অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড : মূল আকর্ষণ থাকবে ব্যক্তিগত লড়াইয়ে

বিশ্বকাপের ২য় সেমিফাইনালে আজ মাঠে নামবে ক্রিকেট পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ড। বার্মিংহামের এজবাস্টনে বিকেল সাড়ে ৩টায় মাঠে নামবে দুদল। আজকের ম্যাচটি হয়তো ঐতিহ্যবাহী অ্যাশেজের কথাই মনে করিয়ে দিবে ক্রিকেটপ্রেমীদের। এদিকে টস ভাগ্য আজ সুপ্রশন্ন হল অ্যারন ফিন্সের। টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।

এই বনেদি দ্বৈরথে অনেকটাই এগিয়ে আছে অস্ট্রেলিয়া। পাঁচবার বিশ্বকাপ ঘরে তুলেছে ফিন্সের দলটি। অন্যদিকে তিন তিনবার ফাইনালে গিয়েও স্বপ্নের বিশ্বকাপটি উঁচিয়ে ধরতে পারেনি ক্রিকেটের জন্মদাতা। তাই আজকের ম্যাচটি ইতিহাস গড়ার ম্যাচ হিসেবেই বিবেচনা করছে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।

দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বকাপের ফাইনালে পা দিল নিউজিল্যান্ড। সর্বশেষ ২০১৫ সালে অজিদের বিপক্ষে রানার-আপ হয় কিউইরা। তাই আজকের ম্যাচে ইংল্যান্ড জিততে পারলে বিশ্বকাপের নতুন রাজা নির্ধারিত হবে ফাইনালে।

তবে আজকের ম্যাচে দলগত খেলার বাইরে কিছু ব্যক্তিগত লড়াইও দেখা যাবে। দুদলের খেলোয়াড়রা একে অন্যের থেকে নিজেদের সেরা প্রমাণ করার জন্য লড়াই করবে। যেমন- দুদলের অধিনায়কের মধ্যে থাকবে সেরা অধিনায়কের খেতাব জেতার লড়াই, দুই ওপেনার বেয়ারস্টো আর ওয়ার্নারের মধ্যে একটা শীতল যুদ্ধও দেখার আশা করবে সমর্থকরা।

অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড হেড টু হেড:

মোট ম্যাচ অস্ট্রেলিয়া জয়ী ইংল্যান্ড জয়ী টাই/পরিত্যক্ত
১৪৭ ৮১ ৬১ ২/৩

মরগ্যান এবং ফিন্স। দুই অধিনায়কের মস্তিষ্কের লড়াই শুরু হবে টস থেকেই। অ্যাশেজের রঙিন সংস্করণে ব্যাটিংয়েও দারুণ সফল তারা। ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি রান ইংল্যান্ড অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যানের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আবার সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের। গত বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকে বিদায়ের পর মরগ্যানের আগ্রাসী নেতৃত্বেই খেলার ধরন পাল্টে ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে উঠে এসেছে ইংল্যান্ড।

ইংল্যান্ড ২৭ বছর পর পা রেখেছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। লিগপর্বে টানা দু’ম্যাচ হেরে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেও সমর্থকদের আশ্বস্ত করে মরগ্যান বলেছিলে – চাপের মুখে ভেঙে পড়বে না ইংল্যান্ড। ভারত ও নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে কথা রেখেছেন মরগ্যান। নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা থেকে এখন মাত্র দুটি জয় দূরে ইংল্যান্ড। ওদিকে বল টেম্পারিং-কাণ্ডে টালমাটাল অস্ট্রেলিয়া কক্ষপথে ফিরেছে ফিঞ্চের নেতৃত্বে। ফিঞ্চের হয়ে কথা বলে তার চওড়া ব্যাট। এই বিশ্বকাপে দুই সেঞ্চুরি ও তিন ফিফটিতে নয় ম্যাচে করেছেন ৫০৭ রান। লিগপর্বে তার দুরন্ত শতকেই ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। আজও দলের তুরুপের তাস হতে পারেন ফিঞ্চ।

অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড হেড টু হেড (বিশ্বকাপ):

মোট ম্যাচ অস্ট্রেলিয়া জয়ী ইংল্যান্ড জয়ী টাই/পরিত্যক্ত

এদিকে, খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে তুলতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন জনি বেয়ারস্টো। ভারত ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে করেছেন সেঞ্চুরি। নিজের প্রিয় ভেন্যু এজবাস্টনে অস্ট্রেলিয়ার গলার কাঁটা হয়ে উঠতে পারেন বেয়ারস্টো। তার আইপিএল সতীর্থ ডেভিড ওয়ার্নার একইভাবে গুঁড়িয়ে দিতে পারেন ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্বপ্ন। এক বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলে ফিরেই অস্ট্রেলিয়ার স্বপ্নসারথি হয়ে উঠেছেন ওয়ার্নার। নয় ম্যাচে করেছেন আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৩৮ রান। রান তোলার গতি একটু মন্থর হলেও উইকেটে একবার দাঁড়িয়ে গেলে ওয়ার্নার একাই শেষ করে দিতে পারেন যে কোনো প্রতিপক্ষকে।

লড়াই চলবে দুই দলের দুই সেরা পেসারের মধ্যেও। জোফরা আর্চার এবং মিচেল স্টার্কের মধ্যে লড়াইটাই থাকবে ম্যাচের মূল আকর্ষণ। লিগপর্বে মিচেল স্টার্কের গতির আগুনে পুড়েছিল ইংল্যান্ড। নয় ম্যাচে ২৬ উইকেট নিয়ে ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের নেতা। আজ এক উইকেট পেলেই পূর্বসূরি গ্লেন ম্যাকগ্রাকে ছাড়িয়ে এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারের নতুন রেকর্ড গড়বেন স্টার্ক।

বিশ্বকাপের ঠিক আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা জফরা আর্চারও গতির ঝরে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন। নয় ম্যাচে ১৭ উইকেট নিয়ে আসরে ইংল্যান্ডের সফলতম বোলার আর্চার। অস্ট্রেলিয়ার টপঅর্ডারে ধস নামাতে বারবাডোজের নেয়া গতিময় এই পেসারের দিকেই আজ তাকিয়ে থাকবে স্বাগতিকরা।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত