নারীদের জন্য ‘অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান’ যে সকল বিপদ ডেকে আনছে!

বাংলাদেশে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ানের হার বেড়েছে ৫১ শতাংশ। আর এটি গত ২ বছরের মধ্যেই বেড়েছে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে। এই বিষয়টিকে ‘অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান’ বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

সিজারিয়ানে সন্তান জন্মদানে নানা ঝুঁকি রয়েছে উল্লেখ করে সেভ দ্য চিলড্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয় – ২০১৮ সালে যত সিজারিয়ান হয়েছে তার ৭৭ শতাংশই চিকিৎসাগতভাবে অপ্রয়োজনীয় ছিল। তাছাড়া এতে মা ও শিশু উভয়কেই অস্ত্রোপচার ঝুঁকিতে পড়তে হয়। শিশু জন্মে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের ফলে ইনফেকশন ও মাত্রাতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, অঙ্গহানি, জমাট রক্ত ইত্যাদির কারণে মায়েদের সুস্থতা ফিরে পেতে প্রাকৃতিক প্রসবের তুলনায় অনেক দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশি বাবা-মায়েরা সিজারিয়ানের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানে খরচ করেছেন প্রায় চার কোটি টাকার বেশি। জনপ্রতি গড়ে যার পরিমাণ ছিল ৫১ হাজার টাকার বেশি। সিজারিয়ানে সন্তান জন্মদানের হার বাংলাদেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে মারাত্মক হারে বেশি। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে যত শিশু জন্ম নেয় তার ৮০ শতাংশই সিজারিয়ানের মাধ্যমে।

এদিকে সংস্থাটি বলছে – ২০১৮ সালে যত সিজারিয়ান হয়েছে তার ৭৭ শতাংশই চিকিৎসাগতভাবে অপ্রয়োজনীয় ছিল। তারপরও এমন সিজারিয়ান হচ্ছে। প্রতিবেদনের হিসেবে ২০০৪ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রসবকালীন অস্ত্রোপচার ৪ থেকে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

সেভ দ্য চিলড্রেন এমন অপ্রয়োজনীয় প্রসবকালীন অস্ত্রোপচার ঠেকাতে চিকিৎসকদের ওপর নজরদারির পরামর্শ দিয়েছে। এ প্রবণতার জন্য সংস্থাটি আংশিকভাবে বাংলাদেশের চিকিৎসা সেবা খাতের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছে। সংস্থাটি বলছে কিছু অসাধু চিকিৎসক এর জন্য দায়ী, যাদের কাছে সিজারিয়ান একটি লাভজনক ব্যবসা।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে সেভ দ্য চিলড্রেনের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর এবং নবজাতক ও মাতৃস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. ইশতিয়াক মান্নান বলেন – চিকিৎসক এবং চিকিৎসা সুবিধা আসলে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে না গিয়ে অস্ত্রোপচার করতে অনুপ্রাণিত করে। অস্ত্রোপচারের এ জনপ্রিয়তা এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে যে মায়েরা এ অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ছেন।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত