খালেদার মুক্তি: এমপিদের দৌড়ঝাঁপ শুরু

তাৎক্ষণিকভাবে সরকারের তরফ থেকে এখনো কোনকিছু স্পষ্ট না করলেও বিএনপির সংসদ সদস্যদের দৌড়ঝাঁপে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি আবারো আলোচনায় চলে আসে। তাঁরা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এদিকে, গতকাল সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘অপেক্ষা করুন, গরম খবর আসছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সঙ্গে গতকাল বিকেলে সাক্ষাৎ করেন বিএনপিদলীয় চার সংসদ সদস্য। এর আগে সচিবালয়ে গিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ।

সচিবালয়ে সাক্ষাৎ শেষে সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন – এলাকার প্রয়োজনে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর কাছে গিয়েছিলাম। এ সময় নেত্রীর শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টিও তাঁকে অবহিত করি এবং জামিন পেলে আমরা ম্যাডামকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাব—এমনটা জানাই। বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন যাতে হয় সে জন্য তাঁকে অনুরোধ করি। সন্ধ্যায় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে প্যারোলের বিষয়ে কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন – না, এ ধরনের কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। তা ছাড়া প্যারোল নিয়ে আলোচনা করার আমরা কেউ নই। এমন বিষয়ে কেবল নেত্রীর পরিবারের সদস্যরাই কথা বলতে পারেন।’

বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, দলের হাইকমান্ডের সবুজ সংকেত নিয়েই এমপিরা সরকারি দলের সঙ্গে কথা বলছেন। জামিন হলে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়া আপাতত বিদেশে যেতেও রাজি আছেন। বিএনপির চাওয়া, জামিনপ্রক্রিয়ায় যেন সরকার হস্তক্ষেপ না করে। আর তাহলে খালেদা জিয়া আইনি প্রক্রিয়ায়ই মুক্তি পাবেন বলে দলটি মনে করে।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের পর বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য জি এম সিরাজ সাংবাদিকদের বলেন – আমরা সাতজন সংসদ সদস্য প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, আপনি নিজে এসে দেখে যান আমাদের তিন-তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে। আপনার মানবিক বোধ জাগ্রত হবে। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার কাছে আমাদের সবিনয় অনুরোধ, ম্যাডাম জিয়ার জামিনের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। আমলাতান্ত্রিক পরামর্শ না নিয়ে দয়া করে রাজনৈতিক দূরদর্শিতায় নেত্রীকে ছেড়ে দিন, জামিনের ব্যবস্থা করে দিন। আমাদের নেত্রী রাজনৈতিক বন্দি। এখানে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দরকার। তা ছাড়া ম্যাডামের মুক্তি হবে না।’

জামিনের বিষয়টি আদালতের ব্যাপার—আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে জি এম সিরাজ এমপি বলেন – রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া কি ম্যাডামের মুক্তি হবে? আজকে আমাদের সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিব্রত বোধ করেন তাঁর জামিনের বিষয়ে। পলিটিক্যাল ডিসিশন ছাড়া তাঁর মুক্তি হবে না।’

খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জি এম সিরাজ বলেন, বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে যাবেন। সেটা ম্যাডাম ও তাঁর পরিবারের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তবে আগে তো মুক্তি দরকার।’

বিদেশে যাওয়ার আগ্রহের কথা খালেদা জিয়া বলেছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জি এম সিরাজ বলেন, ‘এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। ম্যাডামের বক্তব্য হলো—তাঁর সুচিকিৎসা হচ্ছে না। তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালের ব্যক্তিগত চিকিৎসকের কথা বলেছেন। বিদেশ তো পরের কথা। লাগলে যাবেন।’ সমঝোতার কোনো বার্তা নিয়ে গিয়েছিলেন কি না প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা এসব কোনো বার্তার কথা জানি না।’

পরিবারের সদস্যরা দেখা করতে বিলম্ব হচ্ছে, সেখানে আপনারা সাক্ষাৎ পাচ্ছেন। সরকারের পক্ষ থেকে আপনাদের পাঠানো হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নারী সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন – একদমই না।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন – আমি সরাসরি প্যারোলের বিষয়ে ম্যাডামকে বলেছিলাম। ম্যাডাম বলেছেন—আমার জামিন হোক। দেশের আইন অনুযায়ী আমি এখনই জামিন পাওয়ার যোগ্য। কোনো অপরাধ আমি করিনি। সুতরাং এখানে প্যারোলের প্রশ্ন কেন আসবে?

সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে ধন্যবাদ জানিয়ে জি এম সিরাজ বলেন – একসঙ্গে চারজনের বেশি যাওয়ার বিধান না থাকায় আমরা সাতজন দুই দফায় নেত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি।

এর আগে বিকেল সোয়া ৩টায় একাদশ সংসদের তিন সংসদ সদস্য বগুড়া-৪ আসনের মোশাররফ হোসেন, বগুড়া-৬ আসনের জি এম সিরাজ, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমান জাহিদ ও সংরক্ষিত নারী আসনের রুমিন ফারহানা বিএসএমএমইউর কেবিন ব্লকে ছয়তলায় যান। তাঁরা সেখানে ঘণ্টাখানেক অবস্থান করেন। এর আগে গত মঙ্গলবার বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য উকিল আবদুস সাত্তার, হারুনুর রশীদ ও আমিনুল ইসলাম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত