বিএসএফ এর গুলিতে দুই দিনে ১১ বাংলাদেশি আহত

রাজশাহী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে অন্তত ১০ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে রাজশাহীর চরখানপুর সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের দাবি, জমিতে ফসল বোনার সময় ট্রাকে করে এসে বিএসএফ সদস্যরা অতর্কিতে তাদের ওপর শর্টগানের গুলি ছুড়েছে।

আহতরা হলেন—চরখানপুর গ্রামের রুমন (২৩), সুজন (২৩), সোহেল (২৮), দুলাল (৩৫), রবিউল (৩২), রুবেল (২৫), দুলাল (৪০), জটু (৪০), সুরুজ (১৯) ও সুমন (৩০)। তারা সবাই পেশায় কৃষক। রাজশাহীর বিভিন্ন হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আহতরা জানান, সকালে তারা বাংলাদেশ সীমানার মধ্যে জমিতে কাজ করছিলেন। এসময় বিএসএফ সদস্যরা এসে গুলি ছুড়তে শুরু করলে তারা দিকবিদিক ছুটতে শুরু করেন। গুলিতে আহত হন অন্তত ১০ জন। বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশের সীমানার ভেতরে প্রবেশ করে তাদের হাঁসুয়া ও কোদাল জব্দ করে নিয়ে যান।

এ বিষয়ে বিজিবি-১ রাজশাহী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল ফেরদৌস জিয়াউদ্দিন মাহমুদ বলেন – বিএসএফের ছোড়া ছররা গুলিতে বাংলাদেশি তিন কৃষক আহত হয়েছেন বলে খবর পেয়েছি। শর্টগান দিয়ে এলোপাতাড়ি রাবার বুলেট ছোড়া হয়েছে বলে শুনেছি। এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে লালমনিরহাটের প্রতিনিধি সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা সীমান্তের ভারতের অভ্যন্তরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি এক গরু পারাপারকারী নিহত হয়েছে। এতে অপর আহত একজনকে আটক করে নিয়ে গেছে বিএসএফ সদস্যরা।

বিজিবি ও সীমান্ত সূত্রের বরাত দিয়ে বিডি৩৬০ নিউজ প্রতিনিধি জানান, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সীমান্তের ডিএমপি ৩ নম্বর পিলারের নিকট দিয়ে বেশ কয়েকজন রাখাল অবৈধভাবে গরু পারাপার করতে থাকে। এ সময় ভারতীয় উড়াল ক্যাম্পের টহল দলের বিএসএফ সদস্যরা তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে।

ছোঁড়া গুলিতে ঘটনাস্থলে নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে বাবুল হোসেন কালু (৪২) নিহত হয়। এ ঘটনায় আহতাবস্থায় একই উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের ঝারশিংহের চর এলাকার গোলজার হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলামকে আটক করে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ।

৫১ বিজিবি পানবাড়ী কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন – নিহত ও আহত আটক ব্যক্তি আমার এলাকার বাসিন্দা নয়। আমার দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তে ওই ঘটনা হওয়ায় বিষয়টি ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এ ব্যাপারে ৫১ বিজিবি রংপুর ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত