দাগনভূঞায় ১২ বছরের শিশু অন্তঃসত্ত্বা! শিক্ষকের বিরুদ্ধে চার্জশীট

দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের খুশিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের লালসার শিকার হয়ে ৫ম শ্রেণির এক ছাত্রী (১২) অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার মামলায় আদালতে চার্জশীট প্রদান করেছে পুলিশ। চার্জশীটে গ্রেফতারকৃত প্রধান শিক্ষক আবদুল করিমকে (৫৫) অভিযুক্ত করা হয়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, ওই ছাত্রী অসুস্থ হয়ে বিদ্যালয়ে অনিয়মিত হয়ে পড়ে। স্থানীয় গ্রাম ডাক্তারের চিকিৎসায় উন্নতি না হওয়ায় ১ এপ্রিল ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক অন্তঃসত্ত্বার আলামত দেখে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পরামর্শ দেন। তারা পাশ্ববর্তী প্রাইভেট ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আল্ট্রাসনোগ্রামে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা বলে নিশ্চিত হয়।

ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথম পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়ার পরও যেহেতু বিষয়টি স্পর্শকাতর তাই তারা ওই মেয়েটিকে খবর দিয়ে এনে দ্বিতীয়বারও পরীক্ষা করেন। মামলা দায়েরের পর দুই দিন রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল করিম এ ঘটনাটির সাথে জড়িত বলে স্বীকারোক্তি দেয়। তিনি একই এলাকার মৃত হাজী আলতাফ আলীর ছেলে। নির্যাতিতা শিশুটি ৪ বোনের মধ্যে সবার ছোট।

পারিবারিকভাবে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে শিশুটির বাবা মারা যান। বাড়ির একটি পরিবার এতিম এ শিশুটির দেখাশোনা করেন। ৬ এপ্রিল সদর হাসপাতালে আবারো মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষায় করা হয়। ৪ এপ্রিল রাতে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল করিমকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় তাকে আসামী করে মেয়েটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করে।

এর আগে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে ওই স্কুলের ৪র্থ শ্রেণির এক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে ধর্ষণের শিকার হয়। পরে ওই ধর্ষক মুসা আলম মাসুদ র‌্যাবের সাথে ‘কথিত’ বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়।

#মো. সাইফ মিঠু, দাগনভূঞা (ফেনী) প্রতিনিধি।

Agami Soft. - Inventory Management System

পাঠকের মতামত