স্বাধীনতার পরে কোনো বাংলাদেশি ভারতে যায়নি – মির্জা ফখরুল

খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিত ও মুক্তির দাবিতে  জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানবন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে বিএনপি। সেখানে বক্তব্য প্রদান করেন- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি মন্তব্য করেন – স্বাধীনতার পর কোনো বাংলাদেশি ভারতে যায়নি।

মির্জা ফখরুল বলেন – আসামের নাগরিকপুঞ্জি (এনআরসি) ইস্যুতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্ত শুরু হয়েছে। বাংলাদেশকে বিপদগ্রস্ত করার চক্রান্ত শুরু হচ্ছে। আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই- কোনো বাংলাদেশি ভারতে যায়নি স্বাধীনতার পরে। এটি নিয়ে গভীর চক্রান্ত শুরু হয়েছে, বাংলাদেশকে আবারও বিপদগ্রস্ত করার জন্য।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে না পারায় সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন – নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে সরকার রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে পারছে না। কারণ তাদের সেই বৈধতা নেই, সাহস নেই। এদিকে আসাম (ভারতের আসাম) থেকে হুমকি দেয়া হচ্ছে, সেখান থেকে নাকি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বের করে আমাদের দেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে। আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই- কোনো বাংলাদেশি স্বাধীনতার পরে কখনও ভারতে যায়নি।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করে তিনি বলেন – দেশনেত্রী অত্যন্ত অসুস্থ। তার ডায়াবেটিস অত্যন্ত বেড়ে গেছে, গায়ের ব্যথা বেড়ে গেছে, তিনি কারও সাহায্য ছাড়া হাঁটতে-চলতে পারেন না। হুইলচেয়ারে চলছেন। কিন্তু এই সরকার, তার কর্মকর্তারা এবং ডাক্তাররা বলছেন, তিনি নাকি সুস্থ আছেন। অসুস্থ অবস্থায় তিনি দিন পার করছেন। আমরা তার সুচিকিৎসার জন্য আশু মুক্তি দাবি করছি।

সরকারকে হটিয়ে দিতে আন্দোলনে নামার ডাক দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন – এই সরকার ভোটের আগের রাতে ডাকাতি করে জোরজবরদস্তি করে ক্ষমতায় বসে আছে। তারা অন্যায়ভাবে দেশনেত্রীকে আটকে রেখেছে। কারণ একটিই- তিনি বাইরে থাকলে এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করবেন। এই অবৈধ সরকার রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে ফেলেছে। তাই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। ঐক্য সমুন্নত রাখতে হবে এবং সামনে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলে এই জালেম সরকারকে পরাজিত করতে হবে।

এসময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন – নিজেদের অধিকার- ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য এই সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতেই হবে। তাদের সরিয়ে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সর্বত্র লুটপাট চলছে অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন – আপনারা দেখছেন সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা কীভাবে লুট করছে; কীভাবে দুর্নীতি করছে। আজকে দুর্নীতির পাহাড় গড়ে তুলেছে। দুর্নীতির টাকা তারা দেশে-বিদেশে পাচার করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছে। বাংলাদেশের মানুষের প্রতি তাদের কোনো জবাবদিহি নেই। তারা বাংলাদেশের মানুষকে ভালোবাসে না বলেই গণতন্ত্রহীন একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করেছেন।

মানববন্ধনে স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও, খায়রুল কবির খোকন, মজিবর রহমান সরোয়ার, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, মফিকুল হাসান তৃপ্তি, যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কৃষক দলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত