পরিবহন ধর্মঘটে স্থবির সারাদেশ

সংগৃহীত ছবি: ৪৮ ঘন্টার পরিবহন ধর্মঘটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে যাত্রীরা।

নতুন সড়ক আইনের স্থগিতাদেশ জারি করে সংশোধনের জন্য  বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান ও পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডেকেছে। এর ফলে রাজধানী থেকে বিভাগীয় শহরগুলোতে যাওয়ার জন্য যাত্রীরা পোহাচ্ছে চরম ভোগান্তি।

চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য উঠানামা পর্যন্ত বন্ধ হয়ে আছে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডাকা এই ধর্মঘটের কারণে। চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, আজ (২অ নভেম্বর) থেকে কর্মবিরতি শুরু করেছে বন্দরের শ্রমিকরা। বন্দরের ১৭টি বেসরকারি ডিপোতেও পণ্য ওঠানামা ও পরিবহনের কোনো কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।

অপরদিকে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে রাস্তার মধ্যে এলোপাতাড়ি যানবাহন রেখে অবরোধ শুরু করে দিয়েছে পরিবহন শ্রমিকরা। সকাল থেকে বন্ধ হয়ে আছে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ নারায়ণগঞ্জের গণপরিবহণ। যার ফলে যাত্রীরা পড়েছে তীব্র ভোগান্তিতে।

Transport Strike

সংগৃহীত ছবি: নারায়ণগঞ্জে রাস্তা আটকিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ করে পরিবহন শ্রমিকরা।

আন্দোলনরত পরিবহন শ্রমিকেরা জানান, নতুন সড়ক পরিবহন আইন স্থগিত রাখাসহ নয় দফা দাবিতে আজ সকাল ছয়টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ডেকেছে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। ওই কর্মবিরতিতে সংহতি প্রকাশ করে সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও সকল ধরনের গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে।

এদিকে বিক্ষোভ করে ঢাকামুখী রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার ফলে নারায়ণগঞ্জের শিবু মার্কেট থেকে এ সড়কের চার কিলোমিটার পর্যন্ত তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের নারায়ণগঞ্জমুখী সড়ক ফাঁকা থাকলেও যানবাহন নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ।

পরিবহন শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ঐ রুটে চলাচলকারী শত শত যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন। তবে ফেরি, লঞ্চ ও স্পীডবোট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। কিন্তু ঘাটে যান না থাকায় ফেরিগুলোকে অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে।

খোঁজ নিয়ে যানা যায়, আজ সকালের দিকে শিমুলিয়া ঘাট হতে বাস চলাচল শুরু হলেও, নয়টার পর শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে তা আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে যায়। ঢাকা থেকে যে সকল বাস সকালে ছেড়ে এসেছে, সেগুলো আর ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে না। চালক-শ্রমিকরা বাস পার্কিং করে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। এতে বিপাকে পড়েছেন এ রুটের যাত্রীরা।

Transport Strike

সংগৃহীত ছবি: রাজধানী থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি।

মাওয়া বাস মালিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আলী আকবর হাওলাদার বলেন – আমরা মালিক পক্ষ বাস চলাচল বন্ধ করিনি। কিন্তু শ্রমিক-চালকরা নতুন সড়ক আইন সংশোধনের দাবীতে সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে আমরা চেষ্টায় আছি শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে বাস চলাচল চালু করার।

অন্যদিকে, খুলনায় সকাল থেকে বাস চলার কথা থাকলেও চলছে না। খুলনার অভ্যন্তরীণ রুটে আজ সকাল থেকে বাস চলাচলের কথা থাকলেও চলছে না। নতুন সড়ক আইন সংশোধন না করার প্রতিবাদে খুলনায় তৃতীয় দিনের মতো চলছিলো চালকদের কর্মবিরতি। সকালে বাস ছাড়বে এমন খবরে সোনাডাঙ্গা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, রয়্যাল ও শিববাড়ির মোড়ে শত শত যাত্রীরা দূর-দূরান্তে যাত্রার উদ্দেশ্যে আসলেও, বাস না ছাড়ায় তাদের যাত্রা ভঙ্গ হচ্ছে। অধিকাংশ বাস কাউন্টার বন্ধ রয়েছে।

পরিবহণ মালিক-শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের বৈঠকে বাস ছাড়ার সিদ্ধান্তের পরও কেনো বাস চলছে না? এমন প্রশ্নের জবাবে খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম বলেন – চালকরা কেউ গাড়ি চালাতে চাচ্ছে না। ভোর সাড়ে ছয়টায় সোনাডাঙ্গা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এসে চালকদের গাড়ি চালাতে অনুরোধ করলেও, তারা তাতে রাজি হচ্ছেন না। চালকরা বলছেন, দুর্ঘটনা ঘটলে সব জরিমানা আপনি দিবেন, এমন লিখিত দিলে আমরা গাড়ি চালাবো।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত