ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় খুন হলেন শাহ আলম

শাহ আলম হত্যাকাণ্ডে আটককৃত লেগুনা। (সংগৃহীত ছবি)

নিজের হাতে থাকা ব্যাগ ছিনতাইকারীদের দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণেই খুন করা হয়েছিল সীতাকুণ্ডের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ মো. শাহ আলমকে। এই ঘটনায় একজনকে আটক করে পুলিশ। আটককৃত ব্যক্তির নাম মো. ফারুক (১৯)। তিনি একজন লেগুনা চালক। গত মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শিপলু কুমার দের আদালতে এই জবানবন্দি দেন ফারুক।

এর আগে আজ ভোরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন এলাকা থেকে ফারুককে গ্রেপ্তার করে র‌্যাবের একটি দল। গ্রেপ্তার ফারুক চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নতুনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আইয়ুব আলীর ছেলে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সীতাকুণ্ড থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রবি চরণ চৌহান বলেন – ফারুকের লেগুনায় করে চট্টগ্রাম নগরের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় তার সাথে আরো পাঁচজন যাত্রী ছিল, যারা ছিনাতাই চক্রের সদস্য ছিল। পরে তারা শাহ আলমকে একা পেয়ে লেগুনার মধ্যেই ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। শাহ আলম ব্যাগ ছেড়ে না দেওয়ায়, ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে।

এর আগে ছোট কুমিরা বাজারের সব কটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গতকাল সোমবার বিকেলে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লেগুনাটি জব্দ করেন র‌্যাব সদস্যরা। এ সময় তাঁরা লেগুনাটিতে রক্তের ছোপ দেখতে পান।

র‌্যাব-৭–এর উপ-অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার শাফায়াত জামিল বলেন – গত বৃহস্পতিবার ঘটনার দিন রাত আটটার দিকে লেগুনাটি গ্যারেজে রাখতে যান ফারুক। এ সময় খুনে অংশ নেওয়া একজন ফারুককে ফোন করে গাড়ি নিয়ে সীতাকুণ্ডে যেতে বলেন। কথা অনুযায়ী গাড়ি নিয়ে সীতাকুণ্ডে গেলে আরও তিনজন যোগ দেন। রাত নয়টার দিকে তাঁরা চট্টগ্রাম নগরের উদ্দেশে রওনা হন। ছোট কুমিরা বাজার এলাকায় এলে আরও দুই সদস্য লেগুনায় ওঠেন।

তিনি বলেন – লেগুনাটি রয়েল সিমেন্ট গেট এলাকায় পৌঁছালে চক্রটির একজন শাহ আলমের কাছ থেকে ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন তাঁদের মধ্যে ধ্বস্তাধ্বস্তি হয়। একপর্যায়ে চিকিৎসক শাহ আলমকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে ঘাতকেরা চট্টগ্রাম নগরের দিকে না গিয়ে লেগুনাটি ঘুরিয়ে সীতাকুণ্ডের দিকে রওনা হন। কুমিরা বাইপাস এলাকায় আসার পর নির্জন জায়গায় শাহ আলমের লাশ ফেলে দেওয়া হয়। পরে বেড়িবাঁধ এলাকায় গিয়ে গাড়ি ও হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি ধুয়ে ফেলেন।

গত শুক্রবার পুলিশ নিহত শাহ আলমের লাশ উদ্ধার করে। পরদিন শনিবার রাতে নিহত চিকিৎসকের স্ত্রী ওমরানা আজমেরী সিকদার বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে সীতাকুণ্ড থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। শাহ আলম সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরা বাজারে বেবি কেয়ার প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি ক্লিনিক চালাতেন।

এদিকে, শাহ আলমকে হত্যার পিছনে আরেক ছিনতাইকারী র‍্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এই ‘বন্দুকযুদ্ধ’ সংঘঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। নিহত ব্যক্তির নাম নজির আহমেদ সুমন ওরফে কালু (২৬)। সে আলোচিত শিশু বিশেষজ্ঞ শাহ আলম হত্যার  প্রধান আসামি বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত