মেহেরপুরে কোটিপতিরা পেলেন দুস্থ ক্রীড়াবিদের অনুদান

মেহেরপুর জেলার ১৩ জনকে দুস্থ  ক্রীড়াবিদের পরিচয়ে প্রত্যেকে ১৫ হাজার টাকার চেক গ্রহণ করেছে। প্রকৃত দুস্থ ক্রীড়াবিদদের বঞ্চিত করে স্বাবলম্বীদের দুস্থ ক্রীড়াবিদের অনুদান প্রদানে সুবিধা বঞ্চিত দুস্থ ক্রীড়াবিদরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে – দুস্থ ক্রীড়াবিদের অনুদান পাওয়া মেহেরপুর সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত ক্রীড়া শিক্ষক রমজান আলী শহরের বিআরটিসি মোড়ের কাছে পুরাতন কাজী আফিসপাড়া সড়কে তিনতলা বিশিষ্ট বাড়ির মালিক। ২য় এবং ৩য় তলার বাড়ি ভাড়া বাবদ কুড়ি হাজার টাকার সাথে অবসরভাতা মিলে তার মাসিক আয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। তবুও তিনি দুস্থ।

এছাড়া বিএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারি শিক্ষক আবদুর রহমান শহরের মল্লিক পাড়ায় একটি দো-তলা ও একটি এক তলা বিশিষ্ট বাড়ির মালিক। তবে তিনিও দুস্থ  হিসেবে অনুদানের চেক নিয়েছেন। আমদহ ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মেহেদি হাসান জেলা শহরের উপকণ্ঠে রায়পুর বাজারে একটি গোডাউনের মাসিক ভাড়া পান ২৫ হাজার টাকা।

এছাড়া চাষাবাদের ও বাড়ির জমি মিলে কোটি টাকার সম্পদের মালিক তিনি। তারপরেও তিনি দুস্থ ক্রীড়াবিদের অনুদান গ্রহণ করেছেন। এর আগেও এসব অনুদানভোগীরা জেলা ক্রীড়াসংস্থা থেকে দুস্থ ক্রীড়াবিদের অনুদানের সুবিধা নিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা ক্রীড়া সংস্থার একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন- সুবিধাভোগীদের চেয়ে জেলায় প্রকৃত দুস্থ ক্রীড়াবিদ হাসেম আলী, বাবুল পাল, পটল আলী, টুটুল, ছোট বাবু, বড় বাবু, ছারু হোসেন, মিরাজ হোসেন, ইমদাদ, পিন্টু হোসেন, আজিজুল হকসহ অনেকেই মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

অনুদানের চেক পাওয়া অবসরপ্রাপ্ত ক্রীড়া শিক্ষক রমজান আলী বলেন – আমাকে কে যেন বলেছিল দুস্থ ক্রীড়াবিদ হিসেবে আবেদন করতে। আবেদন করেছিলাম। অনুদানের টাকা চলে এসেছে, নিয়েছি। টাকা সবসময় লক্ষ্মী। আসলেই ধরে নিতে হবে। লক্ষ্মীকে ঠেলে ফেলবো কী ভাবে?

এ প্রসঙ্গে মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গণি বলেন – বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন থেকে দেশের প্রতিটি জেলার দুস্থ অসহায় ক্রীড়াবিদদের আবেদনে প্রতিবছর অনুদান দিয়ে আসছে। এবার যারা সেখানে আবেদন করেছিলেন তাদের মধ্যে ১৩ জনের নামে ১৫ হাজার করে টাকা এসেছে। এখানে আমাদের সংশ্লিষ্টতা বলতে যাদের নামে অনুদানের চেক এসেছে ঠিক তাকেই চেকটি পৌঁছে দেওয়া।

উল্লেখ্য, বেশ কয়েক বছর আগে জেলা ক্রীড়াসংস্থা মুক্তিযোদ্ধা প্রশান্ত ভট্টাচার্যকে জেলার দুস্থ্য ক্রীড়াবিদদের অনুদান প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। প্রশান্ত ভট্টাচার্য তার চেয়ে যেসব দুস্থ  ক্রীড়াবিদ আছেন তাদের দেবার জন্য প্রত্যাখ্যান করেছিলেন সেই অনুদান।

#রেজাউল করিম,মেহেরপুর প্রতিনিধি।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত