বঙ্গবন্ধু হত্যা নিয়ে মুখ খুললেন মির্জা ফখরুল

আজ সোমবার সেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানী চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মির্জা ফখরুল।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন – বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার ঘটনায় আওয়ামী লীগের লোকরা জড়িত বলে অভিযোগ তার। বলেছেন, যারা হত্যার পরে সরকার গঠন করেছে, পার্লামেন্টে গেছে, তারাই এই হত্যায় জড়িত।

তিনি বলেন – ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুতে হত্যার পর আওয়ামী লীগেরই সে সময়ের নেতা খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতি হন। তবে পেছন থেকে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেন জিয়াউর রহমান। আর এক পর্যায়ে তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হয়ে উঠেন।

এদিকে, বঙ্গবন্ধুর দুই খুনি ফারুক ও রশীদ বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তারা বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনা সে সময়ের উপ সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে আগেই জানিয়েছিলেন। জিয়া তাদেরকে বলেছেন তিনি এর সঙ্গে থাকবেন না, তবে তারা যেন এগিয়ে যান।

ক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনিদেরকে বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূত করে পাঠান। আর বঙ্গবন্ধুর খুনিদেরকে দায়মুক্তি দিয়ে জারি করা ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ সংবিধানে সংযোজন করেন।

জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী বেগম খালেদা জিয়াও ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর খুনিদেরকে নানা সুযোগ সুবিধা দেন। এক খুনিকে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির একতরফা নির্বাচনে কুমিল্লার একটি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেও আনেন। আবার খুনিদের ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে আপিল নিষ্পত্তি ঠেকিয়ে রাখতে পাঁচ বছর আপিল বিভাগে বিচারক নিয়োগও বন্ধ রাখা হয়।

এসব কারণে আওয়ামী লীগ বরাবরই বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের আঁতাতের অভিযোগ করে। গত ১৬ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের আলোচনাতেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কথাগুলো তুলে ধরেন।

এসব বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মির্জা ফখরুল বলেন – দীর্ঘকাল ধরেই এই ইতিহাস তারা বিকৃত করার চেষ্টা করছেন। এটা ধ্রুব তারার মতো সত্য, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি কোনো মতেই কোনো হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন না। ইতিহাসই এর প্রমাণ। জড়িত ছিল তাদের (আওয়ামী লীগ) লোকেরা। যারা পরবর্তীতে সরকার গঠন করেছে, পার্লামেন্টে গেছে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা বলেন – আমরা খুব বেশি কিছু প্রত্যাশা করছি না। কারণ আমরা গত ১০-১২ বছর ধরে শুনছি আওয়ামী লীগের সাথে ভারত সরকারের সম্পর্ক সুউচ্চ পর্যায়ে আছে। তো, এখন পর্যন্ত তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আমরা পাইনি। সীমান্তে হত্যা বন্ধ হয়নি।

তিনি আরো বলেন – বাণিজ্য ঘটতি কমানোর জন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আমাদের কোনো সমস্যার সমাধান হয়নি। যেটা হয়েছে, ভারতের সমস্যার সমাধান। সেজন্য আমরা খুব বেশি আশাবাদী হতে পারছি না।’ এসময় স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত