পরীক্ষা দিতে গেল ভাই, বোনের লাশ গেল চিতায়

অসুস্থ বোনটিকে ১৫ আগে ভর্তি করা হয়েছিল হাসপাতালে। অনেক যুদ্ধ করে বাঁচতে পারলো আদরের বড় বোন। কিন্তু মৃত বোনের মুখখানা শেষবারের মত দেখতে পারেনি ছোট ভাই নির্মল। বোনকে শেষবারের মত দেখতে হলে তাকে যে জেএসসি পরীক্ষা না দিয়েই থাকতে হবে। পরীক্ষার জন্য থাকতে পারেনি শেষকৃত্যেও।

এমন হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায়। আমজানখোর ইউনিয়নের সনাতন পালের ছেলে নির্মল এবার জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। সে উপজেলার স্কুল হাট উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র এবং বালিয়াডাঙ্গী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে। বোনের মৃত্যুর দিন তার হিন্দুধর্ম ও নৈতিক পরীক্ষা ছিল।

নির্মলের বড় বোনের না স্বপ্না রানী (১৬)। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন। ছোট ভাই নির্মলকে খুব ভালোবাসেন তিনি। ১৫ দিন আগে স্বপ্নাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। গতকাল ভোরে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন তিনি। এরপর মরদেহ গ্রামে নিয়ে আসা হয়।

নির্মলের চাচাতো ভাই সুমন পাল জানান, গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার সময় পারিবারিক শ্মশানঘাটে স্বপ্না রানীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে। স্বপ্নার লাশ যখন চিতায় পুড়ছিল, তখন নির্মল পরীক্ষার হলে ছিল। নির্মলের বাবা সনাতন পাল জানান, বোনের আদরে বড় হয়েছে নির্মল। স্বপ্না বড্ড ভালোবাসত নির্মলকে। অসুস্থ থাকলেও ভাইয়ের প্রতি আদর একটুও কম ছিল না।

বালিয়াডাঙ্গী পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের কেন্দ্র পরিদর্শক ও উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র বর্মণ বলেন – বিষয়টি খুব কষ্টের। পরীক্ষা শুরুর আগে বিষয়টি জানতাম না। পরীক্ষা শেষে নির্মলকে সান্ত্বনা দিয়েছি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রহমান বলেন – বোনকে আর দেখতে পাবে না, তারপরও অতটুকু ছেলে ধৈর্য ধরে পরীক্ষা দিয়েছে। এটা আমাকে অবাকই করেছে। নির্মল সত্যিই কঠিন সময় পার করেছে।

পরীক্ষা শেষে নির্মল পাল জানায়, সকালবেলা খবর পাওয়ার পর বোনের মুখ শেষবারের মতো দেখার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু পরীক্ষার সময় হয়ে যাওয়ায় আর দেখা হয়নি।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত