রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চারদিকে দেওয়া হচ্ছে কাঁটা তারের বেড়া!

সশস্ত্র বাহিনী চেয়েছিল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চারদিকে কাঁটাতারের বেড়া বা সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করতে। এ ব্যাপারে একমত হএয়ছে প্রতিরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।

সশস্ত্র বাহিনী নিরাপত্তার স্বার্থে এই সীমানাপ্রাচীর তৈরি করতে চাইছে বলে কমিটি সূত্রে জানা গেছে। একইসাথে ক্যাম্প থেকে যাতে একজনও বের না হতে পারে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।

বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির তৃতীয় বৈঠকে রোহিঙ্গা এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান, মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা, মো. মোতাহার হোসেন, মো. মহিববুর রহমান ও নাহিদ ইজাহার খান অংশ নেন।

বৈঠকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় সেনাবাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয় – সেনাবাহিনীর সাতটি ক্যাম্পের মাধ্যমে ওই এলাকায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিয়ে আসছে। বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের ক্যাম্প এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনী প্রতিদিন ২১টি যৌথ টহলের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছে।

বর্তমানে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও পাহাড়ি এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ছেড়ে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ জন্য ক্যাম্প এলাকায় উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কাঁটাতারের বেড়া বা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা জরুরি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সদস্য মুহম্মদ ফারুক খান বলেন – আমরা দেখতে পেয়েছি অনেক রোহিঙ্গা সেখান থেকে বেরিয়ে এদিক সেদিক যাচ্ছে। এজন্য আমরা সেখানকার নিরাপত্তা নিশ্চিতের সুপারিশ করেছি। কেউ যেন ক্যাম্প থেকে বের হতে না পারে, আবার কেউ যেন ক্যাম্পে ঢুকতে না পারে সেটা দেখতে বলেছি। নিরাপত্তা যথাযথভাবে দিতে বলেছি।’

বৈঠকে সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লে. জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান রোহিঙ্গা ইস্যুতে বলেন – রোহিঙ্গা শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য হুমকি। রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ১২-১৭ বছরের শিশু রয়েছে প্রায় চার লাখ। এরা কোনো ধরনের শিক্ষা না পাওয়ায় ভয়াবহ পরিণতির দিকে যাচ্ছে। এরা সুযোগ পেলে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ার চেষ্টা করবে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনও তাদের কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আখতার হোসেন ভূইয়াসহ অন্যান্য কর্মকর্তা, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত