পেরুর দুই ভুলে লজ্জা থেকে বাঁচলো চিলি!

প্রথম সেমিফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচে হেরে বাড়ি ফিরতে হয়েছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে। এবার ২য় সেমিফাইনালে ঘটলো আরেক অঘটন। দুবারের চ্যাম্পিয়ন চিলিকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে কোপার ফাইনালে উঠে গেল পেরু।

আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টায় পোর্তো অ্যালেগ্রের অ্যারেনা দো গারমিয়োতে মুখোমুখি হয় দুই দল। এবার ফাইনালে শক্তিশালী ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে পেরু। ম্যাচের প্রথম থেকেই পেরু যেন চিলির ঘাঁড়ে চেপে বসেছিল। খেলার প্রথমেই ক্রিশ্চিয়ান কুয়েভার দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রথম প্রচেষ্টা চালান। কিন্তু মধ্যমাঠ থেকে করা শর্টটি লক্ষ্যে পৌঁছায়নি।

ভূল করেছিলেন অ্যারেনগুইজও! খেলার আট মিনিটের মাথায় পেরু তারকা বিদালের পাস করা বল একদম হেসেখেলে চিলির জালে জড়ানোর জায়গায় শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট করে ফেলেন।।

তবে ম্যাচের ২১ মিনিটে আর ভুল করেননি এডিসন  ফ্লোরেস। ক্যারিলোর হেড থেকে বল পেয়ে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে পেরুকে লিড এনে দেয় ফ্লোরেস। এগিয়ে যায় ১-০ গোলে।

এরপরের আঘাতটি আসে ৩৮ মিনিটে। গোল শোধ করতে গিয়ে উল্টো গোল খেয়ে বসে চিলি।। এবার গোলের নায়ক ইয়োশিমার ইয়োতুন। তবে গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের ভুলের মাশুল দিতে হয় চিলিকে।

পেরুর আন্দ্রে ক্যারিলো বাঁ প্রান্ত থেকে চিলির রক্ষণভাগে হামলে পড়লে তাঁকে থামাতে যান গোলরক্ষক গ্যাব্রিয়েল অ্যারিয়াস।আর এ সুযোগে চিলির গোলপোস্ট ফাঁকা পেয়ে উঁচু করে সতীর্থ ইয়তুনকে পাস দেন অ্যারিয়াস। আর কোনো ভুল না করেই গোল করে দলকে এগিয়ে নেন ইয়োতুন।

এদিকে, পেরুর রক্ষণভাগে বেশ কয়েকবার আক্রমণ চালিয়েও গোলরক্ষক পেদ্রো গ্যালেসির দক্ষতায় গোলের দেখা পায়নি চিলি।দ্বিতীয়ার্ধের ৫১ মিনিটে গোল ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল চিলি। কিন্তু ভারগাসের হেড গোলপোস্টের বারে লেগে ফিরে এলে ব্যর্থ হতে হয় তাদের।

৮২তম মিনিটে আবারও গোলের সুযোগ পেয়ে ব্যর্থ হয় চিলি। অ্যালেক্সিস সানচেজের জোরালো শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন পেরুর গোলরক্ষক। ফলে চিলির গোলের অপেক্ষা দীর্ঘ হতে থাকে।

ম্যাচের শেষ সময়ের অতিরিক্ত মিনিটে চিলি শিবিরে শেষ পেরেক ঠুকে দেয় পেরু। চিলির রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে গোলরক্ষককে একা পেয়ে গোল করেন পাওলো গুয়েরেরো।

শেষ পর্যন্ত চিলিকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে কোপা আমেরিকার ফাইনাল নিশ্চিত করে পেরু। তবে এবার শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ব্রাজিল। ৭ জুলাই রোববার রাতে রিও ডি জেনিরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।

পাঠকের মতামত