লক্ষ্মীপুরে তথ্য আপার সহায়তায় ৬৫০ নারী পেল সেবা

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়াধীন জাতীয় মহিলা সংস্থা কর্তৃক বাস্তবায়নে তথ্য আপা: ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়) আওতায় গ্রামীন মহিলাদের জীবন ও জীবিকা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় যেমন: স্বাস্থ্যগত সমস্যা, বাল্যবিবাহ, ফতোয়া, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা, চাকরি সংক্রান্ত তথ্য, আইনগত সমস্যা এবং ডিজিটাল সেবাসমূহের নানাদিক (ই-মেইল, ভিডিও কনফারেন্স) সম্পর্কে অবহিত করে যাচ্ছে।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় তথ্যকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্যসেবা কর্মকর্তা শাহীন আক্তার সোনিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নির্দেশনায় তথ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে গ্রামীন মহিলাগণ সহজে বাড়িতে বসে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন, ব্যবসা, জেন্ডার এবং কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন তথ্যসেবা পাচ্ছেন। যা তাদের মধ্যে তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে এবং গ্রামীন মহিলারা নিজ ঘরে বসেই তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছেন। এই সেবা তাদের মধ্যে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে সাহায্য করছে।

সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের শিক্ষার্থী জোবেদা বেগম ও হোসনেয়ারা নুসরাত জানান, এইচএসসি পরীক্ষা পাস করেছি। বিভিন্ন জায়গায় চাকরির চেষ্টা করছি। তথ্যকেন্দ্রে তথ্য আপার কাছে গিয়ে অনলাইনে বিনা মূল্যে প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছি।

একই উপজেলার চাঁদখালী গ্রামের দেবর কর্তৃক নির্যাতিত রাহিমা বেগম বলেন – সম্প্রতি আমি বড় ধরনের সমস্যায় পড়ে তথ্য আপার সহযোগিতায় বিনা মূল্যে আইনি পরামর্শ পেয়েছি। ভবাণীগঞ্জ ইউনিয়নের চররুহিতা গ্রামের গৃহবধূ কুলছুমা বেগম বলেন – সম্প্রতি আমার বিয়ে হয়েছে। স্বামী খোঁজ খবর না নেয়ায় এবং আমার শারীরিক সমস্যার বিষয়ে তথ্য আপাকে জানিয়ে ছিলাম। তিনি তাৎক্ষণিক আমাকে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দেন। আমি তখন ঘরে বসে চিকিৎসাসেবা পেয়েছি।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্যসেবা কর্মকর্তা শাহীন আক্তার সোনিয়া বলেন – আমি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় বিগত ০৩/১২/১৮ ইং যোগদান করি। যোগদানের পর থেকে এ পর্যন্ত ৬৫০ জন গ্রামীণ মহিলা কে বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদান করি। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৫টি উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ২৫০ জন গ্রামীণ নারীকে বাল্যবিবাহ কুফল, যৌতুক নিরোধ আইন, পারিবারিক সহিংসতা এবং নারীনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে অবহিত করি।

তিনি আরও বলেন – উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা, শিক্ষা কর্মকর্তা, মৎস্য কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, সরকারি আইটি বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ইত্যাদি বিষয়ে রিসোর্স পারসন হিসেবে এই কর্মসূচির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মুক্ত আলোচনা করে থাকেন।

এ ধরনের লাভবান হচ্ছে গ্রামীণ সমাজের অবহেলিত ও অধিকার বঞ্চিত নারীরা। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বিনামূল্যে এ ধরনের সেবা অব্যহত থাকবে।

#মো: রবিউল ইসলাম খান, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত