এক ল্যাপটপের দাম ৯ কোটি টাকা!

একটি ল্যাপটপের দাম কত হতে পারে? ২৫ হাজার থেকে শুরু করে ৫০ হাজার কিংবা  ১ লাখ টাকা হতে পারে। বাজারে অবশ্য ৫-৬ লাখ টাকা দামের ল্যাপটপও পাওয়া যায়। কিন্তু যদি বলা হয় এমন একটি ল্যাপটপের দাম ৯ কোটি টাকা! কিভাবে নেবেন কথাটি।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, এমনই একটি ল্যাপটপ বিক্রি হয়েছে ৯ কোটি টাকায়! কিন্তু এই ল্যাপটপটি ব্যবহার করা মানেই নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারার সমান। এই ল্যাপটপটি প্রযুক্তির দুনিয়ায় সবথেকে ভয়ংকর ল্যাপটপ হিসেবে খুবই পরিচিত।

কিন্তু কেন?

কি গোপনীয়তা আছে? যার জন্য ল্যাপটপটি এতো ভয়ংকর! এর পেছনের কারণগুলো জেনে নেওয়া যাক তাহলে- ভয়ংকর এই ল্যাপটপটি অন্যান্য সাধারণ ল্যাপটপের মতই। কিন্তু এর ভিতরেই আছে ভয়ংকর যত ম্যালওয়্যার। পৃথীবি কাঁপানো ভাইরাসগুলোর প্রায় সবকিগুলোই এই ল্যাপটপে ভর্তি।

সাইবার সিকিউরিটি সংস্থা ডিপ ইনস্টিংক্ট’র সঙ্গে যৌথ ভাবে ভয়ঙ্কর এই ল্যাপটপটি তৈরি করেছেন গুয়ো ডাং। এই ল্যাপটপের মধ্যে যে ভাইরাসগুলো আছে, সেগুলো পৃথীবির ৭৪টি দেশের কম্পিউটার সিস্টেমকে পুরো বিকল করে দিয়েছিল। ল্যাপটপটির নামও খুবই ভয়ংকর। এর নাম ‘পারসিসটেন্স অব কেওস’।

এই ল্যাপটপের কারণে গোটা বিশ্বে প্রায় ৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ল্যাপটপের মধ্যে ভয়ঙ্কর সব ম্যালওয়্যার ঢুকিয়ে দেয় ডিপ ইনস্টিংক্ট। ল্যাপটপের মধ্যে রয়েছে ক্রাই র‌্যানসমওয়্যার’র মতো ভয়ঙ্কর ম্যালওয়্যার। ২০১৭ সালে বিশ্বের ১৫০টি দেশে কম্পিউটার সিস্টেমে হামলা চালিয়েছিল এই ভাইরাস। যার জেরে ৪০০ কোটি ডলার ক্ষতি হয়।

এই ভয়ংকর ভাইরাস ছাড়াও এই ল্যাপটপে আরো আছে ‘ব্ল্যাক এনার্জি’ ম্যালওয়্যার। এই ম্যালওয়্যার ইউক্রেনসহ তার পার্শ্ববর্তী বিশাল এলাকা জুড়ে পাওয়ার গ্রিড বিকল করে দিয়েছিল। ল্যাপটপে রয়েছে আইলাভইউ ম্যালওয়্যার। একে লাভ বাগ বা লাভ পাকও বলা হয়। ২০০০ সালে ফিলিপিন্সে এই ম্যালওয়্যার এক কোটি উইন্ডোজ পার্সোনাল কম্পিউটারে হামলা চালায়।

এই ল্যাপটপে রয়েছে মাইডুম’র মতো ম্যালওয়্যারও। ২০০৪ সালে এই ম্যালওয়্যার হামলা হয়। দাবি করা হয়, এর পিছনে রাশিয়ার ইমেল স্প্যামারদের হাত রয়েছে। এ ছাড়াও এই ল্যাপটপে রয়েছে সো বিগ এবং ডার্ক টাকিলা’র মতো ভয়ানক ম্যালওয়্যার।

তবে নিউ ইয়র্কে নিলাম হওয়া এই ল্যাপটপটি থেকে যাতে কোনওভাবেই বা ম্যালওয়্যার ডাউনলোড করা না যায় বা ইন্টারনেট সংযোগ করা না যায় তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়ছে। ল্যাপটপটি আর্টপিস হিসেবেই তৈরি করেছিলেন গুয়ো ডাং। এই ল্যাপটপটিতে উইন্ডোজ এক্সপি অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত