ভয়াল মিরসরাই ট্রাজেডি : প্রার্থনার অশ্রুজলে নিহতদের স্মরণ করলো স্বজনরা

ছবি: মিরসরাইয়ে সেই দুর্ঘটনায় নিহত স্কুলছাত্ররা।

ফুল আর অশ্রুজলে মিরসরাই ট্রাজেডিতে নিহত স্কুল শিক্ষার্থীদের স্মরণ করলো স্বজন, সহপাঠি, রাজনীতিবিদ ও আবুতোরাবের সর্বস্তরের মানুষ। বৃহস্পতিবার নিহতদের স্মরণে কোরআনখানি, দোয়া, বুকে কালোব্যাজ ধারণ, নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ আবেগ ও দুর্ঘটনাস্থলে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ অন্তিমে পুষ্পস্তবক অর্পন, শোক র‌্যালী, স্মরণ সভার মধ্য দিয়ে পালিত হলো মিরসরাই ট্রাজেডির ৮ম বার্ষিকী।

বৃহস্পতিবার সকালে বৃষ্টি উপেক্ষা করে স্মৃতি স্তম্ভ আবেগ ও অন্তিমে ফুল দিয়ে একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সাবেক গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, নিহতদের স্বজনরা, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মায়ানী ইউনিয়ন পরিষদ, মঘাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ, মিরসরাই প্রেসক্লাব, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সহ সর্বস্তরের মানুষ।

Mirsarai Tragedy

বেলা ১১টায় বিদ্যালয় মিলনায়তনে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এম আলা উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও মায়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাষ্টার কবির আহম্মদ নিজামীর সঞ্চালনায় স্বরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক গনপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি।

স্মরণ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জসীম উদ্দিন, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কাইয়ুম নিজামী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আতাউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ইসমত আরা ফেন্সী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মিহির কান্তি নাথ, প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবচার উদ্দিন, আবুতোরাব ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম নিজামী, আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা আক্তার।

Mirsarai Tragedy

আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা আক্তার বলেন – শোকের এ আট বছর সময়ে ঘটনার পট পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু হৃদয়বিদারক সেই ঘটনার ক্ষত এখনো শুকিয়ে যায়নি। কান পাতলেই শোনা যায় স্বজনহারা মানুষের কান্না।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ১১ জুলাই সোমবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ টুর্ণামেন্টের ফাইনার খেলা শেষে বাড়ি ফিরার সময় মিরসরাই উপজেলার বড়তাকিয়া-আবুতোরাব সড়কের দক্ষিণ সৈদালী এলাকায় ৭০-৮০ কিশোর বহনকারী একটি ট্রাক পাশের ডোবায় উল্টে যায়। যেখানে একসাথে ৩৮ জন ছাত্র ও এক অভিভাবক মারা যায়।

পরবর্তীতে ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪৫ জনের মৃত্যু গুণতে হয়েছে। তন্মেধ্যে ৪৩ জনই শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৪ জন, প্রাইমারী স্কুলের ৪ জন, আবুতোরাব ফাজিল মাদ্রাসার ২ জন, প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজের ২জন, একজন অভিবাবক ও দুইজন ফুটবলপ্রেমী মারা যায়। যেটি ইতিহাসের পাতায় মিরসরাই ট্র্যাজিডি হিসেবে স্থান করে নেয়।

#ইকবাল হোসেন জীবন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত