অষ্টম মুসলিম হিসেবে নোবেল পেলেন আবি আহমেদ

চলতি বছর শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ। আজ বিকেল ৩টায় তার নোবেল জয়ের ঘোষণা দেন নোবেল কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে আটজন মুসলিম ধর্মালম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিকে নোবেল দিয়েছেন নোবেল কর্তৃপক্ষ। আবি আহমেদের আগে আরো সাতজন নোবেল বিজয়ী হয়েছিলেন।

আবি আহমেদ ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী। তিনি আফ্রিকা মহাদেশের সর্বকিষ্ঠ সরকারপ্রধান। আবি আহমেদ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর ইরিত্রিয়ার সঙ্গে ইথিওপিয়ার পুরনো বৈরিতার অবসান ঘটে। মূলত, তার এই কাজের জন্যই তিনি নোবেল জয় করেন।

ইরিত্রিয়া এবং ইথিওপিয়ার মধ্যকার বৈরিতা অনেক কাল আগে থেকেই। ১৯৯৮ সালে এই দুই দেশের মধ্যকার একটি সীমান্ত যুদ্ধও হয়েছে। সেই যুদ্ধে দু’দেশের প্রায় ৭০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এরপর ২০০ সালে একটি দু’দেশ একটি শান্তিচুক্তি করলেও এই বৈরিতা কাটেনি।

আবি আহমেদের সরকার ক্ষমতায় আসার পর কয়েকটি পদক্ষেপ খুব দ্রুততার সাথে নেওয়া হয়েছিল। যেগুলো দেশে-বিদেশে ইথিওপীয়দের মনে আশা সঞ্চার করেছে। ক্ষমতায় এসেই তিনি হাজার হাজার রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দিয়েছেন, সেন্সরশিপের নামে বন্ধ থাকা শত শত ওয়েবসাইট চালু করেছেন, ইরিত্রিয়ার সঙ্গে ২০ বছর ধরে চলা যুদ্ধের ইতি টেনেছেন, রাষ্ট্রের জরুরি অবস্থা তুলে নিয়েছেন।

আগের সরকারের ক্ষমতাকালীন ইথিওপিয়ার মানুষগুলো অনেকটাই আতঙ্কে ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে দেশটির জনগন অনেক নির্ভিঘ্নে চলাফেরা করছে। কিন্তু কয়েক দশক ধরে যেটি তাদের জীবনে ছিল না।

ইথিওপিয়ায় ৯০টিরও বেশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আছে। সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলো একটি অন্যটির সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত। দশকের পর দশক দেশটির রাজনীতি যে ঘূর্ণাবর্তে ছিল, তাতে এ বিভেদ আরও বেড়েছে। সবচেয়ে বড় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাম ‘ওরোমো’।

দেশের মোট জনসংখ্যার তিন ভাগের এক ভাগ মানুষই এ সম্প্রদায়ের। প্রধানমন্ত্রী আবিও এ সম্প্রদায়ের। ইথিওপিয়ার অবস্থা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছিল যে, ওরোমো থেকে কেউ প্রধানমন্ত্রী না হলে গৃহযুদ্ধ নিশ্চিত। তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এখন শান্তির বার্তা ইথিওপিয়ার সর্বত্র।

আবি বিস্ময়করভাবে সব নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে সমান জনপ্রিয়। তার নিজের নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ও এর পেছনে অনেকাংশে দায়ী। তার বাবা ছিলেন ওরোমো মুসলমান এবং মা ছিলেন খ্রিস্টান। তিনি ওরোমো, আমরাহা, টাইগারি ও ইংরেজি ভাষায় সমান পারদর্শী।

মিনেসোটার ওই জনসভার ভাষণে তিনি ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রীয় তিনটি ভাষাই ব্যবহার করেছিলেন। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ সোমালিয়ার মানুষদের সম্মানে তিনি সোমালি ভাষায়ও কথা বলেছিলেন।

আবি আহমেদের আগে যে সাতজন মুসলিম নোবেল জিতেছিলেন তারা হলেন, নোবেল বিজয়ী প্রথম মুসলিম হলেন মিশরের রাজনীতিবিদ আনোয়ার আল সাদাত (২৫ ডিসেম্বর ১৯১৮ – ৬ অক্টোবর ১৯৮১)। তিনি ১৯৭৮ সালে নোবেল বিজয়ী হন।

২য় মুসলিম হিসেবে নোবেল জয় করেন ফিলিস্তিনির ইয়াসির আরাফাত (২৪ আগষ্ট ১৯২৯ – ১১ নভেম্বর ২০০৪)। তিনি শান্তিতে নোবেল জয়লাভ করেন ১৯৯৪ সালে। একইসাথে তিনিই একমাত্র ফিলিস্তিনি হিসেবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

৩য় মুসলিম হিসেবে নোবেল জয় করেন ইরানের মানবাধিকার কর্মী শিরিন এবাদি (জন্ম ২১ জুন ১৯৪৭)। তিনি প্রথম মুসলিম মহিলা যিনি শান্তিতে নোবেল (২০০৩) লাভ করেন। এছাড়াও তিনি প্রথম ও একমাত্র ইরানী যাকে শান্তির জন্য এই সম্মান প্রদান করা হয়।

৪র্থ মুসলিম হিসেবে নোবেল বিজয়ী হন মিশরীয় রাজনীতিবিদ মোহাম্মেদ এল বারাদেই (জন্ম ১৭ জুন ১৯৪২)। তিনি দ্বিতীয় মিশরীয়, যাকে শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়। ২০০৫ সালে তাকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

৫ম মুসলিম হিসেবে যে মানুষটি নোবেল জিতেছেন তিনি আমাদের বাংলাদেশীদের গর্ব। তিনি বাংলাদেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ ইউনূস (জন্ম ২৮ জুন ১৯৪০)। তিনি একমাত্র ও প্রথম বাঙ্গালী মুসলিম, যাকে শান্তির জন্য এই সম্মান প্রদান করা হয়। তিনি একমাত্র ও প্রথম বাংলাদেশী এবং তৃতীয় নোবেল (২০০৬) পুরস্কার বিজয়ী বাঙ্গালী।

৬ষ্ঠ মুসলিম এবং ২য় মুসলিম নারী হিসেবে নোবেল বিজয়ী (২০১১) হলেন ইয়েমেনের মানবাধীকার কর্মী তাওয়াক্কোল কারমান (জন্ম ৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯)। একজন বিশিষ্ট আরবীয় বসন্তের অগ্রদুত নেত্রী। তিনি প্রথম আরব মহিলা এবং একমাত্র প্রথম ইয়েমেনি, যাকে শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়। একইসাথে তিনিই প্রথম নারী এবং প্রথম ইয়েমেনি হিসেবে এই সম্মানে ভূষিত হন।

৭ম মুসলিম এবং ৩য় মুসলিম নারী হিসেবে নোবেলে (২০১৪) ভূষিত হন পাকিস্তানের মালালা ইউসুফজাই (জন্ম ১২ জুলাই ১৯৯৭)। তিনি পাকিস্তানের একজন মানবাধিকার কর্মী যিনি নারী ও শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করছেন। তিনি নোবেলের ইতিহাসে সবথেকে কনিষ্ঠ নোবেল বিজয়ী।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত