ঘুর্ণিঝড় ‘বুলবুল’: এখনও গাছচাপা শতাধিক বসতঘর, বিদ্যুৎহীন লক্ষাধিক মানুষ

স্বরূপকাঠী উপজেলায় বন্যায় ক্ষতি হয়েছে কয়েক হাজার বসতঘরসহ মুরগীর ফার্ম ও মাছের লিজের। দেশিয় ব্যাবসায়ি গাছ (চাম্বল, মেহেগনী ও রেন্ট্রি) উপড়ে পরে গ্রাম সড়ক ও ইউনিয়ন সড়কের বিভিন্ন স্থান ভেঙ্গে যোগাযোগে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। বন্যা পরবর্তি ৬ দিনেও গাছ চাপা পড়ে রয়েছে শতাধিক পরিবার।

কাঠুরেদের উচ্চ মজুরী (পূর্বের ৫০০ টাকা হলে এখন ১২০০টাকা) আর সংকটে দিশেহারা ক্ষতিগ্রস্থরা। এদিকে পল্লী বিদ্যুতের লোকজন দিন-রাত সমান সময় কাজ করে গেলেও লক্ষাধীক মানুষ বিদ্যুতহীন অবস্থায় রয়েছে। উপজেলা সদর, থানা এলাকা ও ইন্দেরহাট- মিয়ারহাট বাজার ব্যাতিত বিদ্যুৎ নেই কোথাও।

গত ১০ নভেম্বর দুপুর ১টায় প্রবল ঘুর্নিঝড় ‘বুলবুল’ আঘাত হানে এ উপজেলায়। শনিবার (৯ নভেম্বর) থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ফেসবুকে সতর্কতা পোষ্ট ছিল সরব কিন্তু সাইক্লোন শেল্টার ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লোকজন আশ্রয় নিলেও সরকারি কোন সহায়তা মেলেনি কারো। স্থানীয় ইউপি মেম্বারগণ তাদের নিজস্ব খরচে আশ্রিতদের একটি করে মওয়া ও টোস্টের ব্যবস্থা করেন (পিরোজপুর সদর উপজেলায় শুকনা খাবারসহ বিশুদ্ধ পানির ব্যাবস্থা হয় সরকারি সহায়তায়)।

Helpless People in Pirojpur

বন্যা পূর্ব প্রস্তুতি সভায় ঘুর্নিঝড় বুলবুল উপলক্ষে ১লক্ষ দশ হাজার টাকা প্রাথমিক সহায়তা ঘোষণা করা হলেও স্বরূপকাঠীর জনগণ অদ্যবদি কিছুই পায়নি চলছে ওয়ার্ড পর্যায়ের তালিকা প্রস্তুত করণ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সরকারি সহায়তা আত্নস্যাতের আশংকায় ক্ষতিগ্রস্থ ঘর বা প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ ছবিসহ তালিকা নিচ্ছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

এ নিয়ে ২নং সোহাগদল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বর ইয়াকুব আলী চৌকিদার ও এক ক্যামেরাম্যানকে দিয়ে বসতঘর প্রতি একশত টাকা নিয়ে ছবিতোলা কার্যক্রম শুরু করে। বিষয়টি স্থাণীয় লোকজন ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে জানালে একই এলাকার মামুন নামের এক মুদি দোকানির কাছে জমা রাখে।

এসময় ঘরপ্রতি টাকা নেয়া অলিউল্লাহ বলেন – ইয়াকুব আলী মেম্বারের নির্দেশে চৌকিদার নিয়ে আমি তালিকা করেছি এবং ছবি তুলেছি এগুলো প্রস্তুত ও নিজের পারিশ্রমিক বাবদ ঘর প্রতি একশত টাকা এনেছি। একই ঘরের ছবি বিভিন্ন ভাবে তোলার কারন জানতে চাইলে, অলি উল্লাহ্ নিরব থাকে।

এ ব্যাপারে ইয়াকুব মেম্বর বলেন – ছবি ধোয়াতে (প্রিন্ট) টাকা লাগবে তাই ওদের দিয়ে ঘরপ্রতি একশত টাকা করে নিতে বলেছি। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের লোক ব্যাতিত বসতঘরগুলোর ভাঙ্গা অংশ বিভিন্ন ভাবে নেয়ার কারণ ও ক্ষতির ধরণ উল্লেখ না করার কারন জানতে চাইলে তিনি নিরুত্তর থাকেন।

এ ব্যাপারে সোহাগদল ইউপি চেয়ারম্যান আঃ রশিদ বলেন – এডারে (ইয়াকুব মেম্বার) নিয়া আমি কোথায় জাব। আমার মানসমন্মান সব শেষ করবে। আমি টাকা ফেরৎ দেয়ার ব্যাবস্থা করতেছি। আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রীতদের কোন সরকারি সহায়তা দেয়া হয়নি, প্রথমে মেম্বররা নিজের পকেট থেকে যে যা কাজ করতে পেরেছে করেছে পরে আমি ইউনিয়ন পরিষদের ফান্ড থেকে তাদের অর্থ দিয়েছি। পরে পূনরায় ইয়াকুব মেম্বর জানায়, টাকাগুলো ফেরত দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার আব্দুল্লাহ মামুন বাবুর মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হক বলেন –  আমার জানা মতে বন্যার আগে ১৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার ব্যাতিত সরকারি কোন সহায়তা আসেনি যা আমরা এখন ওয়ার্ড পর্যায় বিলি করব। এছাড়া মন্ত্রী মহোদয় এসেছিলেন তিনি কিছু ত্রাণের প্যাকেট বিলি করেছেন।

#অনিমেশ হালদার, পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত