লক্ষ্মীপুরে মসজিদের টাকা উত্তোলন নিয়ে দিনে হুমকি, রাতে খুন

লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুরে মসজিদের টাকা উত্তোলন নিয়ে দিনে হুমকির পর রাতে হাতুড়ি ও ইট দিয়ে পিটিয়ে সৈয়দ আহম্মদ (৩০) নামের এক যুবককে হত্যা করা অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আব্দুল মালেক নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহতের মা রিনা বেগম বাদী হয়ে বুধবার (৭ আগস্ট) সকালে রায়পুর থানায় আব্দুল মালেক, তাঁর ছেলে জাহেদ, খালেক ও একই এলাকার মো. বাহারকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আটককৃত ব্যক্তিকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পৌর শহরের শিবপুর গ্রামের আমির উদ্দিন ব্যাপারী বাড়ীর সামনে এই হত্যাকান্ডটি ঘটে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। পরে রাতেই পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নিহত যুবক সৈয়দ একই এলাকার মৃত শামছুল হকের ছেলে।

নিহতের মা রিনা বেগম ও ছোট ভাই সবুজসহ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ীর সামনে নতুন করে একটি মসজিদ নির্মাণের কাজ চলছে। মসজিদ নির্মাণের জন্য এলাকাবাসী সৈয়দকে মসজিদের সামনে টাকা উত্তোলনের দায়িত্ব দেয়। সৈয়দ টাকা উত্তোলন করে মসজিদ ফান্ডে জমা দিয়ে আসছিলেন।

কয়েক দিন ধরে সৈয়দের টাকা উত্তোলনে বাধা দিয়ে আসছে একই এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে জাহেদ ও খালেক। কিন্তু বাধা না শুনে সৈয়দ মসজিদের জন্য টাকা উত্তোলন বন্ধ না করায় মঙ্গলবার সকালে এর জের ধরে জাহেদ ও খালেক সাথে ঝগড়া হয়। একপর্যায় তাঁদের কথা না শুনলে সৈয়দকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

ওই দিন রাতে স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ী যাওয়ার পথে মসজিদের সামনে সৈয়দকে পথরোধ করে কে বা কাহারা হাতুড়ি ও ইট দিয়ে পিটিয়ে মাথায় গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত সৈয়দকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া পথে সে মারা যায়।

এদিকে সকালে মজিদের টাকা উত্তোলন নিয়ে হুমকি দিয়ে পরে রাতে সৈয়দকে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের লোকজনের দাবী করে তারা এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান তারা।

এ ব্যাপারে রায়পুর থানার (ওসি) মোহাম্মদ তোতা মিয়া বলেন – নিহতের মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে বলা যাবে কিভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ৪ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা করা হয়েছে। এক আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

#মো: রবিউল ইসলাম খান, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত