২৭৩০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে – প্রধানমন্ত্রী

আজ বুধবার গনবভনে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৭৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি করণের একটি তালিকা প্রকাশ করেন। এই সিদ্ধান্তটি কার্যকর করা হয়েছিল চলতি বছরের ১ জুলাই। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন – ২৭৩০টি প্রতিষ্ঠানকে আমরা এমপিভুক্ত করেছি।

সবশেষ ২০১০ সালে এক হাজার ৬২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করেছিল সরকার। এরপর দীর্ঘদিন এমপিওভুক্তি বন্ধ থাকায় আন্দোলন করে আসছিলেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। এমপিও বা মান্থলি পেমেন্ট অর্ডারের তালিকাভুক্ত বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের বেতনের একটি অংশ সরকার থেকে পান।

নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় (৬ষ্ঠ-৮ম) ৪৩৯টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় (৬ষ্ঠ-১০ম) ৯৯৪টি, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় একাদশ থেকে দ্বাদশ ৬৮টি, কলেজ একাদশ থেকে দ্বাদশ ৯৩টি, ডিগ্রি কলেজ (১৩শ-১৫শ) ৫৬টি, মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দাখিল ৩৫৭টি, আলিম ১২৮টি, ফাজিল ৪২টি, কামিল ২৯টি। কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কৃষি ৬২, ভোকেশনাল ১৭৫ এবং এইচএসসি (বিএম) ২৮৩টি।

তবে এমপিওভুক্ত হওয়ার আগে কয়েকটি শর্ত মানতে হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে। আর এই শর্তগুলো পূরণ সাপেক্ষেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্তির তালিকায় আসেন। গণভবনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন – যারা এমপিওভুক্তি চান, তাদের সে নির্দেশনাগুলো মানতে হবে। যাদেরকে এমপিওভুক্ত করলাম, তাদের কাছেও আহ্বান থাকবে- নীতিমালা অনুযায়ী সব নির্দেশনা পূরণ করতে পেরেছেন বলেই এমপিওভুক্ত হয়েছেন। এটা ধরে রাখতে হবে। কেউ তা ধরে রাখতে ব্যর্থ হলে এমপিও বাতিল হবে বলেও হুঁশিয়ার করেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন – এমপিওভুক্ত হয়ে গেছে, বেতন তো পাবই, তাহলে আর ক্লাস নেওয়ার দরকার কী, পড়ানোর দরকার কী- এ চিন্তা করলে চলবে না। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে কয়েকটি শর্ত দিয়ে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে আলাদা বরাদ্দ রাখা হবে বলে বাজেটের আগে জানিয়েছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

কিন্তু বাজেটে এমপিও নিয়ে কোনো ঘোষণা না থাকায় আমরণ অনশনে বসেন নন-এমপিও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা। তাদের আন্দোলনের মধ্যে গতবছর ৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপিওভুক্তির কার্যক্রম দ্রুত শুরুর কথা সংসদে জানান।

অপরদিকে, শিক্ষা মন্ত্রী ড. দীপু মনি নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে বলেন – এমপিওভুক্ত হওয়াসহ সব প্রতিষ্ঠানকে নীতিমালা অনুযায়ী মান ধরে রাখতে হবে। এতে কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যর্থ হলে সেটির এমপিও সাময়িক স্থগিত করা হবে। তবে পূণরায় যোগ্যতা অর্জন করতে পারলে আবারও এমপিও তালিকায় ফিরিয়ে আনা হবে।

তিনি বলেন – এখনও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নজরদারির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। তবে শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ও শিক্ষার মান বাড়াতে মনিটরিং ব্যবস্থা বাড়ানো হবে। এখন থেকে এমপিওভুক্তি প্রতিষ্ঠানকে নজরদারির আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।

এরপর এ বছর জুন মাসে ২০১৯-২০ সালের বাজেট ঘোষণা করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, দীর্ঘদিন পর এমপিওভুক্তির কার্যক্রম আবার শুরু হচ্ছে এবং নতুন বাজেটে সেজন্য বরাদ্দও রাখা হচ্ছে। এসময় গণবভনে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলও উপস্থিত ছিলেন এ অনুষ্ঠানে ।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত