যৌথ সংবাদ সম্মেলনের প্রেস বিজ্ঞপ্তি

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান জনাব মানোয়ার হোসেন এর সভাপতিত্বে বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ রি-রোলিং মিলস্ এসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ স্টিল মিল ওনার্স এসোসিয়েশনের এক যৌথ সংবাদ সম্মেলন আজ ২৫ জুন সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে (তৃতীয় তলা) অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান জনাব মানোয়ার হোসেন বলেন – বিগত এক দশকে বর্তমান সরকারের সহযোগিতায় স্টিল শিল্পে অভূতপূর্ব বিকাশ সাধিত হয়। কিন্তু ২০১৯-২০ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে আমাদের এ শিল্পে ভ্যাট ও ট্যাক্স আরোপের কারণে এ শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তিনি প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট  সম্পর্কে বলেন প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিটন এম.এস. রড এর উপর অতিরিক্ত ৭৬৫০ টাকা ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। বর্তমানে (২০১৮-১৯) প্রতিটন রডে ভ্যাটের পরিমান সর্বমোট ১৪০০ টাকা।

মনোয়ার হোসেন বলেন – কিন্তু ২০১৯-২০ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতি টন রডে সর্বমোট ভ্যাটের পরিমান ৯০৫০ টাকা। অর্থাৎ ভ্যাট বাবদ বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতি টনে ৫৪৬%। প্রতি মেট্রিক টন বিলেট বিক্রয়ে ভ্যাট ৪৫০ টাকা হতে ২০০০ টাকা, প্রতি মেট্রিক টন রড বিক্রয়ে ভ্যাট ৪৫০ টাকা হতে ২০০০ টাকা, স্ক্র্যাপ/শীপ স্ক্র্যাপ বিক্রয়ে প্রতি মেট্রিক টনে ৩০০ টাকা হতে ১৭৫০ টাকা এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে প্রতি মেট্রিক টন রড বিক্রয়ে ২০০ টাকা হতে ৩৩০০ টাকা ভ্যাট বসানো হয়েছে।

তথাপি, ২০১৯-২০ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী আমদানিকালে স্টিল উৎপাদনকারীগনকে কাঁচামাল আমদানির প্রাক্কালে ৫% অগ্রিম কর (অঞ) পরিশোধ করতে হবে। স্টিল শিল্পে আর্থিক বিনিয়োগের পরিমান অনেক বেশী। এ শিল্পের কাঁচামাল আমদানির উপর ৫% আগাম কর নির্ধারণের কারনে আরও ৫% অধিক চলমান মূলধনের প্রয়োজন হবে। স্টিল শিল্পগুলো ব্যাংক ঋনে পরিচালিত বিধায় আর্থিক সেক্টরে  তারল্য সংকটেরও সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে কাঁচামাল আমদানির উপর ৫% আগাম কর পরিশোধের কারনে ব্যাংক সুদ বাবদ উৎপাদনকারীদের ব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে।

চেয়ারম্যান জনাব মানোয়ার হোসেন প্রস্তাবিত বাজেটে ট্যাক্স (আয়কর) এর সম্পর্কে বলেন বর্তমানে (২০১৮-২০১৯) প্রতি টন রডের উপর ট্যাক্্র এর পরিমান গড়ে ১৯৫০ টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে এই ট্যাক্সের পরিমান ৪৬৫০ টাকা অর্থাৎ প্রস্তাবিত বাজেটে এম.এস. রডে টনপ্রতি ট্যাক্স বৃদ্ধি পাবে ২৭০০ টাকা। বৃদ্ধির পরিমান ১৩৮%। আয়কর আইনের মৌলিকনীতি হচ্ছে প্রকৃত আয়ের উপর আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মূল্যায়নের ভিত্তিতে আয়কর নির্ধারণ করা। মূল্যায়ন না করে উৎস কর কর্তন পূর্বক সেই কর্তনকে ন্যূনতম কর হিসেবে চূড়ান্ত করা আয়কর আইনের মৌলিকনীতি পরিপন্থী।

প্রস্তাবিত বাজেটে ৩% এআইটি/টিডিএস মাত্রাতিরিক্ত এবং স্টিল সেক্টরের প্রকৃত মুনাফার সঙ্গে এর কোন সামাঞ্জস্যতা নেই। এই ৩% কোন মূল্যায়িত কর নয়। অধিকন্তু এই ৩% করকে ন্যূনতম ((সরহরসঁস) কর হিসেবে বিবেচনা করার কারনে উৎস কর (এআইটি/টিডিএস) সমন্বয়ের সুযোগ নাই। কোন প্রকার আয়/মুনাফা ব্যতীত উৎপাদনকারীকে আয়কর প্রদান করতে হচ্ছে।

ফলে উৎপাদনকারীগন ভীষনভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন এবং ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর সেকশন ৫২(১) (ন) বিলুপ্ত করে ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির পণ্য বিক্রয় ব্যয়ের ক্ষেত্রে উৎস কর কর্তন আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে স্টিল সেক্টরের কাঁচামাল/সেমিফিনিসড কাঁচামাল উৎস কর কর্তনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এক্ষেত্রেও ম্যানুফ্যাকচারগন মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন।

চেয়ারম্যান জনাব মানোয়ার হোসেন বলেন – ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে প্রতি টন রড উৎপাদনে যেখানে ভ্যাট ও ট্যাক্্র বাবদ প্রদান করতে হচ্ছে ৩৩৫০ টাকা সেখানে প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী ২০১৯-২০ অর্থ বছরে প্রদান করতে হবে ১৩,৭০০ টাকা। ফলশ্র“তিতে ভ্যাট ও ট্যাক্্র বাবদ প্রতি টন এম.এস. রডের মূল্য বৃদ্ধি পাবে ১০,৩৫০ টাকা।

সভায় ভ্যাট এর ক্ষেত্রে  নিম্নোক্ত প্রস্তাব তুলে ধরা হয়:  

(ক) উৎপাদনকারীগন কর্তৃক প্রতি মেট্রিক টন বিলেট বিক্রয়ে নির্দিষ্ট (ভরীবফ) ভ্যাট বর্তমান ৪৫০ টাকার স্থলে
৭৫০ টাকা নির্ধারণ।

(খ) উৎপাদনকারীগন কর্তৃক প্রতি মেট্রিক টন রড বিক্রয়ে নির্দিষ্ট (ভরীবফ) ভ্যাট বর্তমান ৪৫০ টাকার স্থলে ৭৫০
টাকা নির্ধারণ।
(গ) স্ক্র্যাপ/শীপ স্ক্র্যাপ বিক্রয় প্রতি মেট্রিুক টনে ভ্যাট বর্তমান ৩০০ টাকার স্থলে ৪৫০ টাকা নির্ধারণ।

(ঘ) স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে বিক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রতি মেট্রিক টন রডের ভ্যাট বর্তমান ২০০ টাকার স্থলে ৩০০ টাকা
নির্ধারণ।

(ঙ) আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম কর (অঞ) আরোপের প্রস্তাব প্রত্যাহার করা।  সভায় ট্যাক্স এর ক্ষেত্রে  নিম্নোক্ত প্রস্তাব তুলে ধরা হয়:

(ক) এআইটি/টিডিএস টার্ণওভার ট্যাক্স এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি মেট্রিক টনে ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা।

(খ) কর্তনকৃত আয়কর চূড়ান্ত মূল্যায়নের ভিত্তিতে সমন্বয় করা।

(গ) স্টিল সেক্টরের জন্য ৫২(১) (ন) বহাল রাখা।

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, এম.এস. রড নির্মাণ শিল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ (পড়ৎব) উপাদান। এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৩৬০০ শিল্প প্রতিষ্ঠান/সেবা জড়িত। প্রস্তাবিত ভ্যাট ও ট্যাক্স আরোপ করা হলে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানই ভীষনভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

সভায় বাংলাদেশ শীপ ব্রের্কাস এন্ড রিসাইক্লিয়ার্স এসোসিয়েশনের এক্সিকিউটিভ মেম্বার জনাব মাকসুদুর রহমান বলেন  -শীপ স্ক্র্যাপে ভ্যাট বৃদ্ধি করা হলে রডের মূল্য বৃদ্ধি পাবে। তিনি শীপ ব্রেকিং শিল্পে ভ্যাট বৃদ্ধি না করার জন্য অনুরোধ করেন।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির জেনারেল সেক্রেটারি জনাব মোহাম্মদ হোসেন খোকন সভায় বলেন – যেখানে বর্তমানে স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে একটন রড বিক্রিতে ভ্যাট প্রদেয় ২০০ টাকা সেখানে ৫% ভ্যাট বাস্তবায়ন করা হলে ভ্যাটের পরিমান অনেক বৃদ্ধি পাবে। ফলে রডের মূল্য অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। রডের মূল্য সহনীয় রাখার স্বার্থে স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে ৫% ভ্যাট আরোপ না করার জন্য তিনি অনুরোধ করেন।

সভায় এসোসিয়েশনত্রয়ের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল জনাব মুহাম্মদ শহিদউল্লাহ। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ভাইস চেয়ারম্যান জনাব জহিরুল হক চৌধুরী, প্রাক্তন চেয়ারম্যান জনাব শেখ মাসাদুল আলম মাসুদ, বাংলাদেশ স্টিল মিল ওনার্স এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল জনাব মো: শাহজাহান, বাংলাদেশ রি-রোলিং মিলস্ এসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি জনাব মো: মাহবুবুর রশিদ জুয়েল।

সভায় উপস্থিত ছিলন সর্বজনাব শেখ ফজুলর রহমান বুকল, মো: আবু বকর সিদ্দিক, মো: কামরুল ইসলাম (বন্দর স্টিল ইন্ডা: লি:), কাজী আনোয়ার আহমেদ, মো: হুমাযূন কবির, মো: আশরাফুজ্জামান, কর্নেল (অব:) মো: আশফাকুল ইসলাম প্রমুখ।

#ওয়াসিম এমদাদ, স্টাফ রিপোর্টার।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত