কমছে রুপির দাম, বাড়ছে টাকার দাম

বাংলাদেশের ১০০ টাকায় এখন পাবেন ৮৬ রুপি। অর্থ্যাৎ, ভারতের ১টাকা পেতে হলে বাংলাদেশি টাকায় ১.১৪ টাকা খরচ করতে হবে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার দাম কমে যাওয়া। বর্তমানে এক ডলারে (ইউএসডি) বিপরীতে ভারতীয় রুপির দাম ৭২ দশমিক ২৮ পয়সা।

টাকার বিপরীতে রুপির দর আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছে ওয়ালেট ইনভেস্টর নামে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। তাদের ধারণা, ২০২৪ সাল নাগাদ রুপি ও টাকার মান সমান হতে পারে। কিংবা টাকার মান বেশি হতে পারে।

এ ব্যাপারে সংশ্লীষ্টদের কাছ থেকে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ প্রকট হওয়ায় এর প্রভাব পড়ছে এশিয়ার একাধিক দেশের মুদ্রার ওপর। এর জেরেই ডলারের চাহিদা বেড়েছে। ফলে কমছে রুপির দর। একই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভারতের শিল্পক্ষেত্রের মন্দা বাজারও। এছাড়া ভারতের শেয়ারবাজার সূচকের তীব্র হ্রাসও রুপির দরপতনে প্রভাব ফেলছে।

তবে এর ফলে অর্থনীতিবিদরা বাংলাদেশের উপকারের থেকে ক্ষতিই দেখছেন বেশি। অর্থনীতিবিদরা বলেন – টাকার বিপরীতে রুপির দর কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ থেকে যারা বেড়াতে বা চিকিৎসার জন্য ভারতে যাচ্ছেন তাদের সুবিধা হলেও বৈদেশিক বাণিজ্যে ভারতের চেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে বাংলাদেশেরই।

বাংলাদেশের টাকার দাম এবং ভারতীয় রুপির দাম সর্বশেষ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রায় সমান ছিল। কিন্তু এরপরই বাংলাদেশের টাকারা দাম কমতে শুরু করে। তবে এ বছর গত আগস্ট থেকে ভারতীয় রুপির দাম প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন – ভারতীয় রুপির বিপরীতে বাংলাদেশের টাকা শক্তিশালী হওয়ায় রফতানি বাণিজ্যে দেশটির সঙ্গে প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। যদিও ভারত থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে মিলছে বাড়তি সুবিধা। তবে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভারতীয় পণ্যের অবাধ আমদানি হলে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়বে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ বলেন – ডলারের বিপরীতে রুপির দরপতন হওয়ায় বাংলাদেশের টাকা শক্তিশালী হচ্ছে। এতে ভারত থেকে আমাদের পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে কিছুটা বাড়তি সুবিধা হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি বাণিজ্যে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় পিছিয়ে পড়ছে।

তবে রুপির দাম এভাবে দীর্ঘমেয়াদে কমতে থাকলে বাংলাদেশের জন্য খুব বড় আকারে ক্ষতি হয়ে যেতে পারে বলে মনে করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) গবেষক খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

তিনি বলেন – যদি দীর্ঘ মেয়াদের জন্য টাকার বিপরীতে রুপির দর কমে যায় তাহলে বাংলাদেশেরই বেশি ক্ষতি হবে। ডলারের বিপরীতে রুপি কমে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় পণ্যের চাহিদা বাড়বে। কারণ, ক্রেতারা কম দামে ভারতীয় পণ্য কিনতে পারবে। পক্ষান্তরে বাংলাদেশি পণ্য কিনতে ক্রেতাদের বেশি টাকা খরচ করতে হবে। এতে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা কমে যেতে পারে।

জানা গেছে, ভারতে বাংলাদেশি পণ্য রফতানির তুলনায় সেখান থেকে আমদানির পরিমাণ অনেক বেশি। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য রয়েছে ৮০০ কোটি ডলারের মতো। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে গত অর্থবছরে ভারতে রফতানি হয়েছে ১০০ কোটি ডলারের পণ্য। বাকি ৭০০ কোটি ডলারের বেশি পণ্য ভারত থেকে আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এর বাইরে চিকিৎসা, শিক্ষা, ভ্রমণসহ বিভিন্ন কারণে এখন বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ভারতে যাচ্ছেন।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত