বালিশ কান্ডের পর স্টেথোস্কোপ কান্ড! কোটি টাকার ঘাবলা

কিছুদিন আগেই রুপপুর বালিশ কান্ড নিয়ে সরগোম গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলো। এবার এমনই বড়সড় দুর্নীতির গন্ধ পেয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খরচের হিসেবে ৩০০০ টাকার স্টেথোস্কোপের ক্রয়মুল্য দেখানো হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার টাকা।

এমন আরো ১১৬টি মেডিকেল যন্ত্রপাতি ক্রয়ের মোট মূল্য দেখানো হয়েছে ৪১ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এমন অনিয়মে বিস্ময় প্রকাশ করে ৬ মাসের মধ্যে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

রিপোর্টে দেখা যায় – যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪টি স্টেথোসকোপ আনতে ব্যয় দেখানো হয়েছে সাড়ে চার লাখ টাকা। এরকম ১১৬টি যন্ত্র ক্রয়ে ৪১ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এমনকি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতেও নেয়া হয় অনিয়মের আশ্রয়।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন – স্টেথোসকোপে ১ ইউনিটের দাম ধরা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা। যেটা বাজার মূল্যের চেয়ে বহুগুণ ধরা হয়েছে। হালকা যন্ত্রপাতি কিনে বিল দাবি করা হয়েছে ভারী যন্ত্রপাতির। যেদিন রায় হাতে আসবে সেদিন থেকে ৬ মাসের মধ্যে দুদক এই মামলার তদন্ত করবে। যদি দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আইনজীবী ব্যারিষ্টার রুহুল হুদ্দুস কাজল এটিকে মিথ্যে দাবি করেন। তিনি জানান, যথাযত প্রক্রিয়া মেনেই যন্ত্রপাতি কিনেছেন তারা। তিনি বলেন – ১০ কোটি টাকার মালামাল কেনা হয়েছে কিন্তু এখনো টাকা পরিশোধ করেনি। অথচ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ লিখেছে তাদের মালামাল সাপ্লাই দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রকল্প পরিচালকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ অনিয়মের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভূমিকারও প্রশংসা করেন দেশের উচ্চ আদালত।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যন্ত্রপাতি ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ তদন্তে একাধিক কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তদন্ত শেষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট দেখে হতবাক দেশের উচ্চ আদালত।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত