৮০ লাখ টাকাসহ পুলিশের ডিআইজি গ্রেফতার

ঘটনাটি ধানমন্ডির নর্থ রোডের (ভূতের গলি) ২৭-২৮১ নম্বর বাসার বি/৬ নম্বর ফ্ল্যাটে থাকতেন চট্টগ্রাম কারাগারের ডিআইজি প্রিজন পার্থ গোপাল বণিক। সেই বাসায় গতকাল (রবিবার) দুপুর ২টার দিকে অভিযান শুরু কর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অভিযানে তার কাছ থেকে বস্তাবন্দি টাকা উদ্ধার করেন দুদকের কর্মীরা। চট্টগ্রাম কারাগারে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে সেদিনই গোপাল বণিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুদকের হাত থেকে বাঁচতে বস্তাভর্তি টাকা পাশের ভবনের ছাদে ফেলে দেয় ডিআইজি গোপাল, জানায় দুদকের কর্মীরা।

তবুও শেষ রক্ষা হয়নি ডিআইজি প্রিজন পার্থ গোপাল বণিককের। দুদক পরিচালক মুহাম্মদ ইউসুফ জানান, রাজধানীর ধানমন্ডির নর্থ রোডের (ভূতের গলি) ২৭-২৮১ নম্বর বাসার বি/৬ নম্বর ফ্ল্যাটে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান শুরু করে রবিবার (২৮ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে।

তিনি আরো জানান, প্রায় ২ ঘণ্টা পার্থর স্ত্রী চিকিৎসক রতন মনি সাহা নানা টালবাহানা করেন।প্রথমে মুঠোফোনে বলেন, তিনি বাসায় নেই।মিরপুরে আছেন।সেখান থেকে ফিরতে ২ ঘণ্টার বেশি সময় লাগবে।অথচ সে সময় তিনি ফ্ল্যাটেই ছিলেন।

ইউসুফ জানান, দুদক টিম বিকল্প পন্থায় ফ্ল্যাটে প্রবেশের কথা বললে রতন মনি সাহা নিজেই দরজা খুলে দেন।তবে ততক্ষণে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে পার্থর আয় করা ৮০ লাখ টাকা দুটি ব্যাগে ভরে পাশের বাসার ছাদে ফেলে দেন তিনি।পরে তাকে নিয়েই ওই টাকা উদ্ধার করা হয়।

এদিকে উদ্ধার করা টাকাগুলোর ব্যাপারে পার্থ ও তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, ৮০ লাখ টাকার মধ্যে ৩০ লাখ টাকা পার্থর শাশুড়ি তাকে দিয়েছেন।আর বাকি ৫০ লাখ টাকা পার্থর বেতনের একটি অংশ।ওই টাকা ব্যাংকে জমা না রেখে বাসায় রেখেছিলেন তিনি।

দুদক পরিচালক মুহাম্মদ ইউসুফ জানান, ৪ হাজার ৬০০ টাকা বেতনে চাকরি শুরু করেছিলেন পার্থ।বর্তমানে সব মিলিয়ে তিনি পান ৬০ হাজার টাকার মতো।তার বাসা থেকে যে টাকা উদ্ধার হয়েছে তা অবশ্যই ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে আয় করা বলে দাবি করেন দুদক পরিচালক।

দুদক জানায়, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবহেলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ডিআইজি (প্রিজন) পার্থ গোপাল বণিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে তার কর্মস্থল সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার।

দুদক কর্মকর্তারা বলছেন – সিলেটের ডিআইজি (প্রিজন) পার্থ ও জ্যেষ্ঠ জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিককে রবিবার সকাল ১০টা থেকে দুদক কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়।চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবহেলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে পার্থকে নিয়ে তার ভূতের গলির ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়।উদ্ধার করা হয় ৮০ লাখ টাকা।জব্দ করা হয় একটি প্রাইভেটকার।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত