ক্রিকেটের ১৩০ বছরের ইতিহাস পালটে দিল মালিঙ্গা!

সময়টা ছিল ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ম্যাচ। প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা তখন ম্যাচটা জিতে যাবে সবাই ধরেই নিয়েছে, বাকী চলছে আনুষ্ঠানিকতা। কেউ চ্যানেল ঘুরিয়ে নিলেন কেউ টিভির সামনে থেকে উঠে চলে গেলেন। কিন্তু সেদিন মাঠে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ শাক্ষি হয়েছিল এক ইতিহাসের।

দক্ষিণ আফ্রিকার নিশ্চিত জয়ী হওয়া ম্যাচে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল শ্রীলঙ্কার ফাস্ট বোলার লাসিথ মালিঙ্গা। ম্যাচের ৪৫তম ওভার, জয়ের জন্য প্রোটিয়াদের দরকার ছিল ১০ রান, হাতে আছে ৫ উইকেট। বোলিংয়ে আসলেন লাসিথ মালিঙ্গা। প্রথম চার বলে দিলেন ৬ রান।

এরপর টানা দুই বলে দুই উইকেট তুলে নিলেন মালিঙ্গা। ২০৬ রানে ৫ থেকে ৭ উইকেটে চলে গেল আফ্রিকান দেশটি। এরপরের ওভারে অবশ্য এক রান এল। ৪৭তম ওভারে আবারও মালিঙ্গা। এবার প্রথম বলেই উইকেট তুলে হ্যাটট্রিক করে ফেললেন তিনি। কিন্তু ইতিহাস রচনা তখনই হয় যখন এরপরের বলে আবারও উইকেট নেন, টানা চার বলে চার উইকেট! ইতিহাস রচনা হয়ে গেল।

যদিও সে ম্যাচটি হেরে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু গতকাল আর সেটি হতে দেননি মালিঙ্গা। গতকাল রাতে যা করলেন তিনি সেটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ১৩০ বছরে এমনটা দেখেনি কেউ। টানা চার বলে চার উইকেট পাওয়ার কাজটা যে কতটা কঠিন, সেটা গত ১২ বছরেও বোঝা গেছে। এটা সম্ভব জানার পরও কেউ করে দেখাতে পারেননি। মালিঙ্গাই তাই দায়িত্ব বুঝে নিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে উপহার দিলেন আরেকটি ডাবল হ্যাটট্রিক!

টোয়েন্টি সিরিজ আগেই জিতে গেছে নিউজিল্যান্ড। তাই আজকের ম্যাচ নিয়ে তাই খুব একটা আগ্রহ ছিল না কারও। গতকাল শ্রীলঙ্কা আগে ব্যাটিং করে তুলতে পেরেছিল মাত্র ১২৫ রান। খেলার এই অবস্থা দেখে ২০০৭ বিশ্বকাপের ম্যাভচটির মত হয়তো দর্শক আবারও খেলা দেখা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। তাহলে বলবো সেদিনের মত আজকেও তারা ইতিহাসের সাক্ষিবঞ্চিত হয়েছে।

বিনা উইকেতে ১৫ রান তুলে ফেলা নিউজিল্যান্ডের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল তৃতীয় ওভারে। তৃতীয় বলে কলিন মানরোকে আউট সুইঙ্গারে (মানরোর জন্য ভেতরে ঢোকা বল) বোল্ড করলেন মালিঙ্গা। তাতেই প্রথম বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে উইকেটের সেঞ্চুরি হয়েছে মালিঙ্গার।

পরের বলটিও আউট সুইঙ্গার ছিল। এলবিডব্লুর দাবিতে সাড়া দেননি আম্পায়ার। কিন্তু মালিঙ্গা রিভিউ নিতে দেরি করেননি। আউট হতেই হলো রাদারফোর্ডকে। পরের বলটি মোকাবিলা করতে নেমেছিলেন টানা দুই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে জয় এনে দেওয়া কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। মালিঙ্গার এক ইয়র্কার তাঁকেও ফেরত পাঠাল ড্রেসিং রুমে, হ্যাটট্রিক! একমাত্র বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে দুটি হ্যাটট্রিকের মালিক হলেন মালিঙ্গা।

ইতিহাস গড়ার বাকি ছিল এরপরও। ওভারের শেষ বল খেলার দায়িত্ব পেয়েছিলেন রস টেলর। আরেকটি অবিশ্বাস্য ইয়র্কার গিয়ে আঘাত হানল টেলরের প্যাডে। জোরালো আবেদন আর আম্পায়ারের আঙুল ওপরে উঠতেও দেরি হয়নি। চার বলে চার উইকেট, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দ্বিতীয় ডাবল হ্যাটট্রিক।

২০০৭ বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি হলো, আবার হলো না। সেবার সব উইকেটই ছিল রিভার্স সুইংয়ে, ভেতরে ঢোকা বলে। এবারের ঘটনা নতুন বলে, আউট সুইং আর লেট সুইং দিয়ে। একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে পাঁচটি হ্যাটট্রিকের কীর্তি তো আর এমনি এমনি হয়নি তাঁর।

এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েও থামেননি মালিঙ্গা। নিজের তৃতীয় ওভারেও আরেকবার আঘাত হেনেছে। তিন ওভারে ৫ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে শেষ করে দিয়েছেন। ১০ ওভার শেষে ৯ উইকেটে ৫২ রান করেছে নিউজিল্যান্ড।


চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং পাশাপাশি সকল চাকরির প্রস্তুতি প্রকাশ করা হয় । এছাড়া দিনের ব্রেকিং নিউজ সবার আগে পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন:facebook-button-join-group

সরকারি এবং বেসরকারি চাকুরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পেতে facebook-button-join-group

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত