১৫০ নৌকা বিদ্রোহী শোকজ নোটিশ পাচ্ছেন আগামীকাল!

গত ১৩ জুলাই বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় প্রধানমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর বিরোধিতা, বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমর্থন ও তাদের হয়ে কাজ করার অভিযোগে শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছেন কয়েকডজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য।

তাদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শাও নোটিস জারি করতে যাচ্ছে দলটি। আগামীকাল শনিবার থেকে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হতে পারে।

অন্যদিকে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে যারা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন, সেই বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে আওয়ামীলীগ। প্রথম পর্যায়ে তাদের দলীয় সদস্য পদ স্থগিত করা হবে। পরবর্তীতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে তাদের দেওয়া বক্তব্য পর্যালোচনা করে বাড়তি শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে দলটির একাধিক উপদেষ্টা, কেন্দ্রীয় নেতা, জেলা ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় নেতাও এই শাস্তির আওতায় আছেন। অনেকেই এ অপরাধে দলীয় পদ হারাতে পারেন। তবে শুধু স্থানীয় সরকার নির্বাচন নয়, দল ও দলের বিভিন্ন কর্মসূচীতে যারা শৃঙ্খলা ভেঙ্গেছেন, সেসব নেতারাও শাস্তির কবলে পড়তে পারেন।

এই কার্যক্রমটি আগস্ট মাস শোকের মাস দেখে বন্ধ ছিল। কিন্তু এখন এই অভিযোগ গুলো যাচাই-বাছাই করে দোষিদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর থেকে অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠানো শুরু হবে।

আজ শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সভা শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের  বলেন – চলতি বছরে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করায় অন্তত দেড় শ নেতাকে শোকজ করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। কাল রোববার থেকে এই শোকজ নোটিশ সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাছে পাঠানো হবে।

আজ সকালে দলের যুগ্ম ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন – উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সময় যাঁরা দলের প্রার্থী ও দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ছিলেন, তাঁদের শোকজ করার সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছে।

সে প্রেক্ষিতে অন্তত দেড় শ নেতাকে শোকজ করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ, জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন – আজ সেটা বাস্তবায়নের প্রসেস কীভাবে দ্রুত করা যায়, সেটা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। কাল থেকে ১৫০টির মতো শোকজ নোটিশ তৈরি হবে।

শোকজের জবাবের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তিন সপ্তাহ সময় দেওয়া হবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন – বিদ্রোহী হতে দলের যাঁরা জ্যেষ্ঠ নেতা, কেন্দ্রীয় নেতা বা সাংসদ-মন্ত্রী, মদদদাতারা ভূমিকায় ছিলেন, তাঁদের শোকজ করা হবে।

ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এনামুল হক শামীম, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বি এম মোজাম্মেল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত