২৩তম জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী সংবাদ সম্মেলন

আগামী ১ জুলাই থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ২৩তম জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী। প্রদর্শনীতে ৩১০ জন শিল্পীর ৩২২ টি শিল্পকর্ম স্থান পাচ্ছে। ৩০ জুলাই বিকাল সাড়ে চারটায় জাতীয় নাট্যশালা সেমিনার কক্ষে ২৩তম জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীর বিস্তারিত তুলে ধরেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

তিনি বলেন – জাতীয় সংস্কৃতির গৌরবময় বিকাশকে অব্যাহত রাখতে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিল্পকলার চর্চা ও বিকাশের উদ্দেশ্যে শিল্পসংস্কৃতি ঋদ্ধ সৃজনশীল মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে কাজ করছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

প্রতি দুই বছর পরপর একাডেমির চারুকলা বিভাগ নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনী, জাতীয় ভাস্কর্য্য প্রদর্শনী, দ্বিবার্ষিক এশিয় চারুকলা প্রদর্শনী, জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী আয়োজনসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রদর্শনী আয়োজন করে থাকে।’ সংবাদ সম্মেলনে একাডেমির চারুকলা বিভিাগের পরিচালক বলেন – আমাদের যেসকল বরেণ্য শিল্পীরা আছেন, তাদের বেশিরভাগই কোননা কোন সময় জাতীয় এই প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। তাই চারুশিল্পীদের জন্য এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়োজন।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, একাডেমির সচিব বদরুল আনম ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ। প্রদর্শনী উদ্বোধন অনুষ্ঠান আগামী ১ জুলাই (সোমবার) বিকাল ৫টায় একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় অনুষ্ঠিত হবে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্ঠা এইচ টি ইমাম প্রদর্শনীর শুভ উদ্বোধন ও বিজয়ী শিল্পীদের পুনস্কান প্রদান করবেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি ও সচিব ড. মো, আবু হেনা মোস্তফা কামাল এনডিসি, এবং বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী’র সভিাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন চারুকলা বিভাগের পরিচালক শিল্পী আশরাফুল আলম পপলু।

জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীর এবার ২৩ তম আসর। প্রদর্শনীটি প্রথম আরম্ভ হয় ১৯৭৫ সালে। চিত্রকলা, ছাপচিত্র, ভাস্কর্য, কারুশিল্প , স্থাপনা ও ভিডিও আর্ট মাধ্যমের শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। এছাড়া ও আছে কৃৎকলা (পারফরমেন্স আর্ট)।

আবেদনকারী ৮৫০ জন শিল্পী থেকে বাছাইকৃত ৩১০ জন শিল্পীর ৩২২ টি শিল্পকর্মের মধ্যে ১৫৯ ‍টি চিত্রকলা, ৪৫ ‍টি ভাস্কর্য্, ৫০ টি ছাপচিত্র, ১৭ ‍টি কারুশিল্প, ৮ ‍টি মৃৎশিল্প , ৩৭ টি স্থাপনা ও ভিডিও আর্ট , ০৭ ‍টি কৃৎকলা (পারফরমেন্স আর্ট)।

প্রাথমিক পর্যায়ে শিল্পকর্ম বাছাই কমিটিতে ছিলেন শিল্পী নাসরিন বেগম , শিল্পী মোস্তাফিজুল হক , শিল্পী শেখ সাদী ভূইয়া , শিল্পী ড. মোহাম্মদ ইকবাল ও শিল্পী আনিসুজ্জামান । পুরস্কারের জন্য সেরা শিল্পকর্ম বাছাইয়ে বিচারক হিসেবে ছিলেন শিল্পী আব্দুস শাকুর শাহ, স্থপতি শামসুল ওয়ারেস, শিল্পী রণজীৎ দাস , শিল্পী ড. ফরিদা জামান ও শিল্পী মোহাম্মদ ইউনুস দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে মোট ৮ টি পুরস্কার প্রদান করা হবে ।

একটি শ্রেষ্ঠ- পুরস্কার যার আর্থিক মূল্যমান ২০০,০০০/- (দুই লক্ষ টাকা) ও চারটি বিভাগীয় চিত্রকলা ,ভাস্কয , ছাপচিত্র , নিউমিডিয়া সম্মনসূচক পুরস্কার প্রদান করা হবে। যার আর্থিক মূল্যমান ১০০,০০০/-(এক লক্ষ টাকা) । এছাড়াও বেঙ্গল ফাউন্ডেশন পুরস্কার (১০০,০০০/-) , দীপা হক পুরস্কার ( ২০,০০০/-) ও চিত্রশিল্পী কাজী আনোয়ান হোসেন পুনস্কার (৫০,০০০/-) প্রদান করা হবে ।

প্রদর্শনীটি ১-২১ জুলাই ২০১৯ পর্যন্ত চলবে । প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা ও শুক্রবার বিকেল ৩ টা থেকে রাত ৮ পর্যন্ত চলবে।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত