ব্যর্থ হল ভারতের চন্দ্রাভিযান! দুঃখের হাসি দিলেন মোদী

এতদিন রাশিয়া, চীন এবং আমেরিকা চাঁদের পৃষ্ঠে সফলভাবে মহাকাশযান পাঠাতে সক্ষম হয়েছিল। এরপর ভারত চাঁদে মহাকাশ যান পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে ২০০৮ সালে প্রথম চন্দ্রযান-১ নামের একটি মহাকাশযান পাঠিয়েছিল। তবে ওই চন্দ্রযানের কোন ল্যান্ডার ছিল না। তাই সেটি চাঁদে অবতরণ করানো হয়নি।

এরপর ভারত চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করার জন্য একটি মহাকাশযান প্রস্তুত করেছিল, যেটির নাম দেওয়া হয়েছে চন্দ্রযান-২। কিন্তু এবার চাঁদের পৃষ্ঠে সফলভাবে অবতরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে মহাকাশযানটি। গত ২২ জুলাই শ্রীহরিকোটা থেকে চন্দ্রযান-২ উৎক্ষেপণ করেছিল ইসরো।

চন্দ্রযান-২ তৈরি করা হয়েছিল চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করার জন্য। যদি এটি ব্যর্থ না হতো তাহলে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সর্বপ্রথম মহাকাশযান করানোর স্বীকৃতি পেত ভারত। কিন্তু অবতরণের কয়েক সেকেন্ড আগে ল্যান্ডারের সঙ্গে এর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর বিজ্ঞানীরা।

শুক্রবার স্থানীয় সময় দিবাগত রাত ১.৫৫টার দিকে জানা যায় মিশন সফল হচ্ছে না। এমন ঘটনায় উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখছেন তারা। ইসরো জানিয়েছে, চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে ২ কিলোমিটার ১০০মিটার দূরত্বে শেষ সঙ্কেত পাওয়া যায় ল্যান্ডার বিক্রমের থেকে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয় – পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রাত ১টা৩৮ মিনিটে শুরু হয় বিক্রমের অবতরণ প্রক্রিয়া। সেকেন্ডে ১.৮ কিলোমিটার থেকে যানের গতিবেগ কমিয়ে আনা শুরু হয় শূন্যে। সেই লক্ষ্যে শুরু হয় হার্ড ব্রেকিং। নিখুঁত হার্ড ব্রেকিং পর্বের পর ফাইন ব্রেকিং পর্ব শুরু হতেই দেখা দেয় বিপর্যয়। সেই পর্যায়ে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ইসরোর কন্ট্রোল সেন্টারের সঙ্গে যাবতীয় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় যানটির।

ইসরোর প্রধান বিজ্ঞানী কে শিবান বলেন – বিক্রম ল্যান্ডার ছিল পরিকল্পিত এবং ২.১ কিলোমিটার পর্যন্ত স্বাভাবিক লাগছিল। পরবর্তীকালে পৃষ্ঠের সঙ্গে ল্যান্ডারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। রাত ১ টা ৪০ নাগাদ কক্ষ ছেড়ে চাঁদে নামতে শুরু করে ল্যান্ডার বিক্রম। ইসরো সূত্রে বলা হয়েছিল, সব ঠিক থাকলে রাত ১টা ৫৩ মিনিটে চাঁদের মাটিতে পা রাখবে ভারতের চন্দ্রযান।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতীয় বিজ্ঞানীদের উদ্দ্যেশে বলেন – আপনাদের জন্য গর্বিত দেশ।’ চন্দ্রপৃষ্ঠ ছোঁয়ার কয়েক সেকেন্ড আগেই চন্দ্রায়ণ-২ এর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার ঘটনাটি মোদীকে জানান ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবান। ইসরোর কন্ট্রোলরুমে নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘এটা জীবনের উত্থান ও পতন। এটা কম কৃতিত্ব নয়। আমি আপনাদের অভিন্দন জানাই।’

প্রসঙ্গত, রাত দেড়টা থেকে আড়াইটার মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নামার কথা ছিল চন্দ্রযান-২ এর ল্যান্ডার বিক্রমের। ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ ল্যান্ডার থেকে বেরিয়ে আসার কথা ছিল রোভার ‘প্রজ্ঞান’। এরপরই চাঁদের মাটিতে ঘুরে ঘুরে তথ্য যোগাড়ের কাজ শুরু করতো এই রোভার।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত