ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ : নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মসজিদে মসজিদে মাইকিং

সংগৃহীত ছবি।

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর কারণে শুক্রবার সন্ধ্যায় আবহাওয়া অধিদফতর থেকে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত এবং চট্টগ্রাম বন্দরে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করেছে। এর আগে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে ৪ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছিল।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ উপকূলে ধেয়ে আসার আশঙ্কায় যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত পটুয়াখালীর জেলা-উপজেলা প্রশাসন, ত্রান ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। এজন্য জেলায় সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের দরবার হলে দূর্যোগ প্রস্তুতি বিষয়ে জরুরি সভা করেছে জেলা প্রশাসন।

এছাড়াও ৮টি উপজেলায়ও প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে নিজ নিজ উপজেলা প্রশাসন। খোলা হয়েছে মোট ১০টি কন্ট্রোল রুম। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় মানুষ সচেতন ও নিরাপদে থাকার জন্য মসজিদে মসজিদে মাইকিং করা হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ার কারনে বৃহস্পতিবার মধ্য রাত থেকে শুক্রবার সারা দিন গোটা উপকূলীয় এলাকায় থেমে থেমে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। নদ-নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশী আতঙ্কে রয়েছে জেলায় অর্ধশত চরের মানুষ।

পায়রা সমুদ্র বন্দর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত বলবৎ থাকায় শুক্রবার সকাল থেকে মাছ ধরারত সকল ট্রলার উপকূলে নিরাপদে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। অভ্যন্তরীন রুটে ৬৫ ফুটের চেয়ে ছোট সকল নৌযান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বিআইডাব্লউটিএ কর্তৃপক্ষ।

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধুরী সভার মাধ্যমে জানান, জেলায় মোট ৪০৩ টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সার্বিক বিষয় মনিটরিং করতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এছাড়াও উপেজলায় একটি করে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। দূর্যোগকালীন ত্রান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১শ মেট্রিকটন চাল, ২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা, ১৬৬ বান্ডিল টিন এবং ৩৫০০ টি কম্বল মজুত রাখা হয়েছে।

এদিকে, সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কুয়াকাটাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করছেন বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থার স্বেচ্ছাসেবকরা। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমান জানান, উপজেলার সকল আশ্রয় কেন্দ্রগুলোকে প্রস্তুত রাখাসহ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের সতর্ক রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকার সকল ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রেখে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। উপজেলা পরিষদে ৩টি মোবাইল নম্বরসহ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

জেলা কন্ট্রোল সূত্রে জানা গেছে, ‘ঘুর্ণিঝড়’ বুলবুল পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সেখান থেকে ৮টি উপজেলা পরিষদে খোলা কন্ট্রোল রুমগুলো সর্বশেষ পরিস্থিতি সার্বক্ষনিক মনিটরিং করা হবে। এছাড়াও সিভিল সার্জনের নিয়ন্ত্রনাধীন স্বাস্থ্য বিভাগের তরফ থেকে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডাক্তার মো. জাহাঙ্গির আলম জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল পরিস্থিতির জন্য জেলায় মোট ৭০টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। গঠিত মেডিকেল টিম নিয়ন্ত্রন করা হবে কন্ট্রোল রুম থেকে। এ জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের সকল ধরনের কর্মকর্তা কর্মচারীর ছুটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে, ‘বুলবুল’ এর কারণে সমুদ্র বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় চার নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানো হয়েছে। এতে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-পথে পর্যটকবাহী জাহাজসহ নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে দ্বীপে আটকা পড়েছেন প্রায় দেড় হাজার পর্যটক। শুক্রবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন নৌ-পথে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার।

আবহাওয়া অধিদফতর সূত্র বলছে, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ ক্রমেই শক্তি সঞ্চার করে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। শুরুর দিকে ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ৮০-৯০ কিলোমিটার। শুক্রবার দুপুর থেকে এটির শক্তি ক্রমেই বাড়তে থাকে। ‘বুলবুল’ ইতিমধ্যে দ্বিতীয় ক্যাটাগরির ঘূর্ণিঝড়ে উন্নীত হয়েছে। এটি এখন আঘাত হানলে ১৩০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইবে। যে বাতাসে ঘরবাড়ি উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে।

তবে রোববার ফের শক্তি কমে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের (ভেরি সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম) রূপ পেতে পারে বুলবুল। তারপর ধীরে ধীরে আরও শক্তি হারিয়ে ১১ নভেম্বর ফের ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত