আফগান-ইংলিশ ম্যাচে ভাঙলো ৯টি রেকর্ড!

গুতকাল আফগান-ইংলিশ ম্যাচটি হয়তো ক্রিকেট বিশ্বকাপের ইতিহাসে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। রেকর্ডে ভরপুর হয়ে আছে ম্যাচটি। টস জিতে ব্যাটিং করতে নামা ইংল্যান্ডের ধীরস্থির ব্যাটিং যে এতোটা ভয়ংকর হবে কেউ হয়তো সেটি ভাবেনি। কেউই হয়তো ভাবেনি রাশিদ খান ৩৬ বছর আগের রেকর্ড টপকে যাবেন।

ম্যাচের শুরুতে ৪৪ রানে নিজেদের প্রথম উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। জেসন রয়ের ইঞ্জুরির কল্যাণে সুযোগ পাওয়া জেমস ভিন্স ৩১ বলে ২৬ রান করে আউট হন। এরপর জিনি বেয়ারস্ট্রো এবং জো রুট গড়েন ১২০ রানের জুটি। বেয়ারস্ট্রো ৯৯ বলে ৯০ করে আউট হলে ক্রিজে আসেন ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মরগান। আর রেকর্ড ভাঙ্গার কাজ শুরু হয় সেখান থেকে।

মরগানের দানবীয় ব্যাটিংয়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায় আফগানিস্তানের বোলিং লাইন-আপ। ৩৬ বলে অর্ধশত, ৫৭ বলে শতক এবং ৭১ বলে করেন ১৪৮ রান। এই ক্যামিও ইনিংস খেলার পথে তিনি বাউন্ডাই নেন ৪টি। কিন্তু ছক্কা হাঁকান ১৭টি। তার ১৭টি ছক্কা এখন ওডিআইতে এক ইনিংসে কোন ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ড। মরগান পেছনে ফেলেন রোহিত শর্মা, এবি ডিবিলিয়ার্স এবং ক্রিস গেইলের মত ছক্কাবাজদের।

আফগান বোলারদের মধ্যে মরগানের কাছে সবথেকে বেশী অসহায় ছিলেন স্পিনার রাশিদ খান। কালকের ম্যাচে নতুন করে কয়েকটি রেকর্ডের মালিক হলেন এই আফগান লেগি। ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপে ওভালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের স্নেডেন দিয়েছিলে ১০৫ রান। অপরদিকে ৩৬ বছর আগে করা স্নেডেনের রেকর্ড ভেঙ্গে রাশিদ দিয়েছেন ৯ ওভারে ১২.২২ ইকোনোমিতে ১১০ রান।

বিশ্বকাপে সবথেকে খুরুচে বোলারের রেকর্ডের পাশাপাশি আরেকটি রেকর্ড করেন সাবেক আফগান অধিনায়ক। এক ইনিংসে সবথেকে বেশী ছক্কা দেওয়ার রেকর্ডের মালিক এখন তিনি। ১১০ রানের বোলিং ফিগারে তিনি ছক্কা দিয়েছেন ১১টি। এছাড়া ওডিআই ক্রিকেটে সবথেকে বেশী খুরুচে বোলিংয়ের তালিকার ৪ নম্বরে আছে রাশিদের করা রেকর্ডটি।

মরগানের কীর্তি এখনো শেষ হয়নি। ৫৭ বলে পূরণ করা শতকটি বিশ্বকাপে দ্রুততম সেঞ্চুরির মধ্যে ৪ নম্বরে আছে। মরগানের সেঞ্চুরির সুবাদে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ইনিংসটি পেয়ে যায়। তাছাড়া ইংল্যান্ড এই ম্যাচে ২৫টি হাঁকায়। যেটি কোন দলের এককভাবে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। ইংল্যান্ডের ওলড ট্র্যাফোডেও এটি এখন সর্বোচ্চ স্কোরের রেকর্ড।

তাছাড়া এই ম্যাচে দুই দলের ছক্কার হিসেব করলে বিশ্বকাপে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ছক্কার ম্যাচও এটি। দু দলের ব্যাটসম্যানরা ৩৩টি ওভার বাউন্ডারি করেন এই ম্যাচে। রুট এবং মরগানের গড়া ১৮৯ রানের জুটি বিশ্বকাপে যেকোন উইকেটে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ জুটির নতুন রেকর্ড।

বিশ্বকাপে আর কখনো কোন ম্যাচে এতো রেকর্ড হয়তো ভাঙ্গেনি। যদি এমনটা হয় তাহলে রেকর্ড ভাঙ্গার নতুন রেকর্ডও হবে এটি। ৩৯৮ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৪৭ রান করতে পারে আফগানরা। হাসমতুল্লাহ শাহিদি সর্বোচ্চ ৭৬ রান করেন। এছাড়া রহমত শাহ ৪৬, আসগর আফগান করেন ৪৪ রান। ইংল্যান্ড ম্যাচটি জিতে নেয় ১৫০ রানে।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত