এখন থেকে ট্রেনের ছাদে উঠা মানেই কড়া শাস্তি

ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করতে আমরা অনেককেই দেখেছি। অনেকে শখের বসে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করে, অনেকে আবার অন্যকোন উপায় না পেয়ে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করে। আমাদের দেশে ঈদের মৌসুমে এমনটা দেখা যায়। টিকেট সংকট, সিট সংকট ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে ট্রেনের ছাদে বাড়ি ফিরতে হয় যাত্রীদের। তবে পথশিশুদের প্রায় ট্রেনের ছাদে দেখা যায়।

কিন্তু ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করা খুবই বিপজ্জনক। যেকোন সময় ঘটতে পারে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। প্রায় সংবাদমাধ্যমে এমন খবর পাওয়া যায়। তাই রেল মন্ত্রণালয় ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ ঠেকাতে আইনী ব্যবস্থা নিয়েছে। এখন থেকে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে ভ্রমণকারী যাত্রীদের।

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এভাবে ঝুঁকি নিয়ে কোনো ব্যক্তি ট্রেনে ভ্রমণ করলে, তাঁর এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হবে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মো. শরিফুল আলমের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় – ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ, অনিরাপদ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। এভাবে ছাদে ভ্রমণের কারণে যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এর ফলে ভ্রমণকারীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ছাদে ভ্রমণের কারণে ট্রেন চলাচলে বিলম্বিত হয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বিঘ্নিত হয় এবং সরকারি মূল্যবান সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সাজা সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের ১২৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী ‘যদি কোনো ব্যক্তি বিপজ্জনক বা বেপরোয়া কার্যের দ্বারা অথবা অবহেলা করে কোনো যাত্রীর জীবন বিপন্ন করে, তবে তাঁর এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা জরিমানা কিংবা উভয় প্রকার দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।’

ছাদে ভ্রমণে সহযোগিতাকারীও অপরাধী উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ছাদে ভ্রমণকারী এবং ভ্রমণে উৎসাহ ও সহযোগিতা প্রদানকারী সমান অপরাধী। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ছাদে ভ্রমণকারীদের বিরুদ্ধে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। এ অবস্থায় যাত্রীদের ছাদে ভ্রমণ না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত