“ছাত্রলীগ অনেক ভালো কাজও করেছে”

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনা নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি এ ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন – আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের এক চুলও ছাড় দেওয়া হবে না।

বৈঠকে উপস্থিত একধিক আওয়ামী লীগ নেতাদের সূত্র থেকে জানা যায়, আবরার হত্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী খুবই মর্মাহত ছিলেন। বৈঠকের সময় তিনি খুবই বিমর্ষ ছিলেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন – শুধু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নই, একজন মা হিসেবে এ হত্যার বিচার করব। এ ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ধরনের ঘটনা অনাকাক্সিক্ষত। ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি। জড়িতদের ধরা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছি। তার পরও কীসের আন্দোলন? আমি তো ব্যবস্থা নিচ্ছি।

এদিকে গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সম্মেলনের তিনি বলেন – তাঁর দলের সবাই ভালো, তা বলা যায় না। নানা কারণে আগাছা-পরগাছা দলে অনুপ্রবেশ করেছে। ছাত্রলীগ অনেক ভালো কাজও করেছে। চাঁদের গায়েও খুঁত আছে। তবে গুটিকয়েক লোকের কারণে আওয়ামী লীগের বা ছাত্রলীগের অর্জন ম্লান হয়ে যেতে পারে না।

এসময় তিনি বলেছেন – বর্তমান সরকারের অনেক অর্জন রয়েছে। শেখ হাসিনার উন্নয়নের সুফল দেশবাসী ভোগ করছে। দেশে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। অপরাধীদের শাস্তি পেতেই হবে। সম্মেলনে তিনি আবরার হত্যার প্রসঙ্গ নিয়েও কথা বলেছেন।

সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন – প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে অপরাধ করে কেউ ছাড় পায়নি, পাবেও না। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে অপরাধ করে কেউ ছাড় পায়নি। অপরাধী সবাইকেই শাস্তি পেতে হয়েছে। আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপি এবং দলের নেতাদের বিরুদ্ধেও অপরাধের দায়ে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে।

সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন –  বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যাকাণ্ড খুবই দুঃখজনক। কেউ ভিন্নমতাবলম্বী হলেও তাকে মেরে ফেলা যায় না। এ ঘটনায় ৫ মিনিটের মধ্যে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কয়েকজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। অপরাধী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

বিএনপির শাসনামলে তাদের দলের একজন অপরাধীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এমন নজির নেই। বরং তাদের শাসনামলে হাওয়া ভবন সৃষ্টি করে দেশকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন – ছাত্রলীগও এ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তার পরও আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দলের কেউ অপরাধ করলে তাকে ছাড় দিচ্ছেন না।

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন – বাংলাদেশে আন্দোলনের একটু ঢেউও নেই, বিএনপির আন্দোলনে জনগণ সাড়া দিচ্ছে না। বিএনপির জনপ্রিয়তা এবার রংপুর নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থেকে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তিনি কখন কী বলেন, তা নিজেও জানেন না। জাতির পিতাকে হত্যার পর দেশে ২১ বছরের অপশাসনে মূল্যবোধের অবক্ষয় হয়েছে, সেখান থেকে জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা দেশকে তুলে এনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত