এক হাজারে ভারতের ৩৬টি, পাকিস্তানের ৭টি, বাংলাদেশের নেই একটিও

ছবি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল।

২০১৬ সালে  লন্ডনভিত্তিক শিক্ষা বিষয়ক সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশনের বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিংয়ে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাতো বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অবস্থান ছিল ৬শ থেকে আটশর মধ্যে। কিন্তু দুই বছরের ব্যবধানে সেটি চলে গেছে এক হাজারের বাইরে।

প্রতিবারের মত এবারও লন্ডনভিত্তিক সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশনের বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিং প্রকাশ করেছে। তাতে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান এক হাজারের পরে।

এবার তালিকাটিতে ৯২টি দেশের ১৩শ বিশ্ববিদ্যালয় অন্তুর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর ১৩শ বিশ্ববিদ্যালয় করাতে বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই এই তালিকাতে স্থান পেয়েছে।

Oxford University

ছবি: অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়।

সাধারণত শিক্ষার পরিবেশ, গবেষণার সংখ্যা ও সুনাম, সাইটেশন বা গবেষণার উদ্ধৃতি, এখাত থেকে আয় এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বা সংশ্লিষ্টতাসহ ৫টি মানদণ্ড বিশ্লেষণ করে এই তালিকা তৈরি করা হয়। র‍্যাংকিংয়ে বিদেশী ছাত্রের ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছে শূন্য। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালটির ৪ হাজার ১০৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে কোন বিদেশী শিক্ষার্থী নেই কিংবা থাকলেও সেই সংখ্যা সন্তোষজনক নয়।

২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ছিলো  তবে এর বছর দুই পরেই এটির অবস্থান হঠাৎই নেমে যায়। ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান গিয়ে দাঁড়ায় এক হাজারেরও পরে। এ বছরই মে মাসে সাময়িকীটি এশিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছিল। সেই তালিকায় উল্লেখিত এশিয়ার ৪১৭ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়েরও উল্লেখ ছিল না।

সেসময় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার মান ও গবেষণার সুযোগ নিয়ে বিস্তর সমালোচনা হয়েছিল। এরমধ্যে আগের বছরগুলোর তুলনায় গবেষণা, উদ্ধৃতি এবং আয়- এই তিনটি খাতে উন্নতি হলেও ২০১৬ সালের পর থেকে ব্যাপকহারে নেমে গেছে শিক্ষার পরিবেশের গ্রাফ চিত্র।

Pakistan University

ছবি: পাকিস্তানের কায়েদি-ই-আজম বিশ্ববিদ্যালয়।

এদিকে, তালিকা লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারত এবং পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেশ ভালো করেছে। এই তালিকায় তিনশ থেকে শুরু করে এক হাজারের মধ্যে রয়েছে ভারতের ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়। এরমধ্যে ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

এমনকি রাজনীতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে অস্থিতিশীল দেশ পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থানও বাংলাদেশের চেয়ে ভালো। তালিকায় এক হাজারের মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানের ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্যে প্রথম ৫শ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে ইসলামাবাদের কায়েদ-ই-আজম ইউনিভার্সিটি।

এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে চীন এবং জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তালিকায় উঠে এসেছে উল্লেখযোগ্য হারে। এছাড়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত ইরানের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ও এ তালিকায় স্থান পেয়েছে। এদিকে, বরাবরের মতোই এই তালিকায় কর্তৃত্ব করছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এ বছরের তালিকার প্রথম ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৭টিই যুক্তরাষ্ট্রের।

যার মধ্যে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি, স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি, ইয়েল ইউনিভার্সিটি। তবে চতুর্থবারের মতো এবছরও তালিকায় প্রথম স্থানটি দখলে নিয়েছে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড। তৃতীয় স্থানে রয়েছে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি। আর দশম স্থানে রয়েছে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন।

Cambridge University

ছবি: কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়।

তালিকা নিয়ে এক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে যে, যুক্তরাজ্যের কথিত ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল’ অর্থাৎ অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ এবং লন্ডন ইউনিভার্সিটি বরাবরের মতোই খুব ভালো করছে। তবে এর ফলে যুক্তরাজ্যের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সুনাম ঢাকা পড়ে যাচ্ছে বলেও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

বলা হচ্ছে যে, জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ব্যাপক হারে উন্নতি করছে। ২০১৬ সালের পর থেকে প্রথম ২০০টির মধ্যে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৪টি থেকে কমে ২৮-এ নেমে এসেছে। কিন্তু এই তালিকায় জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা তিনটি থেকে বেড়ে ২৩টি হয়েছে।

টাইমস হায়ার এডুকেশনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে – এর মানে হচ্ছে জার্মানি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ব্রেক্সিটের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের গবেষণা অংশীদারিত্ব হারালে তহবিলের ক্ষেত্রে জার্মানির তুলনায় পিছিয়ে পড়তে পারে ব্রিটেন।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর লুইস রিচার্ডসন বলেন – অক্সফোর্ডের সফলতার পেছনে একটা বড় কারণ হচ্ছে বিশ্বের আরো অনেক খ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আমাদের গবেষণা সহযোগিতা। আর এ কারণে, ব্রেক্সিটে যাই আসুক না কেন, আমরা এই অংশীদারিত্ব আরো প্রসার এবং গভীর করা অব্যাহত রাখবো।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত