মুসলিমরা আশুরায় রোজা রাখার নিয়ম জেনে নিন

আগামীকাল ১০ই মহররম। পবিত্র আশুরা। সারাবিশ্বের মুসলিম উম্মাহদের কাছে এই দিনটি অধিক তাৎপর্যময় এবং গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর পিছনে অনেকগুলো কারণ আছে। ইসলাম ধর্মমতে, এই দিনটিতে মহান আল্লাহ তায়ালা পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র কোরআন এবং হাদিস থেকে জানা যায়, এইদিনে পৃথিবী ধ্বংস হবে।

আশুরা কি? ইসলামিক পঞ্জিকা অনুযায়ী, মহররম হচ্ছে চন্দ্রবর্ষের প্রথম মাস। মহররমের অর্থ হচ্ছে অধিক সম্মানিত। মহররম মাসের ১০ তারিখ পবিত্র আশুরা হিসেবে পালন করা হয়। মহান সৃষ্টিকর্তার অনেক অলৌকিক ঘটনার সাক্ষি এই ১০ই মহহরম। একইসাথে নবী-রাসূলদের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা জড়িয়ে আছে এই দিনে। তাই ধর্মীয় দিক থেকে এই দিনটি মুসলিমদের কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন।

১০ই মহররম কি ঘটেছিল? আশুরার দিনেই পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে এইদিনে এবং ধ্বংসও হবে এইদিনে। ইসলাম ধর্মমতে, এই দিনে মহান আল্লাহ পৃথিবীর প্রথম মানব হযরত আদম (আ.) কে সৃষ্টি করেছেন। এই দিনে আল্লাহ নবীদের নিজ নিজ শত্রুর হাত থেকে আশ্রয় প্রদান করেছেন।

হযরত নুহ (আ.)-এর সময় একটি মহাপ্লাবন সংঘঠিত হয়েছিল। সেই মহাপ্লাবন শেষ হলে হযরত নুহ (আ.)-এর তৈরি নৌকা তরষ্কের জুদি পাহাড়ে গিয়ে থামে। যেদিন নৌকাটি থেমেছিল সেদিন ছিল ১০ই মহররম বা আশুরা।

এই আশুরার দিন হজরত ইব্রাহিম (আ.) জালিম বাদশাহ নমরুদের অগ্নিকুণ্ড থেকে নিরাপদে মুক্তি পেয়েছিলেন। এই দিন হজরত ইউনুস (আ.) মাছের পেট থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। আশুরার দিনে হজরত আইয়ুব (আ.) দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন।

সর্বশেষ ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে ওই দিনে ঐতিহাসিক কারবালা প্রান্তরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) সপরিবারে শাহাদাতবরণ করেন। এছাড়াও, ইহুদিরা আশুরা উপলক্ষে মহররম মাসের ১০ তারিখে রোজা রাখে।

আরও পড়ুন>>> তাজিয়া মিছিল নিয়ে ডিএমপির হুঁশিয়ারি

শিয়া সম্প্রদায় প্রতিবছর এই দিনটিকে খুব শোকের সঙ্গে পালন করেন। তারা এদিন বিভিন্ন মিছিল ও শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করে। তাজিয়া মিছিল নামক এক ধরণের শোক মিছিলের আয়োজন বাংলাদেশ, ইরান, ইরাকসহ কয়েকটি দেশে উল্লেখযোগ্যহারে দেখা যায়।

কিভাবে আশুরার রোজা রাখবেন? আশুরা উপলক্ষে মহররমের ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ মহররম তারিখে (অর্থ্যাৎ, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের ৯ এবং ১০ তারিখ অথবা ১০ এবং ১১ তারিখ) রোজা রাখা মুসলমানদের জন্য সুন্নত। এ ছাড়া মুসলমানরা আশুরার দিন উত্তম আহারের জন্য চেষ্টা করে থাকেন।

পবিত্র আশুরা নিয়ে হযরত মোহাম্মদ (সা.) কি বলেছিলেন? নফল রোজার মধ্যে আশুরার দিনে রোজা রাখা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ। সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী করিম (সা.) সাহাবিদের নির্দেশ দিয়েছেন – তোমরা ইহুদিদের থেকে ব্যতিক্রম করো, আশুরার একদিন আগে বা একদিন পরেও রোজা রাখো।

অর্থাৎ, ১০ মহররমের সঙ্গে ৯ বা ১১ মহররম মিলিয়ে অন্তত দুটি রোজা রাখতে বলেছেন, যাতে ইহুদিদের সঙ্গে সাদৃশ্য না হয়। আশুরার দিন রোজা রাখা সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেছেন – আশুরার দিনের রোজার ব্যাপারে আল্লাহ পাকের কাছে আমি আশাবাদী যে তিনি এক বছর আগের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। [মুসনাদে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.)]

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত