ইতিহাস গড়ার পথেই এগোচ্ছিলেন ওয়ার্নার!

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে চলছে অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান টেস্ট ম্যাচ। এই ম্যাচে পাকিস্তানীর খেলোয়াড়রা হলেন সাইড ক্যারেক্টার। ম্যাচের প্রধান ক্যারেক্টারতো অজি ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। নখদন্তহীন বোলিং নিয়ে নামা পাক বাহিনীকে একেবারে নাজেহাল করে ছেড়েছেন ওয়ার্নার।

এই ম্যাচে পাকিস্তানিদের কাজ ছিল বল করে যাওয়া। আর ওয়ার্নারের কাজ ছিল বলগুলোকে শাসন করা। এর এক চুল পরিমাণও এদিক-সেদিক হয়নি। ওয়ার্নার তার কাজ করে দিয়েছেন। প্রথমদিনের ১৬৬ রানের ইনিংসটিকে ডাবলে পরিণত করলেন ২য় দিন খেলতে নেমে। কিন্তু এরপর যেন আরো চেপে বসলেন মারকুটে এই ব্যাটসম্যান।

কিন্তু এ ম্যাচে মারকুটে ওয়ার্নারকে কম দেখা গেছে। বরং, সেশন বাই সেশন ব্যাটিং করে তুলে নিয়েছেন ট্রিপল সেঞ্চুরি। ৩৩৫ রান করা ওয়ার্নারকে থামিয়েছে অজি অধিনায়কের ইনিংস ঘোষণা। তা না হলে যেভাবে ব্যাটসম্যানশীপ দেখিয়েছেন তাতে ব্রায়ান লারার ৪০০ রানের রেকর্ডটি হুমকিতে ছিল অনেকটাই।

এদিন পাকিস্তানিদের খেলা দেখে মনে হয়নি তারা আক্রমণাত্মক খেলছে। বরং, মনে হয়েছিল তারা যেন অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস ঘোষণার অপেক্ষায় ছিল। ৩ উইকেটে অস্ট্রেলিয়া ৫৮৯ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে। আর দিনের বাকী অংশ ব্যাটিং করতে নেমে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৯৬ রান। আগামিকাল হাতে ৪ উইকেট নিয়ে ৫০২ রানের পাহাড় টপকানোর মিশনে নামবে আজহার উদ্দিনের দলটি।

টেস্ট ক্রিকেটে গত দুই বছর কোনো ট্রিপল সেঞ্চুরি দেখা যায়নি। সর্বশেষ ২০১৬ সালে ভারতের করুণ নায়ার ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছেন। ডাবলের কলা পুর্ণ করার পর চিরচায়িত আকাশচুম্বি লাফ দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে একটি হাসি দিয়েছিলেন ওয়ার্নার। হয়তো বলের আঘাতে নিহত ফিল হিউজের জন্য ডাবলটি উৎসর্গ করেছিলেন এই ব্যাটসম্যান।

ট্রিপলের পরেও একইভাবে উদযাপনটি করেছিলেন তিনি। হিউজের জন্মদিনে হয়তো কোয়াড্রুপল সেঞ্চুরিটাই উপহার দিয়ে দিতেন ওয়ার্নার।

টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস এখন ওয়ার্নারের (৯ ঘণ্টার বেশি ব্যাট করে ৪১৮ বলে ৩৩৫ ; ৩৯ চার ও ১ ছক্কা)। ২০০৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩৮০ রানের ইনিংস খেলেন ম্যাথু হেইডেন। দিবারাত্রির টেস্টে এটি দ্বিতীয় ট্রিপল সেঞ্চুরির নজির। এর আগে ২০১৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুবাইয়ে দিবারাত্রির টেস্টে ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছিলেন বর্তমান পাকিস্তান অধিনায়ক আজহার আলী। টেস্টে এটি দশম সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস। তবে অপরাজিত ট্রিপল সেঞ্চুরি হিসেব করলে ব্রায়ান লারা (৪০০*), গ্যারি সোবার্স (৩৬৫*) এবং ওয়ালি হ্যামন্ডের (৩৩৬*) পরই ওয়ার্নারের ইনিংসটি।

ব্রিসবেন টেস্টে ১৫৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ওয়ার্নার। অ্যাডিলেডে পরের ইনিংসেই ওয়ার্নারের এই ট্রিপল সেঞ্চুরি এ মাঠে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানও। যেখানে তিনি পেছনে ফেলেছেন ১৯৩২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্র্যাডম্যানের ২৯৯ রানের ইনিংসকে। এর আগে ১৯৩০ সালে লিডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৩৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন স্যার ডন ব্র্যাডম্যান।

ওয়ার্নার আজ অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তির ‘আইকনিক’ ইনিংসটি টপকে যাওয়ার পরই নিজেদের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। সপ্তম অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে ট্রিপলের মুখ দেখা এ ব্যাটসম্যান দীর্ঘ আট বছর পর অস্ট্রেলিয়ানদের দারুণ এক মুহূর্তও এনে দিয়েছেন। ওয়ার্নারের আগে টেস্টে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান হিসেবে সবশেষ ট্রিপল সেঞ্চুরি ২০১১ সালে মাইকেল ক্লার্কের।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত