গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৪২৮ ডেঙ্গু রোগী

ডেঙ্গু যেন নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে গেছে। দিন দিন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন হাসপাতালের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে ৭ তারিখ পর্যন্ত হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ৮৭৯ জন। আর এইভাবে চলতে থাকলে আজ বৃহস্পতিবার সেটি ১৭ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ডেঙ্গুর এমন পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঈদের ছুটিতে যারা ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলা বা উপজেলা কিংবা গ্রামের বাড়িতে যাবে তাদের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সতর্কতামূলক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে জরুরি চিকিৎসার জন্যও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও কর্মীদের। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ৩৪০টি আইসিইউ বেড ও ৩৩৫টি ডায়ালিসিস ইউনিট চালু থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তারের দেওয়া তথ্য অনুসারে, গতকাল সারা দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ডেঙ্গু আক্রান্ত দুই হাজার ৪২৮ জন। এর মধ্যে ঢাকার ৪০টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ২৭৫ জন। সবচেয়ে বেশি ভর্তি হয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৬২ জন।

এ ছাড়া উল্লেখযোগ্য হাসপাতালের মধ্যে মিটফোর্ড হাসপাতালে ১৩৮ জন, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৩৯ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৯৭ জন, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ৪২ জন, কুর্মিটোলা হাসপাতালে ১১০ জন। আর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে গতকাল নতুন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে এক হাজার ১৫৩ জন।

গত ১ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয় ৩২ হাজার ৩৪০ জন। এর মধ্যে ২৩ হাজার ৬১০ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। বাকি আট হাজার ৭০৭ জন বিভিন্ন হাসপাতালে গতকাল পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিল। আর সরকারি হিসাবে গতকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ছিল ২৩, যাদের সবার মৃত্যু ঢাকায় হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঈদে ঢাকার বাইরে যাওয়া মানুষের জন্য পরামর্শ: গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আয়োজিত এক সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে, ঈদের ছুটিতে যারা ঢাকা ছেড়ে বিভিন্ন জেলা বা গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে যাবে তাদের জন্য কিছু করণীয় পরামর্শ দেওয়া হয়। এসব পরামর্শের মধ্যে রয়েছে বাড়ি, অফিসসহ সব প্রতিষ্ঠানে, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টয়লেটের হাই ও লো কমোড ঢেকে দিয়ে যেতে হবে, রেফ্রিজারেটরের ট্রের পানি ফেলে শুকিয়ে রেখে যেতে হবে, এয়ারকন্ডিশনারের পাইপের পানিসহ যেকোনো পানি পরিষ্কার করে রেখে যেতে হবে, বালতি, বদনা, হাঁড়ি-পাতিল, ড্রাম, গামলা, ঘটি-বাটি ইত্যাদির পানি ফেলে পরিষ্কার করে উল্টিয়ে রেখে যেতে হবে, বারান্দা ও বাসার ছাদের ওপর রাখা ফুলের টবের ট্রের পানি ফেলে পরিষ্কার করে উল্টিয়ে রেখে যেতে হবে, পানির ট্যাংকের ঢাকনা বন্ধ করে রেখে যেতে হবে।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত