একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের বাজারে আগুন!

গত কয়েকদিনেও বাংলাদেশি পেঁয়াজের দাম এবং ভারতীয় পেঁয়াজের দাম প্রায় সমান ছিল। বাংলাদেশি পেঁয়াজের মান একটু ভালো থাকায় ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদাটা বরাবরই কম। কিন্তু একদিনের ব্যাবধানে যেন বাজারে বাজ পড়লো। এক লাফে পেঁয়াজ উঠে গেল আকাশে!

একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি রোধে সে দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পেঁয়াজের রপ্তানিতে তিনগুন বারিয়ে দিয়েছে বলে বাংলাদেশে পেঁইয়াজের দাম বেড়েছে বলে কারণ দেখানো হয়েছে। ভারতীয় হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজগুলো সালাদ হিসেবে খাবার টেবিলে রাখা হয়।

তবে ভারত রপ্তানি নিরুৎসাহিত করতে পেঁয়াজের মূল্য তিন গুণ করেছে। কিন্তু এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে সঙ্গে সঙ্গে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশি মজুদকারী ও ব্যবসায়ীরা। সন্দেহ নেই, পিয়াজের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেকাংশে ভারতের ওপর নির্ভরশীল।

কিন্তু প্রতিবেশি দেশটিতে এ বছর ব্যাপকভাবে বন্যা আঘাত হানায় পিয়াজের উৎপাদন মার খেয়েছে; যা বাংলাদেশের জন্যও সংকট সৃষ্টি করেছে। ব্যবসায়ীরা অবশ্য ইতিমধ্যে মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পিয়াজ আমদানি শুরু করেছেন। মিয়ানমারে পিয়াজের দাম বেশ কম থাকায় এবং দ্রুত আমদানির সুযোগ থাকায় ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের বাজারে তা আসা শুরু করেছে।

চীন থেকেও পিয়াজ আমদানির উদ্যোগ চলছে। দেশে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় প্রতি বছরই বিপুল পরিমাণ পিয়াজ আমদানি করতে হয়। ভারতে কোনো কারণে উৎপাদন মার খেলে সংকট অনিবার্য হয়ে দাঁড়ায়। এই সাংবার্ষিক সংকটের অবসানে দেশে হাইব্রিড জাতীয় পিয়াজ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া দরকার। পাশাপাশি পিয়াজ সংরক্ষণের সুষ্ঠু ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

তাহলে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে তেমন ভোক্তারা সংকট থেকে রেহাই পাবেন। বর্তমানে এ সবজির বাজারে যে অস্থিরতা চলছে তা কাটিয়ে উঠতে মিয়ানমার ও চীন থেকে পিয়াজ আমদানির উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি। বাজার নিয়ন্ত্রণে সেটিই হবে প্রকৃষ্ট পথ।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত