সাকিবদের সামনে জিতলে রেকর্ড, হারলে লজ্জা

চট্টগ্রাম টেস্টে নিজেদের পাতা ফাঁদে নিজেরাই পড়ে এখন হাপিতাস করেছে বাংলাদেশ। স্পিন সহায়ক পিচ করে আফগানদের আটকাতে গিয়ে উল্টো আফগানদের স্পিনবিষে নীল হয়ে গেল সাদমান, সাকিবরা। এখন সামনে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে হারের লজ্জা।

আফগানিস্তান মাত্রই নিজেদের প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেছে। আর ১৯ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে খেলতে নামা বাংলাদেশ দল তাদের কাছে হারের লজ্জা পাওয়ার অপেক্ষায় আছে মাত্র। চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থদিনের খেলা বৃষ্টির কারণে বন্ধ হয়ে আছে।

এখন বাংলাদেশের সামনে দুইটি রাস্তা। সাকিবদের রেকর্ড করে জিততে হবে আর না হলে হারের লজ্জা নিয়ে ম্যাচটি শেষ করতে হবে। আজকে বৃষ্টি যদি কালও হয়, তবেই বাংলাদেশ হার এড়াতে হবে। তবে এই ম্যাচে জয় পাওয়াটা বাংলাদেশের জয় পাওয়াটা অনেকটাই অসম্ভব। আগের সমীকরণ এমনটাই ইঙ্গিত করছে।

চট্টগ্রামের মাঠে বাংলাদেশ চতুর্থ ইনিংস ব্যাটিং করে কখনোই জিততে পারেনি। আছে মাত্র ৩টি ড্র, যার একটি আবার বৃষ্টির কল্যাণে। অতিতে চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান ছাড়া বাকীরা নিজেদের মেলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন।

চতুর্থ ইনিংসে সাকিব ১৯ ইনিংসে ৪১.৮৮ গড়ে করেছেন ৬৭০ রান করেছেন। বাকীদের মধ্যে মুমিনুল হক ১২ ইনিংসে ৩৬.২০ গড়ে ৩৬২ রান। মুশফিকুর রহিম ৩৬.১৬ গড়ে ২১ ইনিংসে ৬৮৭ রান। এই তিনজন বাদে চতুর্থ ইনিংসে বাকি ব্যাটসম্যানদের পরিসংখ্যান এতটাই লজ্জাজনক যে না বলাই ভালো।

ইতিহাসের এই প্রতিকূলতায় বাংলাদেশ কতখানি টিকে থাকতে পারবে সেটিই এখন দেখার বিষয়। চট্টগ্রামের তৃতীয় দিন শেষে দুই উইকেট হাতে রেখে আফগানিস্তান ৩৭৪ রানের লিড পেয়ে গেছে। চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ২১৫ রান তাড়া করার রেকর্ড আছে বাংলাদেশের।

গোটা ক্রিকেটবিশ্ব জানে, বাংলাদেশ আবেগ দিয়ে ক্রিকেট খেলে। বিশেষজ্ঞরা বারবার এই ‘আবেগ’ কমিয়ে পেশাদার হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ক্রিকেট বিষয়ে বোর্ড কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ বন্ধের জন্য গণমাধ্যমে রিপোর্টও হয়েছে বহুবার। খেলায় হার-জিত থাকতেই পারে।

তার মানে এই নয় যে, নবীনতম একটি দলের কাছে ঘরের মাঠে অপেশাদার ক্রিকেট খেলে হারতে হবে! এই হার অবশ্যই লজ্জার! এখন দেখার, বৃষ্টি এই লজ্জার হাত থেকে বাংলাদেশকে বাঁচাতে পারে কিনা।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত