক্তার পারুল গৃহিণী। রাজধানী ঢাকার শান্তিবাগে একটি ফ্ল্যাটে মায়ের সঙ্গে থেকে পড়াশোনা করতেন রুম্পা ও তার ছোট ভাই। পড়াশোনার পাশাপাশি রুম্পা টিউশনি করাতেন। গত বুধবার টিউশনি শেষে বাসায় ফেরার পর রুম্পা। এরপর বাইরে কাজ আছে বলে আবার বাসা থেকে বের হন। কিন্তু এরপর রাতে আর বাসায় ফিরেননি। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি।

বুধবার রাতে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডের আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সের পেছনে দুই বাড়ির মাঝ থেকে উদ্ধার করা হয় রুবাইয়াত শারমিন রুম্পা (২১)-এর মরদেহ। তার মৃত্যু নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। শুক্রবার রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন – ঘটনাস্থলের পাশে তিনটি ভবন আছে। এগুলোর যেকোনও একটা থেকে পড়ে রুম্পা মারা গেছেন। আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে, মামলা তদন্তাধীন।

ঢামেকের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, উপর থেকে পড়েই তরুণীর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হতে তার মৃতদেহ থেকে হাইভেজেনাল সপসহ ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছে। তা পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। সেই রিপোর্ট এলে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।


চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং পাশাপাশি সকল চাকরির প্রস্তুতি প্রকাশ করা হয়। এছাড়া দিনের ব্রেকিং নিউজ সবার আগে পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন:facebook-button-join-group

সরকারি এবং বেসরকারি চাকুরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পেতে

facebook-button-join-group

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত