জাপানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯, আহত শত মানুষ

গত ৬০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন আঘাত হানলো জাপানে। ‘হাগিবিস’ নামক এই ঘূর্ণিঝড়ে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে। এছাড়াও আহত হয়েছে প্রায় ১শ মানুষ। বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। জাপানের সংবাদমাধ্যম কিয়োদো নিউজ এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।

এই সুপার টাইফুনের ফলে জাপানের কেন্দ্রীয় অঞ্চল, পূর্বাঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। যার ফলে বন্যা ও ভূমিধসের মত ঘটনা ঘটেছে। সারাদেশে উদ্ধার অভিযানের জন্য ২৭ হাজার প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে রাজধানী টোকিওর দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় ইজু দ্বীপে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভূমিধস আঘাত হেনেছে। স্থানীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, টোকিও উপসাগরে পানামার একটি কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে। এতে ১২ ক্রু সদস্য ডুবে মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদের মধ্যে তিনজন মিয়ানমারের, সাতজন চীনের এবং দু’জন ভিয়েতনামের নাগরিক।

অপরদিকে স্থানীয় সময় রোববার সকালে অপর একটি জাহাজের চার ক্রু সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কয়েক লাখ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। জাপান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিবা, গানমা, ফুকুসিমা, টোচিগি এবং কানাগাওয়া এলাকায় কমপক্ষে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আরও ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার বেগে প্রচণ্ড ঝোড়ো বাতাস বয়ে যাচ্ছে। জাপানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এনএইচকের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শক্তিশালী টাইফুন হাগিবিসের প্রভাবে দুই লাখ ৭০ হাজারের বেশি বাড়ি-ঘর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার আগেই সরকার এক সতর্কবার্তা জারি করে বলেছে – ১৯৫৮ সালের পর সর্বোচ্চ শক্তিশালী সুপার টাইফুন জাপানে আঘাত হানতে যাচ্ছে। এই ঝড়ের প্রভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় টোকিওতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৭০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। প্রলয়ঙ্করী এই ঝড়ের কারণে দেশটিতে চলমান রাগবি ওয়ার্ল্ড কাপের দুটি ম্যাচ স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এমনকি রাজধানী টোকিও থেকে বিমানের সব ধরনের চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত