সুপার ওভারও টাই, তবুও ইংলিশরা জিতলো যেভাবে

বিশ্বকাপের ফাইনাল বলে এটাকেই!  পুরোপুরি টিকেটের দাম উসুল। কালকের ম্যাচটি ছিল অনেকটা এনাবেল কিংবা কনজিউরিং সিনেমার মত। থ্রিল, রামাঞ্চ এবং নাটকিয়তায় ভরপুর। প্রতি মুহুর্ত্বে চমকে উঠেছে মাঠে থাকা এবং টিভির সামনে থাকা দর্শকগুলো। এই নাটকীয়তা ৫০ ওভারেই শেষ না হয়ে গড়ালো সুপার ওভারে। কিন্তু একি! সুপার ওভারও টাই।

নিউজিল্যান্ড প্রথমে ব্যাটিং করে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৪১ রান তুলতে সক্ষম হয়। টপ অর্ডারের হেনরি নিকোলস ছাড়া দলের অন্য কোন ব্যাটসম্যানই আর্চার, পুকিত, ওকসের বোলিংয়ের সামনে বেশীক্ষণ স্থায়ী হতে পারেনি। নিকোলস সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন।

তবে শেষদিকে টম লাথামের ৫৬ বলে ৪৭ রানের ইনিংসে লড়াই করার পুঁজি পায় ব্ল্যাকক্যাপরা। অপরদিকে, লিয়াম পুকিত এবং ক্রিস ওকস ৩টি করে উইকেট শীকার করেন। এবং জোফরা আর্চার এবং মার্ক উড নেন একটি করে উইকেট।

২৪২ রানের জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে ইংলিশরাও ভালো শুরু করতে পারেনি। ২৮ রানেই ওপেনার জেসন রয়কে হারায় স্বাগতিকরা। এরপর ৫৯ রানে ফিরে যান জো রুট। কিন্তু বাটলারের ৫৯ রান এবং বেন স্টোকসের হার না মানা ৮৪ রানের ইনিংসের জোরে নিউজিল্যান্ডের সমান ২৪১ রান করে তিন সিংহের দল। লুকি ফার্গুসন এবং জিমি নিশাম নেন ৩টি কর উইকেট।

তবে মরগানরাও নিউজিল্যান্ডের সমান রান করায় শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনাল ম্যাচটির ভাগ্য নির্ধারিত হয় সুপার ওভারে। সুপার ওভারে খেলতে নেমে দুই দলই নিজেদের ৬ বলে করতে পারে সমান ১৫ রান করে। তবে ইনিংসের ষষ্ঠ বলে মার্টিন গাপটিলকে রানআউট করেই উল্লাসে মেতে ওঠে ইংল্যান্ড। কারণ তাদের জানা ছিলো সুপার ওভারেও টাই হলে শিরোপা উঠবে তাদেরই ঘরে।

সুপার ওভারের নিয়ম অনুযায়ী, যদি এ ৬ বলেও ম্যাচের ফলাফল না হয়, তা হলে যে দল বেশি বাউন্ডারি মেরেছে, সেই দলকেই জয়ী বলে ঘোষণা করা হয়। দু’দলের মারা বাউন্ডারির সংখ্যা দিয়েও যদি ম্যাচের নিষ্পত্তি না হয়, সে ক্ষেত্রে কী হবে? তখন দেখা হবে সুপার ওভারের শেষ বলে কোন দল কত রান করেছে। যে দল বেশি রান করেছে, নিয়ম অনুযায়ী সেই দলই জিতবে।

ফলে মূল ম্যাচে বেশি বাউন্ডারি হাঁকানোয় প্রথমবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড। ম্যাচে আগে ব্যাট করা নিউজিল্যান্ড ১৪টি চার ও ২টি ছক্কায় মোট বাউন্ডারি পায় ১৬টি। অন্যদিকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২২টি চারের সঙ্গে ২টি ছয় মারে ইংল্যান্ড।

ফলে সুপার ওভারের নিয়মানুযায়ী চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড। এতে স্বপ্নের ট্রফি ঘরে তুলল ইংলিশরা। স্বাদ পেল প্রথম শিরোপা জয়ের। আর ক্রিকেটবিশ্বে সূচনা হলো নতুন এক অধ্যায়ের। আর একই সাথে অপেক্ষা মিটলো ৪৪ বছরের।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত