মুঠোফোনে প্রেমিকার ক্ষুদে বার্তা: আমি কিন্তু সত্যি মরে যাচ্ছি!

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সুলতানা ওরফে সোনালী (১৭) নামের এক কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা করার খবর পাওয়া গেছে। সে বাগাতিপাড়ার মালিগাছা গ্রামের সুমন রেজার মেয়ে। নিহত সোনালী লোকমানপুর কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

সোনালীর আত্মহত্যায় পরিবার থেকে পরিবার থেকে অভিযোগ আসে যে, সোনালীর কথিত প্রেমিকের কুরুচিপূর্ণ খুদে বার্তা পেয়ে সে আত্মহত্যা করে। তারা এখন ছেলেটির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ঘটনার পর থেকে সোনালীর কথিত প্রেমিক পলাতক।

ওই ছাত্রীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, একই কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র রোকন সরকারের (১৮) সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল সোনালীর। সম্প্রতি রোকন ও সোনালীর মধ্যে ভুল–বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। রোকন মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে সোনালীর চরিত্র নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। মঙ্গলবার রাতে সোনালী মুঠোফোনে ভুল–বোঝাবুঝির অবসান ঘটানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু রোকন তাঁকে ১৭ বার খুদে বার্তা পাঠিয়ে অশ্লীল ভাষায় কটূক্তি করে খুদে বার্তা পাঠান।

সর্বশেষ রাত দেড়টার দিকে সোনালী রোকনকে সর্বশেষ খুদে বার্তা পাঠায়। সেখানে সোনালী বলেছিল – আমি কিন্তু সত্যি মারা যাচ্ছি। এর উত্তরে রোকন তাকে মরে যেতে উদ্বুদ্ধ করে খুদে বার্তা দেন। পরে মেয়েটি নিজ ঘরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।

সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুলিশ এসে সোনালীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালে পাঠায়। এ সময় পুলিশ তার ব্যবহৃত মুঠোফোন জব্দ করে। একই সঙ্গে পুলিশ মুঠোফোনের খুদে বার্তার স্ক্রিন শর্ট আলামত হিসেবে সংরক্ষণ করে।

নিহত ছাত্রীর বাবা সুমন রেজা জানান, তিনি পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেডে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে এবং তাঁর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন একই ইপিজেডে একটি কোম্পানির পোশাককর্মী হিসেবে চাকরি করেন। চাকরির কারণে তাঁরা দুজনই বাড়িতে থাকেন না। ঘটনার দিন রাতে দুই মেয়ে সোনালী ও স্বর্ণা বাড়িতে ছিল।

মেয়ের মারা যাওয়ার খবর পেয়ে গতকাল বুধবার সকালে তাঁরা দুজনে বাড়িতে আসেন। তিনি অভিযোগ করেন, রোকন নামের ছেলেটা তাঁর মেয়েকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।

লোকমানপুর কলেজের অধ্যক্ষ ফারুখ হোসেন বলেন – তাঁর কলেজের ছাত্র রোকনের সঙ্গে ছাত্রী সোনালীর প্রেমের সম্পর্কের বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না। তবে সোনালীর আত্মহননের বিষয়টি তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।

বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম শেখ বলেন – খবর পেয়ে আমি এবং নাটোরের সহকারী পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত রোকনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তিনি পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত